📌 বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, দেশের সরকারি-বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকসংকটের কারণে শিক্ষার্থীদের শিখন ক্ষমতা হ্রাস পাচ্ছে। প্রাথমিক থেকে উচ্চমাধ্যমিক স্তরে ৩৮ হাজার শিক্ষকের ঘাটতি রয়েছে, যার ফলে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, শিক্ষকদের পেশার মর্যাদা ও বেতন বৃদ্ধি ছাড়া মেধাবী শিক্ষকদের আকৃষ্ট করা সম্ভব নয়
বিশ্ব শিক্ষক দিবসের আজকের অনুষ্ঠানে শিক্ষকসংকটের প্রকটতা তুলে ধরা হয়েছে। দেশের প্রায় সব স্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই শিক্ষকদের ঘাটতি দেখা দিয়েছে, যার ফলে শিক্ষার্থীদের শিখন ক্ষমতা হ্রাস পাচ্ছে। টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার খাজনাগড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মতো অনেক প্রতিষ্ঠানে একাধিক শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে একজনের। শিক্ষকদের পেশার মর্যাদা ও বেতন বৃদ্ধি ছাড়া এই সংকট নিরসন সম্ভব নয় বলে মনে করা হচ্ছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **৩৮ হাজারের বেশি শিক্ষকের ঘাটতি** — প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের ৩৬ হাজার পদ শূন্য, সহকারী শিক্ষকের ২ হাজার ২০০ পদ শূন্য। পদোন্নতির পর সহকারী শিক্ষক পদেও ৩৮ হাজারের বেশি শূন্য পদ সৃষ্টি হবে।
- 📌 **বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক সংকট** — মাধ্যমিক স্তরে বিজ্ঞান, গণিত ও আইসিটি বিষয়ে শিক্ষকদের ঘাটতি বেশি। ৬৯৩টি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৩৮৩টিতে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য।
- 📌 **শিক্ষকদের ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব** — মামলা-জটিলতার কারণে অনেক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই। সহকারী শিক্ষকদের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে, ফলে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে।
- 📌 **বিশ্ব শিক্ষক দিবসের প্রতিপাদ্য** — ‘শিক্ষকদের পাশে দাঁড়ানো: পেশার সুরক্ষা, মর্যাদা উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ নির্মাণে ৬০ বছর’। এ বছর ১০০ জন শিক্ষককে ১ লাখ টাকা করে পুরস্কার দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
- 📌 **শিক্ষামন্ত্রীর কথা** — শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, শিক্ষকসংকট নিরসনে সরকার আলাদা পে-স্কেল গঠনের পদক্ষেপ নিচ্ছে। তবে মেধাবীদের শিক্ষকতা পেশায় আকৃষ্ট করতে বেতন ও সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি প্রয়োজন।
📰 বিস্তারিত
বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার খাজনাগড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষকের পদ পাঁচটি হলেও কর্মরত মাত্র দুজন। এর মধ্যে একজন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন। ফলে একজন শিক্ষককে পাঠদানের দায়িত্ব সামলাতে হচ্ছে। শিক্ষক নাসির উদ্দিন বলেন, ‘আমাকে প্রধান শিক্ষকের দাপ্তরিক কাজের জন্য বিভিন্ন সময় ব্যস্ত থাকতে হয়। ফলে বাকি একজন শিক্ষকের পক্ষে সব শ্রেণির পাঠদান অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এতে শিক্ষার্থীরাও লেখাপড়ায় পিছিয়ে পড়ছে।’
মাধ্যমিক স্তরে শিক্ষকসংকটের পাশাপাশি বিষয়ভিত্তিক শিক্ষকের সংকটও প্রকট। বিশেষ করে বিজ্ঞান, গণিত ও আইসিটি বিষয়ে শিক্ষকদের ঘাটতি বেশি। বরগুনা জিলা স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুল ওহাব জানান, ‘বিদ্যালয়ে আইসিটি শিক্ষক, কৃষি শিক্ষক ও হিন্দু ধর্ম শিক্ষার জন্য আলাদা শিক্ষক নেই। বিজ্ঞান বিভাগেও শিক্ষক নেই। সীমিতসংখ্যক শিক্ষক দিয়ে শিক্ষার্থীদের ভালো ফল করানোর চেষ্টা করছি।’
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মামলা-জটিলতার কারণে দীর্ঘদিন অনেক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই। সহকারী শিক্ষকদের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। বর্তমানে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের প্রায় ৩৬ হাজার পদ শূন্য। সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে ২ হাজার ২০০। পদোন্নতির মাধ্যমে প্রধান শিক্ষকের পদ পূরণ নিয়ে করা মামলাটি সম্প্রতি নিষ্পত্তি হয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর বলছে, মামলার পূর্ণাঙ্গ রায়ের কপি পেলে প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতির কার্যক্রম শুরু হবে। প্রধান শিক্ষকের শূন্য পদে ৩৬ হাজার সহকারী শিক্ষক পদোন্নতি পেলে তাঁদের পদ শূন্য হবে। বর্তমানে সহকারী শিক্ষকের নিয়োগযোগ্য শূন্য পদ রয়েছে ২ হাজার ২০০। ফলে প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতির পর সহকারী শিক্ষক পদে শূন্য পদ দাঁড়াবে ৩৮ হাজারের বেশি।
"আমাকে প্রধান শিক্ষকের দাপ্তরিক অনেক কাজের জন্য বিভিন্ন সময় ব্যস্ত থাকতে হয়। ফলে বাকি একজন শিক্ষকের পক্ষে সব শ্রেণির, সব বিষয়ের পাঠদান অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এতে শিক্ষার্থীরাও লেখাপড়ায় পিছিয়ে পড়ছে।"
"শিক্ষকসংকট নিরসনে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আশা করি, অচিরেই শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: টাঙ্গাইল (ঘাটাইল উপজেলা), ঢাকা, বরগুনা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, সহকারী শিক্ষক নাসির উদ্দিন, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুল ওহাব, শিক্ষাবিদেরা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩৮ হাজার (শূন্য শিক্ষক পদ), ৬৯৩ (সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়), ৩৮৩ (প্রধান শিক্ষক পদ শূন্য), ১০০ (শিক্ষক পুরস্কার), ১ লাখ টাকা (প্রত্যেক শিক্ষককে পুরস্কার), ৬০ বছর (বিশ্ব শিক্ষক দিবসের প্রতিপাদ্য)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!