📌 সাংসদীয় কমিটির বৈঠকে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের ২২টি ব্যাংকের পুঞ্জীভূত লোকসান ২ লাখ ৫৩ হাজার ৯৩৮ কোটি টাকা। তারল্যসংকটে ১২টি ব্যাংককে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ৮৪ হাজার ৯৪৫ কোটি টাকা সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। ব্যাংক খাতের পরিচালন মুনাফা ৭৮৯ কোটি টাকা হলেও নিট ক্ষতি ৮ হাজার ৪১৭ কোটি টাকা। খেলাপি ঋণও বেড়েছে ৩১.৪১ শতাংশে
সাংসদীয় কমিটির বৈঠকে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের ব্যাংক খাতের ২২টি প্রতিষ্ঠানে পুঞ্জীভূত লোকসান ২ লাখ ৫৩ হাজার ৯৩৮ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। তারল্যসংকট মোকাবেলায় বাংলাদেশ ব্যাংক ১২টি ব্যাংককে জরুরি সহায়তা হিসেবে ৮৪ হাজার ৯৪৫ কোটি ৭১ লাখ টাকা প্রদান করেছে। অর্থ মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সাংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এই তথ্য উপস্থাপিত হয়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **২২টি ব্যাংকের পুঞ্জীভূত লোকসান**: ২ লাখ ৫৩ হাজার ৯৩৮ কোটি টাকা
- 📌 **জরুরি সহায়তা পেয়েছে ১২টি ব্যাংক**: মোট ৮৪ হাজার ৯৪৫ কোটি ৭১ লাখ টাকা
- 📌 **ব্যাংক খাতের পরিচালন মুনাফা**: ৭৮৯ কোটি টাকা, কিন্তু নিট ক্ষতি ৮ হাজার ৪১৭ কোটি টাকা
- 📌 **খেলাপি ঋণের হার**: ৩১.৪১ শতাংশ (৩০ জুন পর্যন্ত)
- 📌 **রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংক**: জনতা, অগ্রণী, রূপালী, বেসিক; বেসরকারি ব্যাংক: ১৫টি; বিদেশি ব্যাংক: ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান
- 📌 **তরল সম্পদ বাড়েছে**: ৮.৫ লাখ কোটি টাকা (২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত)
📰 বিস্তারিত
জাতীয় সংসদ ভবনে গত রোববার সাংসদীয় কমিটির বৈঠকে অর্থ মন্ত্রণালয় ব্যাংক খাতের বর্তমান অবস্থা নিয়ে বিস্তারিত তথ্য উপস্থাপন করে। কমিটির সদস্যরা স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার গুরুত্ব তুলে ধরেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্চ ২০২৬ ভিত্তিতে ব্যাংক খাতের পরিচালন মুনাফা ৭৮৯ কোটি টাকা হলেও নিট ক্ষতি ৮ হাজার ৪১৭ কোটি টাকা। ব্যাংক খাতের সম্পদ ও মূলধনের বিপরীতে আয়ও নেতিবাচক অবস্থায় রয়েছে। মার্চ ২০২৬ ভিত্তিতে ব্যাংক খাতের সম্পদের ওপর উপার্জন হার ঋণাত্মক ১.০৩ শতাংশ এবং মূলধনের ওপর উপার্জন হার (ROE) ঋণাত্মক ৪৪.২২ শতাংশ।
লোকসানে থাকা ২২টি ব্যাংকের মধ্যে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন চারটি বাণিজ্যিক ব্যাংক হলো জনতা, অগ্রণী, রূপালী ও বেসিক ব্যাংক। দুটি বিশেষায়িত ব্যাংক হলো বিকেবি ও রাকাব। বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক ১৫টি এবং একটি বিদেশি ব্যাংক ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উচ্চ শ্রেণিকৃত ঋণ, প্রয়োজনীয় প্রভিশনিং, মূলধন ঘাটতি এবং দুর্বল সম্পদমান ব্যাংকগুলোর উপার্জন ক্ষমতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
ব্যাংকগুলোর লোকসানের কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, পরিচালন পর্যায়ে মুনাফা অর্জিত হলেও প্রভিশন, অন্যান্য ব্যয় ও সম্ভাব্য ঋণজনিত ক্ষতি সমন্বয়ের পর অনেক ব্যাংকে নিট ক্ষতি হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংক ‘ল্যান্ডার অব লাস্ট রিসোর্ট’ হিসেবে ১২টি ব্যাংককে জরুরি তারল্য সহায়তা বা ডিমান্ড লোন দিয়েছে। এ পর্যন্ত এর পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮৪ হাজার ৯৪৫ কোটি ৭১ লাখ টাকা।
খেলাপি ঋণ আরও বেড়েছে। চলতি বছরের ৩০ জুন খেলাপি ঋণ দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৮১ হাজার ২৩৭ কোটি ৫৬ লাখ টাকা, যা মোট ঋণের ৩১.৪১ শতাংশ। তিন মাস আগে, অর্থাৎ ৩১ মার্চ খেলাপি ঋণ ছিল ৫ লাখ ৬৪ হাজার ১০৫ কোটি ৬৪ লাখ টাকা। অর্থাৎ তিন মাসে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ১৭ হাজার ১৩১ কোটি ৯২ লাখ টাকা।
"‘ল্যান্ডার অব লাস্ট রিসোর্ট’ হিসেবে ১২টি ব্যাংককে জরুরি তারল্য সহায়তা বা ডিমান্ড লোন দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ পর্যন্ত এর পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮৪ হাজার ৯৪৫ কোটি ৭১ লাখ টাকা।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: জাতীয় সংসদ ভবন, ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সাংসদীয় কমিটির সদস্যরা, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২২টি ব্যাংক, ২ লাখ ৫৩ হাজার ৯৩৮ কোটি টাকা লোকসান, ৮৪ হাজার ৯৪৫ কোটি টাকা সহায়তা, ৩১.৪১ শতাংশ খেলাপি ঋণ
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!