📌 যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালতে সিরিয়ায় আইএস যোদ্ধাকে বিয়ে করে সংগঠনের প্রশিক্ষণ নেওয়ার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন হালিমা সালমান। তার সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। আইনজীবীরা রায় বাতিলের আবেদন করছেন
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জন্মগ্রহণকারী হালিমা সালমানকে সিরিয়ায় ইসলামিক স্টেট (আইএস) সংগঠনের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। মঙ্গলবার একটি আদালতে তার বিরুদ্ধে আইএসের প্রতি আনুগত্যের অঙ্গীকার এবং সংগঠনটির কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়ার অভিযোগে রায় ঘোষণা করা হয়। এই মামলায় তার সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। আগামী ২ ফেব্রুয়ারি তার সাজা ঘোষণার তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 হালিমা সালমানকে যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালতে আইএসের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করা হয়।
- 📌 ১০ বছরের কারাদণ্ড পর্যন্ত হতে পারে তার সাজা।
- 📌 ১৭ বছর বয়সে বাবার সঙ্গে সিরিয়ায় যাওয়ার পর তিনি আইএসের সাথে জড়িত হন।
- 📌 স্বামীর নিয়ন্ত্রণে থাকতে বাধ্য হন এবং তার নির্দেশ মেনে চলতে হয়।
- 📌 আদালতে প্রমাণ হিসেবে তার স্বয়ংক্রিয় রাইফেল হাতে ধারণ করা ভিডিও এবং আইএসের পতাকার সঙ্গে তার ছবি উপস্থাপন করা হয়।
- 📌 আইনজীবীরা রায় বাতিলের আবেদন করছেন, দাবি করে তিনি বাধ্য হয়ে আইএসের সাথে জড়িত হন।
📰 বিস্তারিত
হালিমা সালমানের বিরুদ্ধে আইএসের প্রতি আনুগত্যের অঙ্গীকার এবং সংগঠনটির কর্মকাণ্ডে স্বেচ্ছায় অংশ নেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছিল। বিচার চলাকালে আদালতে একটি ভিডিও দেখানো হয়, যেখানে তাকে স্বয়ংক্রিয় রাইফেল হাতে দেখা যায়। এছাড়াও আইএসের পতাকার সঙ্গে তার একটি ছবি এবং স্বামীর কাছে পাঠানো কয়েকটি স্নেহপূর্ণ বার্তাও প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। মার্কিন অ্যাটর্নি জোসেফ নোসেলা জুনিয়র বলেন, এই রায়ের মাধ্যমে হালিমাকে একটি সন্ত্রাসী সংগঠনের সাথে যুক্ত থাকার জন্য দায়ী করা হয়েছে।
হালিমার আইনজীবীদের দাবি, তিনি কিশোরী বয়সে বাবার সঙ্গে সিরিয়ায় গিয়ে গৃহযুদ্ধের মধ্যে আটকে পড়েন। পরে চরমপন্থী স্বামীর নিয়ন্ত্রণে থাকতে বাধ্য হন। তাদের বক্তব্য, স্বামীর নির্দেশ মেনে চলা ছাড়া তার সামনে তেমন কোনো বিকল্প ছিল না। আদালতে সাক্ষ্য দিতে গিয়ে হালিমা বলেন, ‘আপনি চলে যাওয়ার চেষ্টা করলে আপনার মৃত্যু হবে’। তিনি আরও জানান, ১৮ বছর বয়সে তাকে জোর করে বিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত তিনি মেনে নেননি। বিয়ের পর একাধিকবার বিবাহবিচ্ছেদের চেষ্টাও করেছিলেন।
রায় ঘোষণার পর হালিমা, তার মা ও আইনজীবীরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। আদালতের রেলিংয়ের দুই পাশ থেকে হালিমা ও তার মা একে অপরকে জড়িয়ে ধরেন। বিচারকেরা বৃহস্পতিবার থেকে মামলার রায় নিয়ে আলোচনা শুরু করেন। সোমবার তারা ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে সমস্যা হচ্ছে। তবে শেষ পর্যন্ত তারা হালিমাকে দোষী সাব্যস্ত করেন। রায়ের পর আদালত থেকে বের হওয়ার সময় বিচারকেরা কোনো মন্তব্য করেননি।
“আপনি চলে যাওয়ার চেষ্টা করলে আপনার মৃত্যু হবে”
হালিমার বাবা ২০১৭ সালে পুরো পরিবারকে নিয়ে সিরিয়ায় যান। হালিমা বলেন, তিনি ভেবেছিলেন তারা তুরস্কে আত্মীয়দের সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছেন। কিন্তু তাদের বহনকারী ভ্যানটি সিরিয়ায় ঢুকে পড়লে মুখোশ পরা কয়েকজন বন্দুকধারী তাদের ঘিরে ধরে। তিনি বলেন, ‘যা যা ঘটেছে, তার অনেক কিছুর জন্যই আমি আমার বাবাকে দায়ী করি’। পরিবারের সঙ্গে আবার মিলিত হওয়ার আগে তিনি তিন মাস আইএস পরিচালিত একটি আবাসনকেন্দ্রে ছিলেন। বিমান হামলায় তাদের বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দুবার বাসা বদল করতে হয়।
হালিমার আইনজীবীদের দাবি, সিরিয়ায় নিজের ভূমিকা সম্পর্কে তিনি পুরো সত্য বলেননি। তাদের মতে, সেখানে তার স্বাধীনতা তার বর্ণনার চেয়ে বেশি ছিল। জেরার সময় আইনজীবীরা তাকে স্বীকার করতে বলেন, তিনি একবার ওসামা বিন লাদেনকে নিয়ে একটি ধর্মীয় গান স্বামীকে পাঠিয়েছিলেন। এছাড়াও, তার দাম্পত্য জীবন সম্পর্কে প্রশ্ন তোলা হয়। স্বামীর কাছে পাঠানো দুটি স্নেহপূর্ণ বার্তা আদালতে তুলে ধরা হয়। সহকারী মার্কিন অ্যাটর্নি আমান্ডা শামি বলেন, প্রমাণে দেখা গেছে, হালিমা একটি সহিংস ও নিষ্ঠুর সন্ত্রাসী সংগঠনের কাছ থেকে সামরিক প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: নিউইয়র্ক, যুক্তরাষ্ট্র
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: হালিমা সালমান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১০ বছর (কারাদণ্ড), ২ ফেব্রুয়ারি (সাজা ঘোষণা), ১৭ বছর (বয়স), ১৮ বছর (বিয়ের বয়স)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!