📌 পদ্মা নদীর কুষ্টিয়া-পাবনা সীমান্তে কাকন ও কালু বাহিনীর মধ্যে চার ঘণ্টা ধরে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। ইলিশ রক্ষার অভিযান চলাকালীন ঘটনাটি ঘটে, যেখানে জেলা প্রশাসনের ম্যাজিস্ট্রেটসহ নৌ পুলিশ অংশগ্রহণ করছিলেন। দুর্গম এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জনবল কম থাকায় সংঘর্ষের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসতে বিলম্ব হচ্ছে
পদ্মা নদীর কুষ্টিয়া সদর ও পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলা সীমান্তে গতকাল মঙ্গলবার দুপুর ২টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত চার ঘণ্টা ধরে কাকন ও কালু বাহিনীর মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এই সময়ে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ইলিশ রক্ষার অভিযান চলছিল, যেখানে নৌ পুলিশসহ জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মনিরা আক্তারসহ কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করছিলেন। ঘটনাস্থলে গুলির শব্দ শুনে স্থানীয় বাসিন্দারা আতঙ্কিত হন এবং নদীতে দ্রুত চলাচলকারী স্পিডবোটগুলো লক্ষ্য করেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 পদ্মা নদীর কুষ্টিয়া সদর ও পাবনা ঈশ্বরদী সীমান্তে চার ঘণ্টা ধরে কাকন ও কালু বাহিনীর মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে; হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।
- 📌 ইলিশ রক্ষার অভিযান চলাকালীন ঘটনাটি ঘটে, যেখানে জেলা প্রশাসনের ম্যাজিস্ট্রেটসহ নৌ পুলিশ অংশগ্রহণ করছিলেন।
- 📌 মনিরা আক্তার (কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট) বলেন, নৌকায় উঠতেই গুলির শব্দ শুনতে পান এবং বিষয়টি অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে জানান।
- 📌 পুলিশ সূত্রে জানা যায়, কাকন বাহিনী প্রথমে একটি ট্রলারে করে গোলাগুলি শুরু করেন, পরে আরও দুটি নৌকা যোগ হয়। এলাকাটি দুর্গম এবং লক্ষ্মীকুণ্ডা পুলিশ ফাঁড়িতে মাত্র ১১ জন পুলিশ সদস্য রয়েছে, যার মধ্যে ৪ জন মৎস্য অভিযানে অংশগ্রহণ করছিলেন।
- 📌 রাজশাহী নৌ পুলিশের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন বলেন, এলাকাটি দুর্গম এবং জনবল কম থাকায় বড় পরিসরে অভিযান চালানোর জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অন্য সদস্যদের নিয়ে পরিকল্পনা করা হয়েছে।
📰 বিস্তারিত
পদ্মা নদীর বালুচর দখল ও আধিপত্য বিস্তারের কারণে কুষ্টিয়া সদর উপজেলা ও পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলা সীমান্তে গতকাল মঙ্গলবার দুপুর ২টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত চার ঘণ্টা ধরে কাকন ও কালু বাহিনীর মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। গোলাগুলির সময় জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ইলিশ রক্ষার অভিযান চলছিল। অভিযানে নৌ পুলিশসহ জেলা প্রশাসনের একজন ম্যাজিস্ট্রেটও ছিলেন।
গোলাগুলির একটি ভিডিও আজ বুধবার সকাল থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল দুপুর ২টার দিকে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হাটশ হরিপুর ইউনিয়নের মহানগর ট্যাগ এলাকার বাসিন্দারা নদীর ভেতর থেকে গুলির শব্দ শুনতে পান। কিছুক্ষণ পর গুলির শব্দ বাড়তে থাকলে বাসিন্দারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। এ সময় নদীতে দ্রুত চলাচলকারী স্পিডবোটগুলো লক্ষ্য করা যায়।
বেলা আড়াইটার দিকে সেখানে মা ইলিশ রক্ষায় অভিযান চালাতে যায় সদর উপজেলা প্রশাসনের একটি দল। অভিযানে নেতৃত্ব দেন কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মনিরা আক্তার। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘নৌকায় উঠতেই গুলির একাধিক শব্দ শুনতে পাই। বিষয়টি তাৎক্ষণিক অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে জানানো হয়। এরপর নিরাপত্তাসহ অভিযান পরিচালনা করা হয়।’ তিনি আরও বলেন, একটি স্পিডবোট দেখেছেন এবং পাড়ে থাকা তাঁর গাড়ির চালক তিন থেকে চারটি স্পিডবোট দ্রুত যেতে দেখেছেন। অভিযানে পদ্মা নদীতে মাছ ধরার কোনো নৌকা চোখে পড়েননি।
স্থানীয় নৌকার মাঝি নয়নের ভাষ্য অনুযায়ী, কাকন বাহিনী প্রথমে একটি ট্রলারে করে লোকজন নিয়ে এসে গোলাগুলি শুরু করেন। বিকেল চারটার দিকে তাঁদের বহরে আরও দুটি নৌকা যোগ হয়। এলাকাটি দুর্গম এবং লক্ষ্মীকুণ্ডা পুলিশ ফাঁড়িতে মাত্র ১১ জন সদস্য রয়েছে। তাঁদের মধ্যে ৪ জন মৎস্য অভিযানে ছিলেন। পরিদর্শক শরিফুল ইসলাম বলেন, এলাকাটি দুর্গম এবং জনবল কম থাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অন্য সদস্যদের নিয়ে বড় পরিসরে অভিযান চালানো হবে।
"নৌকায় উঠতেই গুলির একাধিক শব্দ শুনতে পাই। বিষয়টি তাৎক্ষণিক অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে জানানো হয়। এরপর নিরাপত্তাসহ অভিযান পরিচালনা করা হয়।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: পদ্মা নদী (কুষ্টিয়া সদর ও পাবনা ঈশ্বরদী উপজেলা সীমান্ত)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মনিরা আক্তার (কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট), মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন (রাজশাহী নৌ পুলিশের পুলিশ সুপার)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১১ জন পুলিশ সদস্য (লক্ষ্মীকুণ্ডা পুলিশ ফাঁড়িতে), ৪ জন মৎস্য অভিযানে অংশগ্রহণকারী পুলিশ সদস্য
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!