📌 যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান-সমর্থিত হুতি গোষ্ঠীর মধ্যে ওমানের রাজধানী মাসকাটে গোপন বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে হুতিরা মার্কিন জাহাজে হামলা না করার প্রতিশ্রুতি দেন এবং ইসরায়েলি জাহাজেরও ব্যতিক্রম ছাড়া হামলা বন্ধের কথা জানান। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর বৈঠকের বিষয়ে কোনো মন্তব্য না দিলেও, লোহিত সাগরে নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ তাদের মূল লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠীর মধ্যে ওমানের রাজধানী মাসকাটে গোপন বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে হুতিরা মার্কিন জাহাজে হামলা না করার প্রতিশ্রুতি দেন এবং লোহিত সাগরে নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সহযোগিতা করার ইঙ্গিত দেয়। পাঁচটি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, বৈঠকটি ওমানের রাজধানী মাসকাটে মার্কিন দূতাবাসে অনুষ্ঠিত হয়। ওমান সরকার এই বৈঠক আয়োজন করতে সহায়তা করেছে বলে জানা যায়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ওমানের মাসকাটে মার্কিন দূতাবাসে হুতি প্রতিনিধিদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের গোপন বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের বিষয়টি প্রকাশ্যে জানানো হয়নি।
- 📌 হুতিরা মার্কিন জাহাজে হামলা না করার প্রতিশ্রুতি দেন এবং ইসরায়েলি জাহাজের ব্যতিক্রম ছাড়া কোনো বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা করবেন না বলে জানান।
- 📌 বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন হুতি প্রতিনিধিদলের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবদুলসালাম এবং আবদেলমালিক আল-আজিরি। আবদুলসালাম মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছেন।
- 📌 মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর বৈঠকের বিষয়ে কোনো মন্তব্য না দিলেও, লোহিত সাগরে নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং সন্ত্রাসবাদ রোধের কথা উল্লেখ করে।
- 📌 হুতিরা গত সপ্তাহে ইয়েমেনের পুরো লোহিত সাগর উপকূলে কার্যত নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে, যার মধ্যে বাব এল-মান্দেব প্রণালি এবং ঐতিহাসিক বন্দর শহর মোখা অন্তর্ভুক্ত।
- 📌 সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান গত সপ্তাহে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ফোন করে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা চান। তবে ওয়াশিংটন রিয়াদকে সরাসরি জড়িত হওয়ার বিরোধিতা করে।
📰 বিস্তারিত
চলতি সপ্তাহের শুরুতে ওমানের রাজধানী মাসকাটে মার্কিন কর্মকর্তারা ইয়েমেনের হুতি প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন। এই বৈঠক সম্পর্কে পাঁচটি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, বৈঠকটি ওমানের রাজধানী মাসকাটে মার্কিন দূতাবাসে অনুষ্ঠিত হয়। ওমান সরকার এই বৈঠক আয়োজন করতে সহায়তা করেছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র বৈঠকের বিষয়ে কোনো মন্তব্য না দিয়ে বলেন, লোহিত সাগরে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং মধ্যপ্রাচ্য থেকে সন্ত্রাসবাদ ছড়িয়ে পড়া ঠেকানো যুক্তরাষ্ট্রের মূল স্বার্থের মধ্যে রয়েছে।
বৈঠকে হুতি প্রতিনিধিদল মার্কিন কর্মকর্তাদের জানায়, তারা মার্কিন জাহাজে হামলা করার কোনো পরিকল্পনা নেই এবং ২০২৫ সালের যুদ্ধবিরতির প্রতি তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। হুতি প্রতিনিধিদল আরও জানায়, তারা ইসরায়েলি জাহাজ বা কোনো বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা করবে না। তবে সৌদি আরবের মালিকানাধীন জাহাজের ব্যতিক্রম থাকবে। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন হুতি প্রতিনিধিদলের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবদুলসালাম এবং আবদেলমালিক আল-আজিরি। আবদুলসালাম মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছেন।
গত সপ্তাহে হুতিরা ইয়েমেনের পুরো লোহিত সাগর উপকূলে কার্যত নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে। এর মধ্যে ঐতিহাসিক বন্দর শহর মোখা এবং বাব এল-মান্দেব প্রণালির পেরিম দ্বীপ অন্তর্ভুক্ত। বাব এল-মান্দেবের অর্থ ‘অশ্রুর দরজা’ এবং এটি লোহিত সাগরের প্রবেশমুখে অবস্থিত একটি গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ। হুতিরা ২০১৪ সাল থেকে ইয়েমেনের রাজধানী দখল করে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন জোটের বিরুদ্ধে লড়াই করছে। জুলাই মাসে আবার লড়াই শুরু হওয়ার পর লোহিত সাগরে সৌদি জাহাজ চলাচলের ওপর অবরোধ ঘোষণা করে হুতিরা। সৌদি আরব ইয়েমেনের বন্দরগুলোতে অবরোধ আরোপ করার প্রতিক্রিয়ায় তারা এই পদক্ষেপ নেয়।
"লোহিত সাগরে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং মধ্যপ্রাচ্য থেকে সন্ত্রাসবাদ ছড়িয়ে পড়া ঠেকানো যুক্তরাষ্ট্রের মূল স্বার্থের মধ্যে রয়েছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ওমানের রাজধানী মাসকাট (মার্কিন দূতাবাস), লোহিত সাগর উপকূল, ইয়েমেনের বন্দর শহর মোখা, বাব এল-মান্দেব প্রণালি
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ডোনাল্ড ট্রাম্প (যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট), জেডি ভ্যান্স (ভাইস প্রেসিডেন্ট), মোহাম্মদ আবদুলসালাম (হুতি জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা), আবদেলমালিক আল-আজিরি (হুতি জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫ (সূত্রের সংখ্যা), ২০২৫ (যুদ্ধবিরতি বছর)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!