📌 সুদানের উত্তর দারফুরে যুদ্ধকালীন নারী নির্যাতনের পেছনে ২৫ জন কমান্ডারের নাম উন্মোচিত করেছে ব্রিটিশ গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর ইনফরমেশন রিজিলিয়েন্স। র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সের (RSF) মহিলা কমান্ডার ‘শিরাজ খালিদ’ একটি ভিডিওতে নারী নির্যাতনের প্ররোচনা দিয়েছিলেন। গবেষণায় দেখা গেছে, নির্যাতন ঘটেছে এল-ফাশের, গার্নি, জামজাম শরণার্থী শিবিরসহ বিভিন্ন স্থানে
সুদানের উত্তর দারফুরে তিন বছরের যুদ্ধকালীন নারী ও কিশোরীদের বিরুদ্ধে সংঘটিত যৌন নির্যাতনের পেছনে ২৫ জন কমান্ডারের নাম উন্মোচিত করেছে ব্রিটিশ গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর ইনফরমেশন রিজিলিয়েন্স (CIR)। গবেষণা সংস্থাটি একটি বিস্তৃত তদন্তের মাধ্যমে র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্স (RSF) এবং সুদানের সশস্ত্র বাহিনীর কমান্ডারদের সাথে নির্যাতনের ঘটনাস্থলগুলোর সংযোগ স্থাপন করেছে। তদন্তে দেখা গেছে, নির্যাতন ঘটেছে এল-ফাশের, গার্নি, জামজাম শরণার্থী শিবিরসহ পাঁচটি স্থানে এবং বিভিন্ন সময়ে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **২৫ জন কমান্ডার** নির্যাতনের ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন, কিন্তু তাদের ব্যক্তিগতভাবে নির্যাতন করার প্রমাণ নেই — তবে তাদের কর্তৃত্বাধীন এলাকায় নির্যাতন ঘটেছে বলে তদন্তে পাওয়া গেছে।
- 📌 **র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সের মহিলা কমান্ডার ‘শিরাজ খালিদ’** (বাস্তব নাম খাদেমাল্লাহ খাশমিন হেরিকা) একটি টিকটক ভিডিওতে নারী নির্যাতনের প্ররোচনা দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ‘উত্তর দারফুরের নারীদের লক্ষ্য করো, তাদের বংশধরকে পরিশোধ করো এবং তোমাদের মতো বীর সন্তানদের জন্ম দাও’।
- 📌 **এল-ফাশের শহরে** র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সের দখলকালীন সময়ে **সৌদি হাসপাতাল** এবং **এল-ফাশের বিশ্ববিদ্যালয়ে** গণ-নির্যাতন ঘটে। নারী ও কিশোরীদের পালানোর পথেও আক্রমণ করা হয়।
- 📌 **গার্নি এলাকায়** একটি শরণার্থী শিবিরে নির্যাতনের শিকার একটি শিকারী বলেছেন, তিনি এবং অন্যান্য কিশোরীরা সৈন্যদের কোয়ার্টারে দুই রাত ধরে ধর্ষিত হন। তার পরিবারকে রান্সমের জন্য বন্দী রাখা হয়, যার ফলে তিনি বিশেষ চিকিৎসা পাননি।
- 📌 **র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সের সর্বোচ্চ কমান্ডার ‘আব্দুল রাহিম হামদান দাগালো’** (হেমেদ্তির ভাই) এল-ফাশের দখলকালীন সময়ে **সৌদি হাসপাতালে** উপস্থিত ছিলেন। ড্রোন ফুটেজে তার আওয়াজে শোনা যায়, সৈন্যদের নির্দেশ দেওয়া হয় পালিয়ে যাওয়া গাড়িগুলোকে অনুসরণ করতে।
- 📌 **দুইপক্ষীয় কমান্ডার ‘কায়কাল’** (অবু আক্লা মোহাম্মদ আহমেদ আলওয়াকিল) র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সের পক্ষে **ওয়াদ মাদানি**তে কমান্ডার ছিলেন, কিন্তু পরে সুদানের সশস্ত্র বাহিনীর পক্ষে কাজ শুরু করেন।
📰 বিস্তারিত
সুদানের উত্তর দারফুরে ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্স (RSF) এল-ফাশের দখল করার সময় একটি টিকটক ভিডিও প্রকাশিত হয়। ভিডিওতে RSF-এর মহিলা কমান্ডার **‘শিরাজ খালিদ’** (বাস্তব নাম **খাদেমাল্লাহ খাশমিন হেরিকা**) সৈন্যদেরকে উত্তেজিত করে বলেন, ‘উত্তর দারফুরের নারীদের লক্ষ্য করো, তাদের বংশধরকে পরিশোধ করো এবং তোমাদের মতো বীর সন্তানদের জন্ম দাও’। এই উক্তিটি **সেন্টার ফর ইনফরমেশন রিজিলিয়েন্স (CIR)** সংস্থা নির্যাতনের প্ররোচনা হিসেবে বর্ণনা করেছে।
তদন্তে দেখা গেছে, **২৫ জন কমান্ডার** নির্যাতনের ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে রয়েছে RSF-এর **আব্দুল রাহিম হামদান দাগালো** (হেমেদ্তির ভাই), যিনি এল-ফাশের দখলকালীন সময়ে **সৌদি হাসপাতালে** উপস্থিত ছিলেন। ড্রোন ফুটেজে তার আওয়াজে শোনা যায়, সৈন্যদের নির্দেশ দেওয়া হয় পালিয়ে যাওয়া গাড়িগুলোকে অনুসরণ করতে। গবেষকরা তার আওয়াজকে তার পূর্বের রেকর্ডেড ভিডিওর সাথে তুলনা করে সত্যতা যাচাই করেছেন।
তদন্তে আরো দেখা গেছে, **গার্নি এলাকায়** একটি শরণার্থী শিবিরে নির্যাতনের শিকার একটি শিকারী বলেছেন, তিনি এবং অন্যান্য কিশোরীরা সৈন্যদের কোয়ার্টারে দুই রাত ধরে ধর্ষিত হন। তার পরিবারকে রান্সমের জন্য বন্দী রাখা হয়, যার ফলে তিনি বিশেষ চিকিৎসা পাননি। ইউনাইটেড নেশনসের তদন্ত দল এল-ফাশের দখলকালীন সময়ে **সৌদি হাসপাতাল এবং এল-ফাশের বিশ্ববিদ্যালয়ে** গণ-নির্যাতনের ঘটনা নথিভুক্ত করেছে।
তদন্তে আরো দেখা গেছে, **দুইপক্ষীয় কমান্ডার ‘কায়কাল’** (অবু আক্লা মোহাম্মদ আহমেদ আলওয়াকিল) র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সের পক্ষে **ওয়াদ মাদানি**তে কমান্ডার ছিলেন, কিন্তু পরে সুদানের সশস্ত্র বাহিনীর পক্ষে কাজ শুরু করেন। গবেষকরা তার উপস্থিতি **ডিসেম্বর ২০২৩** সালে ওয়াদ মাদানিতে একটি সেনা ক্যাম্পে যাচাই করেছেন।
"উত্তর দারফুরের নারীদের লক্ষ্য করো, তাদের বংশধরকে পরিশোধ করো এবং তোমাদের মতো বীর সন্তানদের জন্ম দাও"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: সুদান (উত্তর দারফুর, এল-ফাশের, গার্নি, জামজাম শরণার্থী শিবির, ওয়াদ মাদানি)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: শিরাজ খালিদ (খাদেমাল্লাহ খাশমিন হেরিকা), আব্দুল রাহিম হামদান দাগালো, কায়কাল (অবু আক্লা মোহাম্মদ আহমেদ আলওয়াকিল)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৫ জন কমান্ডার, ৩ বছর যুদ্ধকালীন নির্যাতন, ২ রাত ধর্ষণ
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!