📌 ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের উত্তেজনা কমলেও তেলের দাম ৬০% বেড়ে গেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুদ্ধের অবসান নেই এবং পরিবহনের খরচ বেড়ে যাওয়ায় দাম আরো বাড়তে পারে
ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের উত্তেজনা কিছুটা কমলেও বিশ্বের তেলের দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের কারণে তেলের সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটলেও, গত কয়েক সপ্তাহে তেলের প্রবাহ কিছুটা সুস্থ হয়ে উঠলেও দামের হঠাত্ বেড়ে যাওয়া বিশেষজ্ঞদের কাছে একটি বড় প্রশ্ন উঠিয়ে দিয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 গলফের তেলের দৈনিক সরবরাহ গত ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত সপ্তাহে ২৪.৬ মিলিয়ন ব্যারেল, যা যুদ্ধের আগের গড়ের চেয়ে বেশি
- 📌 ব্রেন্ট ক্রুডের দাম এপ্রিলের পর সর্বোচ্চে পৌঁছেছে, যা যুদ্ধের আগের তুলনায় ৬০% বেশি
- 📌 ডিসেম্বর মাসের জন্য ব্রেন্ট ক্রুডের ভবিষ্যদ্বাণীমূলক চুক্তি ২% বেড়ে ১১৭ ডলার ব্যারেলের উপরে চলে গেছে
- 📌 হরমুজ প্রণালীর মাধ্যমে তেল পরিবহনের জন্য শিপিং লাইনগুলো ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের কাছে জাহাজ থেকে জাহাজে তেল স্থানান্তর করছে
- 📌 আগস্টে হরমুজ প্রণালী দিয়ে ৭০% তেল স্থানান্তর করা হয়েছিল জাহাজ থেকে জাহাজে
- 📌 তেল পরিবহনের খরচ এখন ৪০ ডলার ব্যারেল, যা সাধারণত ৪ ডলার ব্যারেলের তুলনায় দশগুণ বেশি
- 📌 অক্টোবর মাসে বাণিজ্যিক জাহাজে আক্রমণের ঘটনা সর্বোচ্চ, যা ৩২টি
- 📌 বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তেল সরবরাহের পরিস্থিতি আরো অস্থির হতে পারে
📰 বিস্তারিত
গলফ অঞ্চলের তেলের সরবরাহ গত কয়েক সপ্তাহে কিছুটা সুস্থ হয়ে উঠলেও, তেলের দামের উচ্চতা বিশেষজ্ঞদের কাছে একটি বড় প্রশ্ন উঠিয়ে দিয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের কারণে তেলের সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটলেও, গত ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত সপ্তাহে গলফ থেকে তেলের দৈনিক গড় সরবরাহ ২৪.৬ মিলিয়ন ব্যারেলে পৌঁছেছে, যা যুদ্ধের আগের গড়ের চেয়ে বেশি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, তেলের দাম বেড়ে যাওয়ার পিছনে প্রধান কারণ হলো যুদ্ধের অবসান নেই এবং সম্ভাব্য নতুন উত্তেজনার আশঙ্কা। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের শক্তি ব্যবস্থা বিষয়ক অধ্যাপক আদি ইমসিরোভিচ বলেছেন, “বাজার যা করছে তা সঠিক। এটি আমাদের জানাচ্ছে যে তেলের সরবরাহ যথেষ্ট আছে, কিন্তু এই যুদ্ধের কোনো শেষ নেই – বরং এটি আরো বাড়তে পারে।” তিনি আরও বলেছেন, “তাই ভবিষ্যদ্বাণীমূলক বাজার এই আশঙ্কা প্রতিফলিত করছে।”
তেলের সরবরাহের জন্য গলফের দেশগুলো বিভিন্ন পথে তেলের সরবরাহ বাড়িয়ে তুলেছে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল পরিবহনের জন্য জাহাজগুলো ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের কাছে জাহাজ থেকে জাহাজে তেল স্থানান্তর করছে। আগস্ট মাসে এই প্রণালী দিয়ে ৭০% তেল স্থানান্তর করা হয়েছিল। এছাড়া, সৌদি আরবের পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইন এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের হাবশান-ফুজাইরাহ পাইপলাইন দিয়ে তেল সরবরাহ বাড়ানো হয়েছে।
তেলের পরিবহনের খরচও বেড়ে গেছে। লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জ গ্রুপের তথ্য অনুযায়ী, তেল পরিবহনের খরচ এখন ৪০ ডলার ব্যারেল, যা সাধারণত ৪ ডলার ব্যারেলের তুলনায় দশগুণ বেশি। অক্টোবর মাসে বাণিজ্যিক জাহাজে আক্রমণের ঘটনা সর্বোচ্চ, যা ৩২টি। বিশেষজ্ঞদের মতে, তেলের সরবরাহের পরিস্থিতি আরো অস্থির হতে পারে।
"তেলের ব্যারেল চলছে, কিন্তু সmoothly বা নির্ভরযোগ্যভাবে নয়। এটি আরো সুস্থ হওয়ার কোনো লক্ষণ নয়।"
কমিলাস পন্টিফিক্যাল ইউনিভার্সিটির তেল বাজার বিশেষজ্ঞ ইসাবেল ফিগেরোলা-ফেরেটি বলেছেন, “তেলের ব্যারেল পরিবহনের খরচ অনেক বেশি বেড়েছে। যদিও কিছু সময়ের জন্য সরবরাহ যুদ্ধের আগের স্তরে ফিরে আসে, তবে দীর্ঘমেয়াদী সরবরাহের প্রবণতা স্পষ্ট নয়।”
রেমন্ড জেমস অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েটসের বিনিয়োগ বিশেষজ্ঞ পাভেল মলচানভও সন্দেহ প্রকাশ করেছেন যে সরবরাহ যুদ্ধের আগের স্তরে ফিরে আসবে না। আন্তর্জাতিক শক্তি সংস্থার (আইইএ) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর মাসে ওপেকের গলফ দেশগুলো থেকে তেলের উৎপাদন ছিল ১৫.৮ মিলিয়ন ব্যারেল দৈনিক, যা যুদ্ধের আগের তুলনায় ৭৫% বেশি।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: গলফ অঞ্চল, হরমুজ প্রণালী, ওমান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আদি ইমসিরোভিচ (অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়), ইসাবেল ফিগেরোলা-ফেরেটি (কমিলাস পন্টিফিক্যাল ইউনিভার্সিটি), পাভেল মলচানভ (রেমন্ড জেমস অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েটস)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৪.৬ মিলিয়ন ব্যারেল (দৈনিক তেল সরবরাহ), ৬০% (দামের বৃদ্ধি), ১১৭ ডলার (ব্রেন্ট ক্রুডের দাম), ৭০% (জাহাজ থেকে জাহাজে তেল স্থানান্তর), ৪০ ডলার (তেল পরিবহনের খরচ), ৩২টি (বাণিজ্যিক জাহাজে আক্রমণ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!