📌 রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে ইউক্রেনের ৭৪টি স্কুল মাটির নিচে তৈরি হয়েছে। জাপোরিঝঝিয়া শহরের সিচোভি কলেজিয়ামের মতো স্কুলে শিক্ষার্থীরা নিরাপদে পড়াশোনা করছে। আকাশপথে হামলার সতর্কসংকেত বেজে উঠলে শিক্ষার্থীরা দ্রুত মাটির নিচে আশ্রয় নেয়
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরে মাটির নিচে নিরাপদে পড়াশোনা চলছে। এ পর্যন্ত ৭৪টি স্কুল মাটির নিচে তৈরি করা হয়েছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা আকাশপথে হামলার ঝুঁকি থেকে নিজেদের নিরাপদ রাখছে। জাপোরিঝঝিয়া শহরের সিচোভি কলেজিয়ামের মতো স্কুলগুলোতে শিক্ষার্থীরা মাটির কয়েক মিটার নিচে শ্রেণিকক্ষে বসেই পড়াশোনা করছে। বাইরে যাওয়ার সুযোগ মেলে শুধুমাত্র যখন আকাশপথে হামলার সতর্কসংকেত বন্ধ থাকে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ইউক্রেনে মাটির নিচে ৭৪টি স্কুলে চলছে শিক্ষা কার্যক্রম, যেখানে ১৪ বছরের যুদ্ধের কারণে শিক্ষার্থীদের নিরাপদে পড়াশোনা করা সম্ভব হয়েছে।
- 📌 জাপোরিঝঝিয়া শহরের সিচোভি কলেজিয়ামের মতো স্কুলগুলোতে শিক্ষার্থীরা মাটির নিচের কংক্রিটের শ্রেণিকক্ষে পড়াশোনা করছে।
- 📌 আকাশপথে হামলার সতর্কসংকেত বেজে উঠলে শিক্ষার্থীদের সবাইকে দ্রুত মাটির নিচে আশ্রয় নিতে হয়, যা স্বাভাবিক ক্লাস নেওয়ার কাজকে বাধাগ্রস্ত করে।
- 📌 ইউক্রেনের প্রায় ৩৬ লাখ স্কুলপড়ুয়া শিশুর মধ্যে মাটির নিচের স্কুলে পড়াশোনা করছে মাত্র কিছু শিক্ষার্থী।
- 📌 জাপোরিঝঝিয়ায় ইউরোপীয় অর্থায়নে ১০টি মাটির নিচের স্কুল তৈরি করা হয়েছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা নিরাপদে পড়াশোনা করছে।
- 📌 মাটির নিচের স্কুলগুলোতে আধুনিক বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা এবং ডিজেলচালিত বিকল্প বিদ্যুৎব্যবস্থা রয়েছে, যা তেজস্ক্রিয় পদার্থের প্রভাব থেকে বাতাস পরিশোধন করতে পারে।
📰 বিস্তারিত
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে ইউক্রেনের শিক্ষা ব্যবস্থায় বিপর্যয় সৃষ্টি হয়েছে। এখন শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদে পড়াশোনা করার একমাত্র উপায় হলো মাটির নিচে স্কুলে যাওয়া। জাপোরিঝঝিয়া শহরের সিচোভি কলেজিয়ামের মতো স্কুলগুলোতে শিক্ষার্থীরা মাটির নিচের কংক্রিটের শ্রেণিকক্ষে বসেই পড়াশোনা করছে। বাইরে যাওয়ার সুযোগ মেলে শুধুমাত্র যখন আকাশপথে হামলার সতর্কসংকেত বন্ধ থাকে। শিক্ষার্থীরা মাটির নিচের শ্রেণিকক্ষে বসে পড়াশোনা করছেন, যেখানে বাতাস চলাচলের পাইপ এবং শক্ত কংক্রিটের দেয়ালের পাশে বেঞ্চ রয়েছে।
জাপোরিঝঝিয়া শহরটি যুদ্ধে আক্রান্ত জায়গাগুলোর সামনের দিকে অবস্থিত। রাশিয়ার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঝুঁকি এখানে সব সময়ই বেশি। শহরের বাসিন্দা ওলেক্সান্দর লাগিনের দুই ছেলে মাটির নিচের স্কুলে পড়াশোনা করছেন। তিনি বলেছেন, এখন নিরাপদে পড়াশোনা করতে হলে মাটির নিচে যেতেই হবে। সন্তানদের স্কুলে পাঠানোর পর তিনি অনেকটা নিশ্চিন্ত থাকতে পারেন। শিশুদের জন্য এই ব্যবস্থা অনেকটা ভাগ্যবান বলে মনে করছেন তারা। কারণ, ইউক্রেনের প্রায় ৩৬ লাখ স্কুলপড়ুয়া শিশুর বেশির ভাগই অনলাইনে অথবা মাটির ওপরে থাকা স্কুলে পড়াশোনা করছে।
১৩ বছর বয়সী দামির সিচোভি কলেজিয়ামে পড়াশোনা করছেন। তিনি বলেছেন, স্কুলে পড়তে তার ভালো লাগে এবং শিক্ষকরা খুব ভালো। তিনি মাটির নিচের শ্রেণিকক্ষে বসে পড়াশোনা করছেন এবং নিরাপদ বোধ করছেন। তার মা ইউলিয়া বারাবাশ বলেছেন, যুদ্ধের মধ্যে মাটির নিচের স্কুলই ছেলের জন্য অনেক নিরাপদ। তিনি বলেন, সকালে ছেলেকে স্কুলে দিয়ে যাওয়ার পর সারা দিন তিনি অনেকটা নিশ্চিন্ত থাকতে পারেন।
"আমি মনে করি, যুদ্ধের মধ্যে মাটির নিচের স্কুলই আমার ছেলের জন্য নিরাপদ। এখানে তিনি নিরাপদে পড়াশোনা করতে পারেন এবং আমি অনেকটা নিশ্চিন্ত থাকতে পারি।" — ওলেক্সান্দর লাগিন, জাপোরিঝঝিয়া বাসিন্দা
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: জাপোরিঝঝিয়া, ইউক্রেন
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ওলেক্সান্দর লাগিন, দামির, ইউলিয়া বারাবাশ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৭৪টি মাটির নিচের স্কুল, ৩৬ লাখ স্কুলপড়ুয়া শিশু, ১০টি ইউরোপীয় অর্থায়িত স্কুল, ১৫৮ মিনিট সতর্কসংকেত
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!