📌 জাতিসংঘের নারীবিষয়ক সংস্থা (ইউএন উইমেন) প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, সশস্ত্র সংঘাতে প্রতিদিন গড়ে ২৫ জন নারী ও কন্যাশিশু প্রাণ হারাচ্ছেন। ২০২৫ সালে ৩৭ হাজার বেসামরিক নাগরিকের মধ্যে এক-চতুর্থাংশ নারী-কন্যা ছিলেন। যুদ্ধের কারণে ৭৫ কোটি নারী-কন্যা ৫০ কিলোমিটার দূরত্বের মধ্যে বসবাস করছেন, যা ২০২৪ সালের তুলনায় ৪ কোটি বেশি
বিশ্বজুড়ে চলমান সশস্ত্র সংঘাতের কারণে প্রতিদিন গড়ে ২৫ জন নারী ও কন্যাশিশু প্রাণ হারাচ্ছেন। জাতিসংঘের নারীবিষয়ক সংস্থা (ইউএন উইমেন) প্রকাশিত ২০২৬ সালের নারী, শান্তি ও নিরাপত্তাবিষয়ক প্রতিবেদনে এই ভয়াবহ তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছর সশস্ত্র সংঘাতে ৩৭ হাজার বেসামরিক নাগরিকের মধ্যে প্রতি চারজনে একজন নারী বা কন্যাশিশু ছিলেন। এতে দেখা যায়, ২০২১ সালের তুলনায় এই সংখ্যা দ্বিগুণ বেড়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **প্রতিদিন ২৫ নারী-কন্যা নিহত**: সশস্ত্র সংঘাতে প্রতিদিন গড়ে ২৫ জন নারী ও কন্যাশিশু প্রাণ হারাচ্ছেন।
- 📌 **৭৫ কোটি নারী সংকটে**: বিশ্বজুড়ে ৭৫ কোটি নারী ও কন্যাশিশু কোনো না কোনো সক্রিয় সংঘাতের ৫০ কিলোমিটার দূরত্বের মধ্যে বসবাস করছেন।
- 📌 **যৌন সহিংসতা ৪ গুণ বেড়েছে**: ২০২২ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে সংঘাত-সংশ্লিষ্ট যৌন সহিংসতার ঘটনা প্রায় চার গুণ বেড়েছে।
- 📌 **চরম দারিদ্র্যে পতিত ১৭ কোটি নারী**: যুদ্ধপীড়িত এলাকায় ১৭ কোটি নারী দৈনিক ৩ ডলারের কম আয়ে জীবনযাপন করছেন।
- 📌 **শান্তি আলোচনায় নারী অংশগ্রহণ ৫%**: ২০২৫ সালে ৫৭টি শান্তি প্রক্রিয়ায় মাত্র ৫ শতাংশ আলোচক ছিলেন নারী।
- 📌 **বৈশ্বিক সামরিক ব্যয় ২.৯ ট্রিলিয়ন ডলার**: ২০২৫ সালে সামরিক ব্যয় রেকর্ড ২.৯ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, কিন্তু ৪০ শতাংশ নারী সংগঠন তহবিল সংকটে আটকে পড়েছে।
📰 বিস্তারিত
জাতিসংঘের প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়েছে, যুদ্ধের কারণে নারীদের জীবন আরও বিপন্ন হয়ে পড়েছে। বোমা-বর্ষণ, ড্রোন হামলা এবং দূরপাল্লার অস্ত্রের ব্যবহার বাড়ায় স্কুল, হাসপাতাল ও বাজারের মতো বেসামরিক স্থাপনাগুলোতে নিরাপত্তা বিপন্ন। এছাড়াও, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)-ভিত্তিক সামরিক প্রযুক্তির ব্যবহার সহিংসতার ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।
সংঘাতের কারণে নারীদের দৈনন্দিন জীবনও বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধপীড়িত এলাকায় নারীরা পুরুষদের তুলনায় পাঁচ গুণ বেশি সময় অবৈতনিক গৃহস্থালি ও সেবামূলক কাজে ব্যয় করছেন। এছাড়াও, ১৭ কোটি নারী দৈনিক ৩ ডলারের কম আয়ে জীবনযাপন করছেন, যা তাদের চরম দারিদ্র্যের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
জাতিসংঘের প্রতিবেদনে নারীদের শান্তি প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের উপর জোর দেওয়া হয়েছে। ২০২৫ সালে শান্তি আলোচনায় মাত্র ৫ শতাংশ আলোচক ছিলেন নারী, যা আগের বছরের তুলনায় কম। এছাড়াও, বৈশ্বিক সামরিক ব্যয় ২.৯ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছলেও, সংকটপীড়িত এলাকার ৪০ শতাংশ নারী সংগঠন তহবিল সংকটে আটকে পড়েছে।
"সংঘাতের কারণে নারীদের জীবন বিপন্ন হয়ে পড়েছে। তাদের শান্তি প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ বৃদ্ধি এবং নারী-নেতৃত্বাধীন উদ্যোগে টেকসই বিনিয়োগের প্রয়োজন"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বিশ্বজুড়ে সশস্ত্র সংঘাতের এলাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: জাতিসংঘের নারীবিষয়ক সংস্থা (ইউএন উইমেন)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৫ জন (প্রতিদিন নিহত নারী-কন্যা), ৭৫ কোটি (সংঘাত এলাকায় বসবাসকারী নারী), ৫৭টি (শান্তি প্রক্রিয়া), ৫% (নারী আলোচক)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!