📌 উগান্ডা স্বাধীন ফিলিস্তিনের পক্ষে অবস্থান ধরে রাখলেও নেতানিয়াহুর ভাই ইয়োনাতান নেতানিয়াহুর ভাস্কর্য স্থাপন করেছে। এন্টেবে বিমানবন্দর জিম্মি উদ্ধার অভিযানের ৫০ বছর পূর্তিতে স্থাপিত এই ভাস্কর্য দেশটিতে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে
উগান্ডা স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের প্রতি সমর্থন অব্যাহত রাখলেও নেতানিয়াহুর ভাই ইয়োনাতান নেতানিয়াহুর একটি ব্রোঞ্জ ভাস্কর্য স্থাপন করে আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এন্টেবে বিমানবন্দর জিম্মি উদ্ধার অভিযানের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে রাজধানী কামপালা থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরে ‘ওল্ড এন্টেবে টার্মিনাল’-এ ভাস্কর্যটির উন্মোচন করা হয়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ১৯৭৬ সালের এন্টেবে বিমানবন্দর জিম্মি উদ্ধার অভিযানে নিহত ইসরায়েলি সেনা কমান্ডার ইয়োনাতান নেতানিয়াহুর ভাস্কর্য উন্মোচন করেছে উগান্ডা সামরিক বাহিনী
- 📌 ভাস্কর্যটির উন্মোচন করেন উগান্ডার প্রেসিডেন্ট ইয়োওয়েরি মুসেভেনির জ্যেষ্ঠ পুত্র ও সেনাপ্রধান জেনারেল মুহুজি কাইনেরুগাবা
- 📌 ভাস্কর্য স্থাপনের পরপরই উগান্ডার পার্লামেন্ট গাজায় আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা রক্ষা বাহিনীতে সেনা মোতায়েনের অনুমোদন দেয়
- 📌 ভাস্কর্য স্থাপনকে উগান্ডার সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করেছেন সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসুমান কিয়িঙ্গি
- 📌 ১৯৭৬ সালের ২৭ জুন এয়ার ফ্রান্সের বিমান হাইজ্যাক করে এন্টেবে বিমানবন্দরে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল
📰 বিস্তারিত
উগান্ডার রাজধানী কামপালা থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ‘ওল্ড এন্টেবে টার্মিনাল’-এ স্থাপিত হয়েছে ইয়োনাতান নেতানিয়াহুর ভাস্কর্য। এন্টেবে বিমানবন্দর জিম্মি উদ্ধার অভিযানের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ভাস্কর্যটির উন্মোচন করেন উগান্ডার সেনাপ্রধান জেনারেল মুহুজি কাইনেরুগাবা। তিনি তাঁর বক্তব্যে ইয়োনাতান নেতানিয়াহুর সাহসিকতা ও জীবন উৎসর্গের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
তবে ভাস্কর্য স্থাপনের এই পদক্ষেপটি উগান্ডা ও আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি করেছে। সাবেক আঞ্চলিক বিষয়ক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসুমান কিয়িঙ্গি দ্য অবজারভারে প্রকাশিত এক নিবন্ধে ভাস্কর্যটিকে ‘উদ্বেগজনক’ বলে অভিহিত করেন। তিনি যুক্তি দেন যে, উগান্ডার সম্মতি ছাড়াই অনধিকার প্রবেশ করা বিদেশি সামরিক কমান্ডারকে সম্মান জানানো হচ্ছে, অথচ এন্টেবে অভিযানে প্রাণ হারানো উগান্ডান সেনাদের কোনো জাতীয় স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি।
১৯৭৬ সালের ২৭ জুন জার্মানির একটি সশস্ত্র গোষ্ঠী এবং ‘পপুলার ফ্রন্ট ফর দ্য লিবারেশন অব ফিলিস্তিন’ (পিএফএলপি)-এর সদস্যরা তেল আবিব থেকে প্যারিসগামী এয়ার ফ্রান্সের একটি বিমান হাইজ্যাক করে এন্টেবে বিমানবন্দরে নিয়ে আসে। বিমানে ২৪৮ জন আরোহীর মধ্যে ১০৫ জন ছিলেন ইসরায়েলি নাগরিক। পরবর্তীতে ৩ জুলাই ইসরায়েলি স্পেশাল ফোর্সের সদস্যরা উগান্ডা সরকারের অনুমতি ছাড়াই বিমানবন্দরে হামলা চালিয়ে ১০২ জন জিম্মিকে উদ্ধার করেন। এই অভিযানে ৪৫ জন উগান্ডান সেনা ও সব হাইজ্যাকার নিহত হন।
"আমাদের রাষ্ট্র এমন একজন বিদেশি সামরিক কমান্ডারকে সম্মান জানাতে প্রস্তুত, যিনি উগান্ডার সম্মতি ছাড়াই অনধিকার প্রবেশ করেছিলেন। অথচ এন্টেবে বিমানবন্দর রক্ষা করতে গিয়ে যেসব উগান্ডান সেনা প্রাণ হারিয়েছিলেন, তাঁদের কোনো জাতীয় স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: কামপালা, উগান্ডা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ইয়োনাতান নেতানিয়াহু, জেনারেল মুহুজি কাইনেরুগাবা, আসুমান কিয়িঙ্গি
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫০ বছর, ৪০ কিলোমিটার, ২৭ জুন, ২৪৮ জন, ১০৫ জন, ৩ জুলাই, ১০২ জন, ৪৫ জন
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!