📌 যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত ডোনাল্ড ট্রাম্প ২৮ দিনের প্রচারাভিযানে ব্যস্ত। তার সমর্থকদের ধরন বদলে যাচ্ছে, আর প্রতিবাদকারীদের মুখোমুখি হবার সময়েও তিনি রসিকতা দিয়ে সমস্যা সামলাচ্ছেন
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের জন্য রিপাবলিকান পার্টির পক্ষে শেষ মুহূর্তের প্রচারে ব্যস্ত ডোনাল্ড ট্রাম্প। ২৮ দিনের প্রচারযুদ্ধে তিনি একের পর এক সমাবেশে অংশ নিচ্ছেন, যেখানে তার সমর্থকদের ধরন আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তিত হয়েছে। সিএনএনের সাংবাদিকদের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, এবারের প্রচারে ট্রাম্পের সমর্থকরা অধিকাংশই তার ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ বা ‘মাগা’ আন্দোলনের অনুগত অনুসারীরা। তবে কিছু অঙ্গরাজ্যে, যেমন কানসাস, ভোটারদের উদ্বেগের বিষয় হিসেবে অর্থনীতির পাশাপাশি নির্বাচনী সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময়ও দেখা দিচ্ছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **২৮ দিনের প্রচারাভিযানে** ট্রাম্প ২০-এরও বেশি সমাবেশে অংশ নিয়েছেন, যা তার ‘বিদায়ী সফর’-এর মতো মনে হচ্ছে।
- 📌 **কানসাসের উইচিটা সমাবেশে** সিএনএনের সাংবাদিক বেটসি ক্লেইনের পর্যবেক্ষণে, এবারের প্রচারে ট্রাম্পের সমর্থকদের ধরন আগের তুলনায় বদলে গেছে — অধিকাংশই ‘মাগা’ আন্দোলনের অনুগত।
- 📌 **কানসাসে ১৬% ব্যবধানে** ট্রাম্প জয়ী হওয়া সত্ত্বেও, কিছু ভোটার অর্থনৈতিক উদ্বেগের কারণে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী অ্যাডাম হ্যামিল্টনকে ভোট দেবার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
- 📌 **দক্ষিণ ক্যারোলাইনা ক্লেমসনে** ট্রাম্পের সমাবেশে অন্তত **১২ বার** বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে নিতে হয় নিরাপত্তা বাহিনী। প্রতিবাদকারীরা তাকে ‘অপরাধী’ ও ‘বিশ্বাসঘাতক’ বলে আক্রমণ করেন।
- 📌 **ফ্লোরিডার ফোর্ট মায়ার্সে** ট্রাম্পের আত্মবিশ্বাসী উপস্থিতি রিপাবলিকানদের নির্বাচনী উদ্বেগের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
📰 বিস্তারিত
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের জন্য রিপাবলিকান পার্টির পক্ষে শেষ মুহূর্তের প্রচারে ব্যস্ত ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি একের পর এক সমাবেশে অংশ নিচ্ছেন, যেখানে তার সমর্থকদের ধরন আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তিত হয়েছে। সিএনএনের সাংবাদিকদের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, এবারের প্রচারে ট্রাম্পের সমর্থকরা অধিকাংশই তার ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ বা ‘মাগা’ আন্দোলনের অনুগত অনুসারীরা। তবে কিছু অঙ্গরাজ্যে, যেমন কানসাস, ভোটারদের উদ্বেগের বিষয় হিসেবে অর্থনীতির পাশাপাশি নির্বাচনী সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময়ও দেখা দিচ্ছে।
কানসাসের উইচিটায় ট্রাম্পের সমাবেশ কাভার করা সিএনএনের সাংবাদিক বেটসি ক্লেইনের পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে, এবারের নির্বাচনী প্রচারে ট্রাম্পের সমর্থকদের ধরন আগের তুলনায় অনেকটাই বদলে গেছে। ২০১৬ ও ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচার কাভার করার অভিজ্ঞতার পাশাপাশি চলতি বছরও নয়টি অঙ্গরাজ্যে ট্রাম্পের সমাবেশে অংশ নিয়েছেন তিনি। তার মতে, ২০১৫ সালে ট্রাম্প প্রথমবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পর যেসব সমাবেশ হয়েছিল, সেগুলোতে রাজনৈতিকভাবে ভিন্নমতের মানুষও উপস্থিত থাকতেন। কিন্তু এবারের প্রচারে যাদের সঙ্গে কথা বলেছেন, তাদের অধিকাংশই রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
কানসাসে কিছুটা ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। ২০২৪ সালের নির্বাচনে, ১৬% পয়েন্টের ব্যবধানে ট্রাম্পকে জয়ী করা এই অঙ্গরাজ্যে ১৯৩২ সালের পর কোনো ডেমোক্র্যাট সিনেটর নির্বাচিত হননি। গত ১৯ অক্টোবর, পার্ক সিটিতে ট্রাম্পের সমাবেশে এক মায়ের সঙ্গে কথা বলেন ক্লেইন। সিনেট নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী রজার মার্শাল এবং ডেমোক্র্যাট প্রার্থী অ্যাডাম হ্যামিল্টনের মধ্যে কাকে ভোট দেবেন, তা নিয়ে তখনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি ওই নারী। তার প্রধান উদ্বেগ ছিল অর্থনীতি। একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীও জানান, ট্রাম্পের সমাবেশে অংশ নেওয়ার পর তিনি হ্যামিল্টনকে ভোট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তার ভাষায়, কানসাসের মানুষ অনেক কিছুই সহ্য করেছে। পরিবর্তন আনার মতো ভোটার সেখানে যথেষ্ট রয়েছে।
দক্ষিণ ক্যারোলাইনা ক্লেমসনে, ট্রাম্পের সমাবেশে একাধিকবার বিক্ষোভকারীদের বাধার মুখে পড়তে হয় নিরাপত্তাকর্মীদের। সিএনএন সাংবাদিক আলাইনা ট্রিনের বর্ণনা অনুযায়ী, ২১ অক্টোবর ক্লেমসন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের একটি পশুপালন প্রদর্শনী কেন্দ্রে আয়োজিত সমাবেশে অন্তত ১২ বার বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে নেয় নিরাপত্তা বাহিনী। ট্রাম্প মঞ্চে ওঠার কয়েক মিনিটের মধ্যেই শুরু হয় প্রতিবাদ। কেউ তাকে অপরাধী বলে চিৎকার করেন, কেউ অশালীন ভাষায় গালাগাল করেন। আবার কেউ তাকে 'বিশ্বাসঘাতক' বলেও আক্রমণ করেন।
সাম্প্রতিক নির্বাচনী সমাবেশগুলোতে, এমন প্রতিবাদ আগের তুলনায় বেশি চোখে পড়ছে বলে মনে করেছেন সাংবাদিকেরা। তবে এসব ঘটনায় বিরক্তি প্রকাশের বদলে রসিকতা করেই পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন ট্রাম্প। পরপর তিনবার বক্তব্যের বাধা আসার পর তিনি বলেন, বিক্ষোভকারীরা সব সময় তার বক্তব্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশে বাধা দেন। এমনকি, তাদের সময়জ্ঞানও বেশ ভালো বলে কৌতুক করেন তিনি। পরে বিক্ষোভকারীদের ‘ব্যর্থ’ বলেও মন্তব্য করেন।
ফ্লোরিডার ফোর্ট মায়ার্সে ২৩ অক্টোবরের সমাবেশে ট্রাম্পকে বেশ আত্মবিশ্বাসী দেখালেও সেখানে তার উপস্থিতিই রিপাবলিকানদের নির্বাচনী উদ্বেগের ইঙ্গিত দিচ্ছিল। ফ্লোরিডার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল দীর্ঘদিন ধরেই রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। তারপরও গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী লক্ষ্য হিসেবে এই অঞ্চলটি এখনও রিপাবলিকানদের জন্য চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়িয়েছে।
"বিক্ষোভকারীরা সব সময় তার বক্তব্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশে বাধা দেন। এমনকি, তাদের সময়জ্ঞানও বেশ ভালো বলে কৌতুক করেন তিনি।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: যুক্তরাষ্ট্র (কানসাস, দক্ষিণ ক্যারোলাইনা, ফ্লোরিডা)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ডোনাল্ড ট্রাম্প, বেটসি ক্লেইন, আলাইনা ট্রিন, অ্যাডাম ক্যানক্রিন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৮ দিন, ১৬%, ১৯ অক্টোবর, ২১ অক্টোবর, ১২ বার
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!