📌 মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক চাপ ব্রিকস জোটের সদস্য দেশগুলিকে মার্কিন অর্থনৈতিক প্রভাব থেকে দূরে সরে যেতে বাধ্য করছে। ব্রিকসের ১১ সদস্য দেশের মধ্যে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বৈচিত্র্য থাকলেও মার্কিন অর্থনৈতিক আগ্রাসনের প্রতিক্রিয়ায় তারা নিজস্ব অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে শুরু করেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক নীতি ব্রিকস জোটের সদস্য দেশগুলিকে এক নতুন অর্থনৈতিক অক্ষের দিকে ধাবিত করছে। ট্রাম্পের প্রশাসন ব্রিকসের প্রধান সদস্য দেশগুলোর ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের মাধ্যমে জোটের সদস্যদের মার্কিন অর্থনৈতিক প্রভাব থেকে দূরে সরে যেতে বাধ্য করছে। এই চাপের প্রতিক্রিয়ায় ব্রিকসের ১১ সদস্য দেশ (ব্রাজিল, চীন, মিসর, ইথিওপিয়া, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, ইরান, রাশিয়া, সৌদি আরব, দক্ষিণ আফ্রিকা ও সংযুক্ত আরব আমিরাত) নিজস্ব অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার পথে এগিয়ে যাচ্ছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক নীতি ব্রিকস জোটের সদস্যদের মার্কিন অর্থনৈতিক প্রভাব থেকে দূরে সরে যেতে বাধ্য করছে
- 📌 ব্রিকসের ১১ সদস্য দেশের মধ্যে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বৈচিত্র্য থাকলেও মার্কিন আর্থিক ব্যবস্থার ওপর নির্ভরতা কমানোর চেষ্টা চলছে
- 📌 ব্রিকস দেশগুলো ডলার থেকে সরে যেতে শুরু করেছে এবং নিজস্ব মুদ্রায় দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাড়াচ্ছে
- 📌 দক্ষিণ আফ্রিকা চীনের ‘ক্রস-বর্ডার ইন্টারব্যাংক পেমেন্ট সিস্টেমে’ যুক্ত হয়ে সরাসরি ইউয়ানে লেনদেন করছে
- 📌 ব্রিকস নেতারা সীমান্ত পারাপার লেনদেনব্যবস্থা গড়ে তোলার এবং সদস্যদেশগুলোর পেমেন্ট সিস্টেমকে এক সুতোয় বাঁধার আহ্বান জানিয়েছেন
📰 বিস্তারিত
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরাগের বাণী ব্রিকস জোটের প্রতি কখনোই গোপন ছিল না। তিনি গত বছর ঘোষণা দিয়েছিলেন যে, ব্রিকসের ‘আমেরিকাবিরোধী নীতি’র সঙ্গে যুক্ত হওয়া দেশগুলোর ওপর অতিরিক্ত ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। এই ঘোষণার পর থেকে মার্কিন প্রশাসন ব্রাজিল, ভারত ও চীনের মতো ব্রিকসের প্রধান সদস্য দেশগুলোর ওপর একের পর এক আগ্রাসী শুল্ক আরোপ করেছে। এই পদক্ষেপের লক্ষ্য স্পষ্ট—যারা মার্কিন অর্থনৈতিক প্রভাবকে চ্যালেঞ্জ জানাবে, তাদের চড়া খেসারত দিতে হবে। তবে এই চাপের বিপরীত প্রতিক্রিয়া ঘটছে। ব্রিকসের সদস্য দেশগুলো মার্কিন অর্থনৈতিক ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা থেকে সরে আসার তাগিদ অনুভব করছে।
ব্রিকসের ১১ সদস্য দেশের মধ্যে রয়েছে বিশ্বের মোট জনসংখ্যার অর্ধেক এবং বৈশ্বিক মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ৪০ শতাংশের প্রতিনিধিত্ব। তবে এই দেশগুলোর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অবস্থান এক নয়। মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে ইরান, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের অবস্থান সম্পূর্ণ বিপরীত। গত মে মাসে নয়াদিল্লিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে ইরান ও আমিরাতের প্রতিনিধিরা মুখোমুখি বাগ্যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছিলেন। আবার ভারত ও চীনের সম্পর্ক ২০২০-২১ সালের সীমান্ত সংঘর্ষের পর থেকে কিছুটা স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে।
ব্রিকসের সদস্য দেশগুলো মার্কিন অর্থনৈতিক ব্যবস্থার ওপর নির্ভরতা কমানোর চেষ্টা করছে। দক্ষিণ আফ্রিকা ইতিমধ্যেই চীনের ‘ক্রস-বর্ডার ইন্টারব্যাংক পেমেন্ট সিস্টেমে’ যুক্ত হয়ে সরাসরি ইউয়ানে লেনদেন করছে। ব্রাজিল ও চীন নিজ নিজ মুদ্রায় দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাড়িয়েছে। ভারত ও সংযুক্ত আরব আমিরাত রুপি ও দিরহামে লেনদেন নিষ্পত্তি করছে। রাশিয়া ও চীন তাদের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের সিংহভাগই জাতীয় মুদ্রায় সম্পন্ন করছে। ব্রিকস জোট ধীরে ধীরে একটি নিজস্ব আর্থিক সংযোগ তৈরির পথে এগিয়ে যাচ্ছে। গত বছরের সম্মেলনে ব্রিকস নেতারা সীমান্ত পারাপার লেনদেনব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং সদস্যদেশগুলোর পেমেন্ট সিস্টেমকে এক সুতোয় বাঁধার আহ্বান জানিয়েছিলেন।
"ব্রিকস দেশগুলো তাদের ফাস্ট-পেমেন্ট নেটওয়ার্ক ও সেন্ট্রাল ব্যাংক ডিজিটাল কারেন্সি যুক্ত করার বিষয়ে আলোচনা চালাচ্ছে"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: নয়াদিল্লি, ওয়াশিংটন, ব্রাজিল, চীন, দক্ষিণ আফ্রিকা, ভারত, রাশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ডোনাল্ড ট্রাম্প, ব্রিকস নেতারা, রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার গভর্নর সঞ্জয় মালহোত্রা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১১ সদস্য, ৪০ শতাংশ জিডিপি, ১০ শতাংশ শুল্ক, ২০২০-২১ সাল
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!