📌 ফ্রান্স যুক্তরাজ্যের সাথে স্বাক্ষরিত ওয়ান ইন ওয়ান আউট অভিবাসন চুক্তির পরীক্ষামূলক কার্যক্রম ১ অক্টোবর থেকে বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়। চুক্তির মাধ্যমে ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে যুক্তরাজ্যে আসা অভিবাসীদের মধ্যে বিনিময় করা হতো, কিন্তু ফ্রান্স এখন ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথে বৃহত্তর সমাধান খোঁজার পথে অগ্রসর হয়েছে।
ফ্রান্স যুক্তরাজ্যের সাথে চালু থাকা ওয়ান ইন ওয়ান আউট অভিবাসন চুক্তির পরীক্ষামূলক কার্যক্রম ১ অক্টোবর থেকে আর চালিয়ে যেতে চায় না। এই সিদ্ধান্তের ঘোষণা দিয়েছে ফ্রান্সের সরকারি সূত্র। ১৬ সেপ্টেম্বর এই বিষয়ে জানানো হয় যে, ২০২৫ সালের গ্রীষ্মে স্বাক্ষরিত ও আগস্টে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হওয়া এই চুক্তির আর কোনো প্রসারিত করার পরিকল্পনা নেই।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ফ্রান্স ১ অক্টোবর থেকে ওয়ান ইন ওয়ান আউট চুক্তির পরীক্ষামূলক কার্যক্রম বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়
- 📌 চুক্তির মাধ্যমে ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে যুক্তরাজ্যে আসা অভিবাসীদের মধ্যে বিনিময় করা হতো — একজনকে ফ্রান্সে ফেরত পাঠানোর বিনিময়ে একজনকে যুক্তরাজ্যে নেওয়া হতো
- 📌 ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজও বলেছেন, ফ্রান্স যুক্তরাজ্যের সাথে বর্তমান দ্বিপক্ষীয় ব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে চায়
- 📌 ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ চুক্তি স্থায়ী করার পাশাপাশি ফ্রান্সে ফেরত পাঠানো অভিবাসীদের সংখ্যা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন
- 📌 চুক্তির মাধ্যমে এখন পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ৪০০ জনকে ফ্রান্সে ফেরত পাঠানো হয়েছে, যা মোট অভিবাসীদের আনুমানিক ৪ শতাংশ
- 📌 একজনকে ফ্রান্সে ফেরত পাঠানোর খরচ প্রায় ৫৬ হাজার পাউন্ড (৬৫ হাজার ইউরো), যা এ পর্যন্ত প্রায় ৭৮ মিলিয়ন পাউন্ডে দাঁড়িয়েছে
📰 বিস্তারিত
২০২৫ সালের গ্রীষ্মে স্বাক্ষরিত ওয়ান ইন ওয়ান আউট চুক্তির মূল উদ্দেশ্য ছিল ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে ছোট নৌকায় অবৈধভাবে যুক্তরাজ্যে আসা অভিবাসীদের একটি অংশকে ফ্রান্সে ফেরত পাঠানোর মাধ্যমে এই প্রবণতা কমানো। এর বিনিময়ে ফ্রান্সে অবস্থানরত নির্দিষ্ট সংখ্যক অভিবাসীকে বৈধভাবে যুক্তরাজ্যে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হতো। তবে ফ্রান্সের সরকারি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, এই চুক্তির কার্যকারিতা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে ভিন্নমত দেখা দিয়েছে। ফ্রান্সের দাবি, শুধু দ্বিপক্ষীয় ব্যবস্থা দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর সমাধান হতে পারে না। তারা ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথে আরো বিস্তৃত একটি অভিবাসন চুক্তির দিকে অগ্রসর হতে চায়।
ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজও জুন মাসে জাতীয় পরিষদের একটি কমিশনে বক্তব্য দিয়েছিলেন, ‘ফ্রান্স যুক্তরাজ্যের সাথে বর্তমান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসতে চায়।’ অন্যদিকে, ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ পরীক্ষামূলক ব্যবস্থাটিকে সমর্থন করে এর স্থায়ীকরণের পাশাপাশি ফ্রান্সে ফেরত পাঠানো অভিবাসীদের সংখ্যা বাড়ানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যামও ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁকে চুক্তিটির মেয়াদ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।
চুক্তির মাধ্যমে এখন পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ৪০০ জনকে ফ্রান্সে ফেরত পাঠানো হয়েছে, যা মোট অভিবাসীদের আনুমানিক চার শতাংশের ক্ষেত্রে কার্যকর হয়েছে। তবে ইংলিশ চ্যানেল দিয়ে ছোট নৌকায় যুক্তরাজ্যে আসা মোট অভিবাসীদের তুলনায় এই বিনিময়ের সংখ্যা সীমিত। এছাড়াও, একজনকে ফ্রান্সে ফেরত পাঠানোর খরচ প্রায় ৫৬ হাজার পাউন্ড (৬৫ হাজার ইউরো), যা এ পর্যন্ত প্রায় ৭৮ মিলিয়ন পাউন্ডে দাঁড়িয়েছে।
"ফ্রান্স যুক্তরাজ্যের সাথে বর্তমান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসতে চায়।" — লরাঁ নুনেজও, ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ফ্রান্স (প্যারিস), যুক্তরাজ্য (লন্ডন), ইংলিশ চ্যানেল
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: লরাঁ নুনেজও (ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী), শাবানা মাহমুদ (ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী), অ্যান্ডি বার্নহ্যাম (ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী), এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ (ফরাসি প্রেসিডেন্ট)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১ অক্টোবর (চুক্তি বন্ধের তারিখ), ১৬ সেপ্টেম্বর (সূত্র প্রকাশের তারিখ), ২০২৫ (চুক্তি স্বাক্ষরিত বছর), ১ হাজার ৪০০ জন (ফেরত পাঠানো অভিবাসী), ৪ শতাংশ (মোট অভিবাসীদের অনুপাত), ৫৬ হাজার পাউন্ড (ফেরত পাঠানোর খরচ), ৬৫ হাজার ইউরো (৫৬ হাজার পাউন্ডের সমতুল্য), ৭৮ মিলিয়ন পাউন্ড (মোট খরচ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!