📌 যুক্তরাষ্ট্রের নেব্রাস্কা থেকে নিখোঁজ হওয়া ২৪ বছর বয়সী সিডনি লুফের হত্যাকাণ্ডের পেছনে জাদুবিদ্যার আড়ালে ভ্যাম্পায়ার পরিচয় দিয়েছিলেন দুজন প্রতারণাকারী। তাদের গোষ্ঠীতে জড়িয়ে পড়া নারীদের ভয়ংকর অভিজ্ঞতা নিয়ে তৈরি হয়েছে হুলুর নতুন তথ্যচিত্র সিরিজ ‘সোয়াইপ রাইট অন দ্য ডেভিল’
যুক্তরাষ্ট্রের নেব্রাস্কা থেকে নিখোঁজ হওয়া ২৪ বছর বয়সী সিডনি লুফের হত্যাকাণ্ডের পেছনে জাদুবিদ্যার ভয়ংকর ফাঁদ ছিল। ডেটিং অ্যাপ টিন্ডারে পরিচয় দেওয়া ‘অড্রে’ নামের এক নারী আসলে ২৩ বছর বয়সী বেইলি বসওয়েল, যিনি নিজেকে ভ্যাম্পায়ার বলে পরিচয় দিতেন। তার সঙ্গী ৫১ বছর বয়সী অউব্রে ট্রেইলও জড়িত ছিলেন। তাদের গোষ্ঠীকে ‘কোভেন’ বলে পরিচিতি দেওয়া হতো, যা জাদুবিদ্যার চর্চাকারীদের সমষ্টিকে বোঝায়। সিডনির হত্যাকাণ্ডের পেছনে এই দুজনের প্রতারণা ও নিয়ন্ত্রণ কৌশল ছিল।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ২৪ বছর বয়সী সিডনি লুফ টিন্ডারে পরিচিত ‘অড্রে’ (বেইলি বসওয়েল) এর সঙ্গে দ্বিতীয় ডেটে যান ১৫ নভেম্বর ২০১৭-এ, কিন্তু আর বাড়ি ফেরেননি। পরদিন কাজে না যাওয়ায় সহকর্মীরা পুলিশকে খবর দেন।
- 📌 ৪ ডিসেম্বর গ্রামীণ ক্লে কাউন্টিতে সিডনির দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়, যা ১৪ টুকরা করা হয়েছিল। একটি বাহুর ওপরের অংশ ও অভ্যন্তরীণ অঙ্গগুলি অনুপস্থিত ছিল।
- 📌 বেইলি বসওয়েল ও তার সঙ্গী অউব্রে ট্রেইল (৫১) নিজেদের ‘কোভেন’ নামে পরিচিত গোষ্ঠীতে নারীদের টেনে নিয়ে আসতেন। তারা জাদুবিদ্যার আড়ালে প্রতারণা চালাতেন, যৌন নির্যাতন ও চুরির মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করতেন।
- 📌 গোষ্ঠীর নিয়ম ছিল নারীদের ‘ডাইনি’ হিসেবে পরিচয় দিতে, নগ্ন থাকতে, অন্য নারীদের যৌন সম্পর্ক দেখাতে এবং চুরি করা জিনিস বিক্রিতে সহায়তা করতে। ট্রেইল দাবি করতেন, তাঁর ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য কাউকে হত্যা করতে হবে।
- 📌 তথ্যচিত্র ‘সোয়াইপ রাইট অন দ্য ডেভিল’ হুলুর ওটিটি প্ল্যাটফর্মে প্রকাশিত হয়েছে, যেখানে গোষ্ঠী থেকে পালিয়ে আসা তিন নারী, পুলিশ ও সিডনির পরিবারের লোকজন কথা বলেছেন।
📰 বিস্তারিত
যুক্তরাষ্ট্রের নেব্রাস্কার লিংকনে হার্ডওয়্যারের দোকানে কাজ করতেন সিডনি লুফ। টিন্ডারে পরিচিত ‘অড্রে’ নামের এক নারীকে তিনি দুবার ডেট করেন। ১৫ নভেম্বর ২০১৭ তারিখে দ্বিতীয় ডেটে যান সিডনি, কিন্তু আর বাড়ি ফেরেননি। পরদিন কাজে না যাওয়ায় সহকর্মীরা সন্দেহ করে পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ সিডনির বাড়িতে গিয়ে তাঁর গাড়ি ও পার্স খুঁজে পেলেও তাঁকে পায়নি। এরপর নিখোঁজের খবর ছড়িয়ে পড়ে।
সিডনির এক বন্ধু নিজেই অড্রেকে খুঁজতে টিন্ডারে ভুয়া অ্যাকাউন্ট খোলেন। সেই অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে তদন্তকারীরা জানতে পারেন, ‘অড্রে’ আসলে বেইলি বসওয়েল। ৪ ডিসেম্বর গ্রামীণ ক্লে কাউন্টির একটি মহাসড়কের পাশ থেকে সিডনির দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়। তাঁর দেহ ১৪ টুকরা করা হয়েছিল, একটি বাহুর ওপরের অংশ ও অভ্যন্তরীণ কিছু অঙ্গ অনুপস্থিত ছিল।
তদন্তে উঠে আসে, বসওয়েল ও তার সঙ্গী অউব্রে ট্রেইল (৫১) নিজেদের ‘কোভেন’ নামে পরিচিত গোষ্ঠীতে নারীদের টেনে নিয়ে আসতেন। তারা জাদুবিদ্যার আড়ালে প্রতারণা চালাতেন। নারীদের দাবি, বসওয়েলের সঙ্গে পরিচয়ের পর ট্রেইলের সঙ্গে যোগাযোগ হয়। দামি পোশাক, স্পা চিকিৎসা, মাদক ও সপ্তাহে ১৫০ থেকে ২০০ ডলার দেওয়ার মতো নানা প্রলোভন দেখানো হতো। বিনিময়ে নারীদের ট্রেইল ও বসওয়েলের সঙ্গে যৌন সম্পর্কে অংশ নিতে এবং চুরি করা জিনিস বিক্রিতে সহায়তা করতে হতো।
তদন্তকারীরা ট্রেইল ও বসওয়েলের বাসায় তল্লাশি চালিয়ে বেশ কিছু সন্দেহজনক বস্তু পান, যার মধ্যে ছিল ডাক্ট টেপ, জিপ টাই, কুঠার, রক্তমাখা প্লাস্টিকের চাদর, বিশেষ ধরনের পোশাক ও একটি বই। তথ্যচিত্রে বেঁচে ফেরা এক নারী জানান, ট্রেইল বলেছিলেন, তাঁদের গোষ্ঠীতে ১২ জন নারী আছেন, আর কথিত আচার সম্পন্ন করতে দরকার ত্রয়োদশ একজন। অন্য এক নারী জানান, গোষ্ঠীতে থাকতে হলে ট্রেইলের সামনে নগ্ন থাকতে হতো এবং অন্য নারীদের যৌন সম্পর্কও দেখতে দিতে হতো।
"টিন্ডারের মাধ্যমে পরিচিত হওয়া নারীদের তাঁরা নিজেদের গোষ্ঠীতে টানতেন। কথিত সেই গোষ্ঠীকে তাঁরা ‘কোভেন’ বলতেন—যা সাধারণত জাদুবিদ্যার চর্চাকারীদের সমষ্টি বোঝাতে ব্যবহৃত হয়।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: যুক্তরাষ্ট্রের নেব্রাস্কা, লিংকন
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সিডনি লুফ (২৪), বেইলি বসওয়েল (২৩), অউব্রে ট্রেইল (৫১)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৫ নভেম্বর ২০১৭ (নিখোঁজ), ৪ ডিসেম্বর ২০১৭ (দেহাবশেষ উদ্ধার), ১৪ টুকরা (দেহ), ১৫০-২০০ ডলার (সপ্তাহে অর্থ প্রদান), ১২ জন (গোষ্ঠীর সদস্য)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!