📌 দুবাইয়ের ইশারা আর্ট ফাউন্ডেশনে বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানের তিনজন শিল্পীর প্রদর্শনী 'The sky held it, the earth remembered' আজ শুরু হয়েছে। শাহানা রাজানি, রোহিণী দেবাশের ও সরকার প্রতীকের কাজে স্মৃতি, প্রকৃতি ও ইতিহাসের গভীর সংযোগ তুলে ধরা হয়েছে। সিন্ধু বদ্বীপের হারিয়ে যাওয়া গ্রাম থেকে ঢাকার পরিবর্তনশীল শহর পর্যন্ত বিভিন্ন বিষয়কে শিল্পের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হয়েছে
দুবাইয়ের ইশারা আর্ট ফাউন্ডেশনে বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানের তিনজন শিল্পীর উদ্ভাবনী প্রদর্শনী 'The sky held it, the earth remembered' (আকাশ তাকে ধরে রেখেছে, পৃথিবী মনে রেখেছে) আজ শুরু হয়েছে। এই প্রদর্শনীতে শিল্পের মূল প্রশ্ন 'শিল্পের কাজ কী?' এর উত্তর খুঁজতে দর্শকদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণকারী শিল্পীদের কাজের মধ্যে একটি গভীর যোগসূত্র রয়েছে, যা প্রথমে স্পষ্ট নয়। তবে এই সম্পর্কের খোঁজে দর্শকদের নিজেরাই ভাবতে বাধ্য করা হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৩ জন শিল্পী (শাহানা রাজানি, রোহিণী দেবাশের ও সরকার প্রতীক) বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানের স্মৃতি ও প্রকৃতির গভীর সংযোগ তুলে ধরেছেন দুবাই প্রদর্শনীতে।
- 📌 শাহানা রাজানির 'Lines That World a River' কাজে সিন্ধু বদ্বীপের পানির নিচে তলিয়ে যাওয়া গ্রামের মানুষের দেয়ালচিত্রের মাধ্যমে হারিয়ে যাওয়া স্মৃতি পুনরুজ্জীবিত হয়েছে।
- 📌 রোহিণী দেবাশেরের 'Latent Fields' কাজে সূর্যের কালো দাগ ও মহাবিশ্বের ঘটনাগুলোকে রেশমি প্যানেলে শিল্পী পদ্ধতিতে উপস্থাপন করেছেন।
- 📌 প্রদর্শনীতে ৩টি পর্দা ও ৩টি বিশাল রেশমি প্যানেল ব্যবহার করে শিল্পীরা প্রকৃতি ও ইতিহাসের গভীর সংযোগ তুলে ধরেছেন।
- 📌 প্রদর্শনীতে হান নেফকেন্স ফাউন্ডেশন ও ইশারা আর্ট ফাউন্ডেশন যৌথভাবে অংশগ্রহণ করেছে।
📰 বিস্তারিত
প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণকারী শাহানা রাজানির কাজ 'Lines That World a River' সিন্ধু বদ্বীপের পানির নিচে তলিয়ে যাওয়া গ্রামের মানুষের জীবনকে কেন্দ্র করে। এই কাজে স্থানীয় মানুষ ছবি আঁকা মাধ্যমে হারিয়ে যাওয়া গ্রামগুলোকে আবার কল্পনায় গড়ে তুলেছেন। তাদের আঁকা ছবিতে দেখা যায় বাড়িঘর, নৌকা, খাল এবং দরগা বা মাজার। এই দেয়ালচিত্রগুলো দেখে একজন গ্রামবাসী বলেছেন, 'এই দেয়ালচিত্রগুলো যখন দেখি, তখন মনে হয় আমরা যেন ছবিগুলোর ভেতরেই বাস করছি। জমিটা আবার জীবন্ত হয়ে উঠেছে।' এই মুহূর্তটি শিল্পের অর্থ সম্পর্কে আমাদের ভাবনার ধরন বদলে দেয়।
শাহানা রাজানির কাজের গঠনও এই ভাবনাকে আরও জোরালো করে। তিনটি পর্দার মাঝখানে একটি ঘেরা কাঠামো তৈরি করা হয়েছে, যা দরগার কথা মনে করিয়ে দেয়। এই কাঠামোতে দর্শকদের প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হয়েছে, ফলে দরগাটি একই সঙ্গে একটি স্থাপত্যের স্মারক এবং অনুপস্থিতির প্রতীক হয়ে ওঠে। এটি এমন একটি কাঠামো, যা টিকে আছে, অথচ যার চারপাশের জগৎ আর আগের মতো নেই।
অপরদিকে, রোহিণী দেবাশেরের 'Latent Fields' কাজে দর্শককে প্রায় অকল্পনীয় দূরত্বে নিয়ে যায়। বিশাল আকারের তিনটি রেশমি প্যানেলে সূর্যের কালো দাগ বা সানস্পট এবং সূর্যের অন্যান্য ঘটনার ছবি ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। এসব ছবি তৈরি করতে তিনি বিভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহার করেছেন, যেমন আঁকাআঁকি, অ্যাসিড দিয়ে কাপড়ের পৃষ্ঠের পরিবর্তন ঘটানো, ধোঁয়ার সাহায্যে ছাপ তৈরি, আলোকচিত্র এবং ডিজিটাল প্রিন্টিং। তাঁর কাজের মূল প্রশ্ন হলো, যেসব ঘটনা সরাসরি দেখা বা অনুভব করা সম্ভব নয়, সেগুলোকে আমরা কীভাবে পর্যবেক্ষণ করি?
প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণকারী শিল্পীদের কাজের মধ্যে একটি গভীর যোগসূত্র রয়েছে। তাদের কাজের মাধ্যমে পরিবেশের মধ্যে দীর্ঘ সময় ধরে ঘটে যাওয়া পরিবেশগত পরিবর্তনের নানা বস্তুগত চিহ্ন তুলে ধরা হয়েছে। এই প্রদর্শনীতে ভূমি, জল ও মহাবিশ্ব আমাদের স্মৃতি ও ইতিহাসের জীবন্ত ভান্ডার হিসেবে কাজ করে। প্রদর্শনীর কিউরেটরদের মতে, পরিবেশের মধ্যে দীর্ঘ সময় ধরে ঘটে যাওয়া পরিবেশগত পরিবর্তনের নানা বস্তুগত চিহ্ন জমা থাকে। এসব চিহ্ন কখনো পানির নিচে চাপা পড়ে যায়, কখনো আড়ালে চলে যায়, আবার কখনো মানুষের চোখে ধরা পড়ার ক্ষমতারও বাইরে থাকে।
"এই দেয়ালচিত্রগুলো যখন দেখি, তখন মনে হয় আমরা যেন ছবিগুলোর ভেতরেই বাস করছি। জমিটা আবার জীবন্ত হয়ে উঠেছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ইশারা আর্ট ফাউন্ডেশন, দুবাই
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: শাহানা রাজানি, রোহিণী দেবাশের, সরকার প্রতীক
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩ জন শিল্পী, ৩টি পর্দা, ৩টি রেশমি প্যানেল
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!