📌 ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুলা দ্য সিলভা দারিদ্র্য থেকে শুরু করে চারবার নির্বাচিত হয়ে রাজনীতির শীর্ষে পৌঁছেছেন। কারাগার থেকে ফিরে ২০২৬ সালে চতুর্থবারের মতো ক্ষমতায় আসার পথে তিনি আন্তর্জাতিক রাজনীতিতেও আলোচিত হয়ে উঠেছেন ফিলিস্তিন ইস্যুতে ইসরাইলের সমালোচনা করে
ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুলা দ্য সিলভা (লুইজ ইনাসিও লুলা দ্য সিলভার) দারিদ্র্য থেকে শুরু করে চারবার নির্বাচিত হয়ে ব্রাজিলের সর্বোচ্চ পদে পৌঁছেছেন। কারাগারে যাওয়ার পরও রাজনীতিতে ফিরে ২০২৬ সালে চতুর্থবারের মতো প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার মধ্য দিয়ে তার রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তনের গল্প আরও দীর্ঘ হয়েছে। আন্তর্জাতিক রাজনীতিতেও তিনি ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরাইলের সামরিক অভিযান এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতির সমালোচনা করে আলোচিত হয়ে উঠেছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **লুলা দ্য সিলভা** ব্রাজিলের ইতিহাসের প্রথম ব্যক্তি যিনি চারবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন — ২০০২, ২০০৬, ২০১০ এবং ২০২৬ সালে।
- 📌 **দারিদ্র্য থেকে রাজনীতির শীর্ষে**: জন্ম ১৯৪৫ সালের ২৭ অক্টোবর ব্রাজিলের পারনামবুকো রাজ্যের গারানিউন্স শহরে দরিদ্র কৃষক পরিবারে। শৈশবে পরিবারের অর্থনৈতিক সংকটের কারণে সাত বছর বয়সে মা-বাবার সাথে সাও পাওলো চলে যান।
- 📌 **শ্রমিক নেতা থেকে রাজনীতির মঞ্চে**: কারখানায় শ্রমিক হিসেবে কাজ শুরু করে ১৯৭০-এর দশকে সাও পাওলোর শ্রমিক ইউনিয়নের নেতা হন। ১৯৭৫ সালে সভাপতি নির্বাচিত হন এবং ১৯৭৯ সালে প্রায় ১.৫ লাখ শ্রমিকের ধর্মঘটের নেতৃত্ব দেন।
- 📌 **ওয়ার্কার্স পার্টি প্রতিষ্ঠা**: ১৯৮০ সালে প্রতিষ্ঠা করেন ওয়ার্কার্স পার্টি (পিটি), যা শ্রমিকের অধিকার, সামাজিক ন্যায়বিচার ও গণতন্ত্রের পক্ষে কাজ করে।
- 📌 **কারাগার থেকে ফিরে ক্ষমতায়**: দুর্নীতির মামলায় কারাগারে যান, কিন্তু আইনি লড়াই শেষে ২০২২ সালে আবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন।
- 📌 **আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে আলোচিত**: ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরাইলের সামরিক অভিযান এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতির বিরোধিতা করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচিত হয়ে উঠেছেন।
📰 বিস্তারিত
লুলা দ্য সিলভার ব্রাজিলের রাজনৈতিক জীবন যেন এক নাটকীয় প্রত্যাবর্তনের গল্প। তার জন্ম ১৯৪৫ সালের ২৭ অক্টোবর ব্রাজিলের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় পারনামবুকো রাজ্যের গারানিউন্স শহরে। দরিদ্র কৃষক পরিবারের সন্তান তিনি। পরিবারের অর্থনৈতিক সংকটের কারণে শৈশবে কাজ শুরু করতে হয় তার। সাত বছর বয়সে মা-বাবার সাথে সাও পাওলো চলে যান। সেখানে পরিবারের খরচ জোগাতে তিনি বিভিন্ন কাজ করেন — রাস্তায় ফল বিক্রি, জুতা পালিশ, কারখানায় শ্রমিক হিসেবে কাজ। আনুষ্ঠানিক শিক্ষা বেশি পাননি, কিন্তু কারিগরি প্রশিক্ষণ নিয়ে ধাতব শিল্পে কাজ করার যোগ্যতা অর্জন করেন।
কারখানায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করার সময় তিনি শ্রমিকদের নানা সমস্যা দেখেন — কম মজুরি, কঠোর কর্মপরিবেশ। এসব অভিজ্ঞতা তাকে শ্রমিক আন্দোলনের দিকে টেনে নেয়। ১৯৭০-এর দশকে ব্রাজিল সামরিক শাসনের অধীনে ছিল। লুলা সাও পাওলোর শ্রমিক ইউনিয়নের কর্মকাণ্ডে সক্রিয় হন। ১৯৭৫ সালে সাও বার্নার্দো দো কাম্পু ও দিয়াদেমার ধাতবশ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি নির্বাচিত হন। ১৯৭৯ সালে প্রায় ১.৫ লাখ শ্রমিকের ধর্মঘটের নেতৃত্ব দেন। সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের প্রতীক হিসেবে তিনি পরিচিতি পান।
১৯৮০ সালে তিনি ওয়ার্কার্স পার্টি (পিটি) প্রতিষ্ঠা করেন। দলটি শ্রমিকের অধিকার, দারিদ্র্য হ্রাস এবং সামাজিক ন্যায়বিচারের পক্ষে কাজ করে। ১৯৮৬ সালে সাও পাওলো থেকে ফেডারেল ডেপুটি নির্বাচিত হন। ১৯৮৯ সালে তিনি জাতীয় রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। ২০০২ সালে প্রথমবারের মতো প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। দুটি মেয়াদ দায়িত্ব পালনের পর দুর্নীতির মামলায় কারাগারে যান। কিন্তু আইনি লড়াই শেষে ২০২২ সালে আবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। ২০২৬ সালে চতুর্থবারের মতো প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার মধ্য দিয়ে তার রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তনের গল্প আরও দীর্ঘ হয়েছে।
আন্তর্জাতিক রাজনীতিতেও লুলা আলোচিত হয়ে উঠেছেন। ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরাইলের সামরিক অভিযান, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের পররাষ্ট্রনীতির সমালোচনা করে তিনি বারবার শিরোনাম হয়েছেন। তার সমর্থকদের কাছে তিনি সামাজিক ন্যায়বিচার, শ্রমিকের অধিকার ও জাতীয় সার্বভৌমত্বের প্রতীক। অন্যদিকে সমালোচকদের অভিযোগ, তার কিছু বক্তব্য কূটনৈতিক উত্তেজনা বাড়িয়েছে এবং পররাষ্ট্রনীতিতে তিনি কখনো কখনো অতিরিক্ত কঠোর অবস্থান নিয়েছেন।
"লুলা সামাজিক ন্যায়বিচার, শ্রমিকের অধিকার ও জাতীয় সার্বভৌমত্বের প্রতীক।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ব্রাজিল (পারনামবুকো রাজ্য, গারানিউন্স শহর; সাও পাওলো), ফিলিস্তিন (গাজা), যুক্তরাষ্ট্র
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: লুলা দ্য সিলভা (লুইজ ইনাসিও লুলা দ্য সিলভার), ডোনাল্ড ট্রাম্প
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৭ (অক্টোবর, জন্ম তারিখ), ৭ (বয়স, সাও পাওলো চলে যাওয়া), ১.৫ লাখ (শ্রমিকের ধর্মঘট)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!