📌 সিরিয়া জানিয়েছে, ইসরায়েলের সাম্প্রতিক বিমান হামলার পর আবু আল-দুহুর বিমানঘাঁটিতে তুর্কি সামরিক উপস্থিতি প্রতিষ্ঠার কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই। সিরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদ আল-শাইবানি স্পষ্ট করেন যে, তুরস্কের সামরিক কর্মকর্তারা প্রশিক্ষণ ও সহযোগিতার অংশ হিসেবে ওই স্থানে গেলেও কোনো স্থায়ী উপস্থিতি বা স্থাপনা নির্মাণের উদ্দেশ্য ছিল না
সিরিয়া সরকার জানিয়েছে, ইসরায়েলের সাম্প্রতিক বিমান হামলার পর আবু আল-দুহুর বিমানঘাঁটিতে তুর্কি সামরিক উপস্থিতি প্রতিষ্ঠার কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই। সিরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদ আল-শাইবানি বুধবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম এক্সিওসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ কথা জানান। তিনি আরও বলেন, তুরস্কের সামরিক কর্মকর্তারা প্রশিক্ষণ ও সামরিক সহযোগিতার অংশ হিসেবে ওই স্থানে গেলেও কোনো স্থায়ী সামরিক উপস্থিতি বা স্থাপনা নির্মাণের উদ্দেশ্য ছিল না।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 সিরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদ আল-শাইবানি জানান, আবু আল-দুহুর বিমানঘাঁটিতে তুর্কি সামরিক উপস্থিতি প্রতিষ্ঠার কোনো পরিকল্পনা নেই
- 📌 ইসরায়েল গত মঙ্গলবার সিরিয়ার আলেপ্পোর কাছে অবস্থিত আবু আল-দুহুর বিমানঘাঁটিতে আটটি বিমান হামলা চালায়
- 📌 ইসরায়েল দাবি করে, তারা সিরিয়াকে আগেই সতর্ক করেছিল যেন তারা ওই ঘাঁটিতে তুর্কি সামরিক উপস্থিতির অনুমতি না দেয়
- 📌 তুর্কি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ইসরায়েলের অভিযোগকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে প্রত্যাখ্যান করে
📰 বিস্তারিত
সিরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদ আল-শাইবানি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, আবু আল-দুহুর বিমানঘাঁটিতে তুর্কি সামরিক উপস্থিতি প্রতিষ্ঠার কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই। তিনি মার্কিন সংবাদমাধ্যম এক্সিওসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, “ওই স্থানে তুর্কি সামরিক ঘাঁটি প্রতিষ্ঠা বা স্থায়ী সামরিক উপস্থিতি বা তুর্কি সেনা মোতায়েনের কোনো ইচ্ছা ছিল না।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, তিনি ইসরায়েলকে বিষয়টি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন।
এর আগে মঙ্গলবার ইসরায়েল সিরিয়ার আলেপ্পোর কাছে অবস্থিত আবু আল-দুহুর বিমানঘাঁটিতে আটটি বিমান হামলা চালায় বলে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়। মার্চ মাসের পর থেকে এটি ছিল ইসরায়েলের প্রথম হামলা যেখানে সিরিয়ার সরকারি সম্পদকে লক্ষ্য করা হয়েছিল। এ হামলায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি বলে জানানো হয়, তবে আন্তর্জাতিক মহলে এর নিন্দা জানানো হয়।
আল-শাইবানি বলেন, ইসরায়েলের এই হামলার কোনো বৈধ কারণ নেই। তিনি আরও বলেন, সিরিয়া ইসরায়েলের সঙ্গে উত্তেজনা হ্রাসে আলোচনায় ইচ্ছুক হলেও ভবিষ্যতের কোনো চুক্তিতে উভয় দেশের নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগের সমাধান করতে হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, ইসরায়েলের সামরিক অভিযান অঞ্চলীয় অস্থিতিশীলতা বৃদ্ধি করবে।
“ওই স্থানে তুর্কি সামরিক ঘাঁটি প্রতিষ্ঠা বা স্থায়ী সামরিক উপস্থিতি বা তুর্কি সেনা মোতায়েনের কোনো ইচ্ছা ছিল না।”
এ ঘটনা ঘটে যখন ইসরায়েল ও তুরস্কের মধ্যে সিরিয়া নিয়ে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বুধবার বলেন, ইসরায়েল হামলার আগে সিরিয়াকে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছিল যেন তারা ওই ঘাঁটিতে তুর্কি সামরিক উপস্থিতির অনুমতি না দেয়। তিনি বলেন, “আমাদের বার্তা ছিল খুব স্পষ্ট। না। আমার মনে হয় তারা বার্তাটি পুরোপুরি বুঝতে পারেনি।”
বৃহস্পতিবার সকালে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ দাবি করেন যে, তুর্কি প্রেসিডেন্ট রেজেপ তাইয়েপ এরদোয়ান সিরিয়ায় “বিপজ্জনক অভিযানে” তুরস্ককে টেনে আনছেন। তিনি বলেন, “ইসরায়েল তার নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে এমন কোনো শক্তিকে অনুমতি দেবে না।” কাটজ আরও বলেন, “এরদোয়ানের জন্য ইসরায়েলের বিরুদ্ধে তুর্কি সংসদে খালি, বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দেওয়া উচিত হবে, নিজেদের সামরিক শক্তির পরীক্ষা করার চেষ্টা করার পরিবর্তে।”
তুরস্ক ইসরায়েলের অভিযোগকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। তুর্কি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে জানায় যে, তুরস্ক সিরিয়ার নিজস্ব সামরিক ক্ষমতা ও অবকাঠামো উন্নয়নে সমর্থন অব্যাহত রাখবে। তারা আরও জানায় যে, ইসরায়েলের হামলার আগে বা সময়ে ওই বিমানঘাঁটিতে কোনো সামরিক প্রতিনিধি দল ছিল না। তুরস্ক আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানায় যেন তারা ইসরায়েলের এমন কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আরও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করে যা অঞ্চলের শান্তি ও স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলছে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: আবু আল-দুহুর বিমানঘাঁটি, আলেপ্পো, সিরিয়া
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আসাদ আল-শাইবানি (সিরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী), বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু (ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী), ইসরায়েল কাটজ (ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৮ (ইসরায়েলের বিমান হামলার সংখ্যা)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!