📌 দক্ষিণ কোরিয়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চাপে হরমুজ প্রণালীর নিকটবর্তী অঞ্চলে পিরাসি বিরোধী অভিযান বাড়াতে চায়। তাদের নৌদল ‘চিয়ংহে ইউনিট’-এর ম্যান্ডেট বাড়িয়ে ওমানের ডুকম বন্দরের নিকটবর্তী জলসীমা পর্যন্ত বিস্তৃত করবে। অভিযানটি সম্পূর্ণ অ-যুদ্ধাত্মক থাকবে বলে জানানো হয়েছে
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইরান বিরোধী যুদ্ধে সহায়তা প্রদানের চাপে দক্ষিণ কোরিয়া হরমুজ প্রণালীর নিকটবর্তী অঞ্চলে পিরাসি বিরোধী অভিযান বাড়ানোর পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ‘চিয়ংহে ইউনিট’ নামের নৌদলটি ২০২৬ সালের শেষ পর্যন্ত চলমান ম্যান্ডেট বাড়িয়ে নেওয়ার জন্য জাতীয় পরিষদে প্রস্তাব পেশ করা হবে। এই ইউনিটের কার্যক্রমের সীমানা বাড়িয়ে ওমানের ডুকম বন্দর থেকে প্রায় ৬৫০ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত আরব সাগরের জলসীমা পর্যন্ত বিস্তৃত করা হবে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 দক্ষিণ কোরিয়া হরমুজ প্রণালীর নিকটবর্তী অঞ্চলে পিরাসি বিরোধী অভিযান বাড়ানোর জন্য ‘চিয়ংহে ইউনিট’-এর ম্যান্ডেট বাড়িয়ে নেওয়ার প্রস্তাব পেশ করেছে।
- 📌 নতুন ম্যান্ডেটে ইউনিটের কার্যক্রমের সীমানা বাড়িয়ে আরব সাগরের দক্ষিণ ওমানের জলসীমা পর্যন্ত বিস্তৃত করা হবে, যা প্রায় ১,৯৩০ কিলোমিটার (১,২০০ মাইল) পর্যন্ত বিস্তৃত হবে।
- 📌 ‘চিয়ংহে ইউনিট’-এ ৭৫ জন অতিরিক্ত সদস্য যোগ হবে, যার মধ্যে একটি বোমা বিস্ফোরণ দমন দল এবং একটি পি-৮এ মেরিটাইম প্যাট্রোল বিমান অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
- 📌 অভিযানটি সম্পূর্ণ অ-যুদ্ধাত্মক থাকবে এবং দক্ষিণ কোরিয়ার নিয়ন্ত্রণে থাকবে, যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন কোনো অভিযানে অংশ নেবে না।
- 📌 দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা বলেছেন, ‘চিয়ংহে ইউনিট’-এর মিশনের উন্নতি হলো ‘আমাদের নাগরিকদের রক্ষা করা এবং অর্থনৈতিক স্বার্থ সুরক্ষা করা’।
- 📌 অভিযানটি ওমানের দক্ষিণে খোলা জলে সীমাবদ্ধ থাকবে এবং পিরাসি বিরোধী বিমান ইরানের ভূখণ্ড, সীমান্ত জল বা হরমুজ প্রণালীর অভ্যন্তরে কোনো লক্ষ্য বা নজরদারি করবে না।
- 📌 মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দক্ষিণ কোরিয়াকে ইরান বিরোধী যুদ্ধে সহায়তা প্রদানের জন্য চাপ দিচ্ছেন। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে ম্যাং এপ্রিলে যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের নেতৃত্বে আলোচনা করে নৌপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।
- 📌 দক্ষিণ কোরিয়ার বিরোধী দলের নেতা কিম জুন-হ্যাং বলেছেন, ‘চিয়ংহে ইউনিট’-এর কার্যক্রমের সীমানা বাড়ানো হলো ‘সৈন্য প্রেরণ’। তিনি বলেছেন, এটি একটি ‘বুদ্ধিমান সমাধান নয়, বরং একটি মিথ্যা কাজ’।
📰 বিস্তারিত
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ‘চিয়ংহে ইউনিট’ ২০০৯ সাল থেকে গলফ অফ এডেনে পিরাসি বিরোধী অভিযান পরিচালনা করছে। এই ইউনিটের সর্বশেষ দল ২০২৬ সালের অক্টোবর মাসে দক্ষিণ কোরিয়ার বুসান থেকে ‘চুংমুগং ই সুন-সিন’ নামের একটি ৪,৪০০ টন ধ্বজাবাহী জাহাজে সফর করে। এই জাহাজে একটি মেরিটাইম হেলিকপ্টার এবং প্রায় ৩০০ জন সৈন্য ছিল।
নতুন ম্যান্ডেটে ইউনিটের কার্যক্রমের সীমানা বাড়িয়ে আরব সাগরের দক্ষিণ ওমানের জলসীমা পর্যন্ত বিস্তৃত করা হবে। এই অঞ্চলটি হরমুজ প্রণালী থেকে প্রায় ৬৫০ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত। ইউনিটের কার্যক্রমের সীমানা প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যাবে, যা প্রায় ১,৯৩০ কিলোমিটার (১,২০০ মাইল) পর্যন্ত বিস্তৃত হবে।
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা বলেছেন, ‘চিয়ংহে ইউনিট’-এর মিশনের উন্নতি হলো ‘আমাদের নাগরিকদের রক্ষা করা এবং অর্থনৈতিক স্বার্থ সুরক্ষা করা’। তারা আরও বলেছেন, অভিযানটি ওমানের দক্ষিণে খোলা জলে সীমাবদ্ধ থাকবে এবং পিরাসি বিরোধী বিমান ইরানের ভূখণ্ড, সীমান্ত জল বা হরমুজ প্রণালীর অভ্যন্তরে কোনো লক্ষ্য বা নজরদারি করবে না।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দক্ষিণ কোরিয়াকে ইরান বিরোধী যুদ্ধে সহায়তা প্রদানের জন্য চাপ দিচ্ছেন। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে ম্যাং এপ্রিলে যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের নেতৃত্বে আলোচনা করে নৌপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তবে সেপ্টেম্বর মাসে তিনি বলেছিলেন যে, তিনি কোনো এমন অভিযানে অংশ নেবেন না, যা দক্ষিণ কোরিয়াকে যুদ্ধে জড়িয়ে ফেলতে পারে।
দক্ষিণ কোরিয়ার বিরোধী দলের নেতা কিম জুন-হ্যাং বলেছেন, ‘চিয়ংহে ইউনিট’-এর কার্যক্রমের সীমানা বাড়ানো হলো ‘সৈন্য প্রেরণ’। তিনি বলেছেন, এটি একটি ‘বুদ্ধিমান সমাধান নয়, বরং একটি মিথ্যা কাজ’। তিনি আরও সতর্ক করেছেন যে, যদি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন যে দক্ষিণ কোরিয়া প্রথম দেশ হিসেবে সৈন্য প্রেরণ করেছে, তবে দক্ষিণ কোরিয়া প্রথম দেশ হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে জড়িয়ে পড়বে।
"দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা (অনামিক): 'চিয়ংহে ইউনিটের মিশনের উন্নতি হলো আমাদের নাগরিকদের রক্ষা করা এবং অর্থনৈতিক স্বার্থ সুরক্ষা করা।'
"অভিযানটি ওমানের দক্ষিণে খোলা জলে সীমাবদ্ধ থাকবে এবং পিরাসি বিরোধী বিমান ইরানের ভূখণ্ড, সীমান্ত জল বা হরমুজ প্রণালীর অভ্যন্তরে কোনো লক্ষ্য বা নজরদারি করবে না।"
"কিম জুন-হ্যাং (বিরোধী দলের নেতা): 'চিয়ংহে ইউনিটের কার্যক্রমের সীমানা বাড়ানো হলো সৈন্য প্রেরণ। এটি একটি বুদ্ধিমান সমাধান নয়, বরং একটি মিথ্যা কাজ।'
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: আরব সাগর (ওমানের দক্ষিণে), হরমুজ প্রণালী, গলফ অফ এডেন, ওমানের ডুকম বন্দর
- 👥 মুখ্য ব্যক্তি: দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে ম্যাং, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, কিম জুন-হ্যাং (বিরোধী দলের নেতা)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৬৫০ কিলোমিটার (৪০৩ মাইল), ১,৯৩০ কিলোমিটার (১,২০০ মাইল), ৩০০ জন সৈন্য, ৭৫ জন অতিরিক্ত সদস্য
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!