📌 হরমুজ প্রণালিতে গেরিলা কৌশলে জাহাজে হামলা চালিয়ে তেল পরিবহন বাধাগ্রস্ত করছে ইরান। মার্কিন বাহিনী দাবি করে, তারা প্রণালি থেকে মাইন সরিয়ে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০২ ডলারে উঠেছে
হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন বাধাগ্রস্ত করতে গেরিলা কৌশলে জোর দিচ্ছে ইরান। পানির নিচে বিস্ফোরকবাহী ড্রোন, রকেটচালিত গ্রেনেড এবং জাহাজের গায়ে লিমপেট মাইন স্থাপনের মাধ্যমে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালাচ্ছে তেহরান। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক সপ্তাহে এই ধরনের হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছেন আঞ্চলিক কর্মকর্তা, নিরাপত্তা সংস্থা ও সামরিক বিশ্লেষকরা।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ইরান হরমুজ প্রণালিতে গেরিলা কৌশলে জাহাজে হামলা চালিয়ে তেল পরিবহন বাধাগ্রস্ত করছে — পানির নিচে বিস্ফোরকবাহী ড্রোন, রকেটচালিত গ্রেনেড এবং লিমপেট মাইন ব্যবহার করছে।
- 📌 মার্কিন বাহিনী দাবি করে, তারা হরমুজ প্রণালি থেকে ইরানের পেতে রাখা মাইন সরিয়ে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে।
- 📌 ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০২ ডলারে উঠেছে, যা যুদ্ধ-পূর্ব অবস্থানের চেয়ে প্রায় ৩০ ডলার বেশি।
- 📌 যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচনের সময় প্রতি গ্যালন পেট্রলের গড় দাম দাঁড়িয়েছে ৪ ডলার ১৫ সেন্ট।
- 📌 অক্টোবরে হরমুজ প্রণালিতে সর্বাধিক ৩৫টি হামলা নথিভুক্ত হয়েছে, নভেম্বরের শুরু থেকে অন্তত পাঁচটি জাহাজে হামলা হয়েছে।
- 📌 ইরানের আইআরজিসি দাবি করে, তাদের পেতে রাখা মাইনের আঘাতে জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তবে আঞ্চলিক কর্মকর্তারা এ দাবিকে অস্বীকার করেছেন।
📰 বিস্তারিত
হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন বাধাগ্রস্ত করতে ইরান গেরিলা কৌশলে জোর দিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের ওপর চাপ বাড়াতে তেহরান বিভিন্ন ধরনের অসম সামরিক কৌশল প্রয়োগ করছে। পানির নিচে চলাচলকারী বিস্ফোরকবাহী ড্রোন, রকেটচালিত গ্রেনেড এবং জাহাজের গায়ে লিমপেট মাইন স্থাপনের মাধ্যমে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালাচ্ছে দেশটি। মার্কিন সামরিক বাহিনী হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন নিরাপদে বের করে আনতে প্রতিদিনই অভিযান পরিচালনা করছে।
ব্যয়বহুল এই প্রচেষ্টার ফলে সম্প্রতি প্রণালিটি দিয়ে তেল পরিবহনের প্রবাহ যুদ্ধ-পূর্ব পর্যায়ে ফিরে এসেছে। ইরানের হামলার জবাবে মার্কিন বাহিনী পাল্টা আঘাত হানছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্রের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তিনি কোনো সাড়া দেননি। গত সোমবার হরমুজ প্রণালিতে ইরানের হামলা বন্ধ করতে মার্কিন বাহিনী কেশম দ্বীপেও আঘাত হানা হয়েছে বলে জানিয়েছে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।
ইরানের হামলার কারণে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০২ ডলারে উঠেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচনের সময় প্রতি গ্যালন পেট্রলের গড় দাম দাঁড়িয়েছে ৪ ডলার ১৫ সেন্ট। যুদ্ধ শুরুর আগে অপরিশোধিত তেলের দাম ছিল ব্যারেলপ্রতি ৭০ ডলারের সামান্য বেশি। ইউরেশিয়া গ্রুপের ইরান ও জ্বালানি বিষয়ক জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক গ্রেগরি ব্রিউ বলেছেন, ‘তারা পরিস্থিতিকে সহিংস রাখতে পারে, জাহাজ চলাচলের ঝুঁকি বাড়িয়ে রাখতে পারে এবং তেলের দাম উঁচুতে ধরে রাখতে পারে।’
মার্কিন বাহিনী দাবি করে, তারা হরমুজ প্রণালি থেকে সম্পূর্ণভাবে মাইন মুক্ত করেছে। গত সপ্তাহে হরমুজ প্রণালির ওপর দিয়ে উড়ে যাওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার জানিয়েছেন, সংকীর্ণ এই জলপথে মার্কিন বাহিনীর টহল অব্যাহত রয়েছে। তিনি বলেছেন, ‘আমি সেখানে আইআরজিসির কাউকে একবারের জন্যও দেখতে পাইনি।’
সংঘাত শুরুর আগে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হতো। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করে, তাদের পেতে রাখা মাইনের আঘাতে জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে উপসাগরীয় অঞ্চলের কর্মকর্তারা এ দাবিকে অস্বীকার করেছেন।
"তারা পরিস্থিতিকে সহিংস রাখতে পারে, জাহাজ চলাচলের ঝুঁকি বাড়িয়ে রাখতে পারে এবং তেলের দাম উঁচুতে ধরে রাখতে পারে।"
— গ্রেগরি ব্রিউ, ইউরেশিয়া গ্রুপের ইরান ও জ্বালানি বিষয়ক জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: হরমুজ প্রণালি, পারস্য উপসাগর
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ডোনাল্ড ট্রাম্প (মার্কিন প্রেসিডেন্ট), অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার (মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড প্রধান), গ্রেগরি ব্রিউ (ইউরেশিয়া গ্রুপ বিশ্লেষক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০২ ডলার, প্রতি গ্যালন পেট্রলের দাম ৪ ডলার ১৫ সেন্ট, যুদ্ধ-পূর্ব তেলের দাম ৭০ ডলার, প্রণালি দিয়ে তেল সরবরাহের ২০ শতাংশ, ৩৫টি হামলা (অক্টোবর), ৫টি হামলা (নভেম্বর)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!