📌 রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলায় এক পরিবারের বাড়ি ও মালামাল পুড়ে যাওয়ার পর তারা ঋণ ও মেয়ের স্বর্ণের দাবা নিয়ে হতাশ। আট লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে
রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলায় গত বুধবার সন্ধ্যায় এক পরিবারের বাড়ি ও মালামাল পুড়ে যাওয়ার পর তারা ঋণ ও মেয়ের স্বর্ণের দাবা নিয়ে হতাশ হয়ে পড়েছেন। অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে গেছে তিনটি ঘর, একটি গরু, তিনটি ছাগল, জমি কেনার জন্য জমানো তিন লাখ টাকা এবং মেয়ের বিয়েতে দেওয়া প্রায় দুই লাখ টাকার স্বর্ণালংকার। পরিবারের সদস্যরা বলছেন, এখন তারা ঋণ কীভাবে পরিশোধ করবেন এবং মেয়ের স্বর্ণ কীভাবে দেবেন তা নিয়ে চিন্তায় ভুগছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 গঙ্গাচড়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের নবনীদাস মাঠের পাড় এলাকায় অশোক চন্দ্র রায় (৫০) ও তাঁর ছোট ভাই নরেশ চন্দ্র রায়ের বাড়িতে আগুন লেগেছে।
- 📌 অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে গেছে তিনটি ঘর, একটি গরু, তিনটি ছাগল, জমি কেনার জন্য জমানো তিন লাখ টাকা এবং মেয়ের বিয়েতে দেওয়া প্রায় দুই লাখ টাকার স্বর্ণালংকার।
- 📌 পরিবারের দাবি, সব মিলিয়ে প্রায় আট লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
- 📌 অগ্নিকাণ্ডের প্রত্যক্ষদর্শী গোলাপী রানী বলেছেন, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে পারা যায়নি এবং গরু-ছাগলগুলো পুড়ে মারা গেছে।
- 📌 ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হলেও প্রায় দুই লাখ সত্তর হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
📰 বিস্তারিত
গত বুধবার (৪ নভেম্বর) সন্ধ্যায় রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের নবনীদাস মাঠের পাড় এলাকায় অশোক চন্দ্র রায় (৫০) ও তাঁর ছোট ভাই নরেশ চন্দ্র রায়ের বাড়িতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। সন্ধ্যায় বাড়িতে পূজা-অর্চনা শেষ করে বেড়াতে গিয়েছিলেন অশোকের স্ত্রী চানু বালা। কিছুক্ষণ পর প্রতিবেশী গোলাপী রানীর চিৎকার শুনে জানতে পারেন, বাড়িতে আগুন লেগেছে। ছুটে এসে দেখেন, বসতঘর দাউ দাউ করে জ্বলছে। ঘরের ভেতরে বাঁধা গরু ও তিনটি ছাগল প্রাণ বাঁচাতে ছটফট করছিল। কিন্তু আগুনের তীব্রতায় কাছে যাওয়ার উপায় ছিল না। চোখের সামনেই পুড়ে মারা যায় গবাদিপশুগুলো।
অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে গেছে অশোকের তিনটি ঘর, একটি গরু, তিনটি ছাগল, জমি কেনার জন্য জমানো তিন লাখ টাকা এবং মেয়ের বিয়েতে দেওয়া প্রায় দুই লাখ টাকার স্বর্ণালংকার। একই আগুনে তাঁর দেবর নরেশ চন্দ্র রায়ের একটি ঘরও পুড়ে গেছে। পরিবারের সদস্যরা বলছেন, ‘এতগুলা ঋণ কীভাবে পরিশোধ করবো? মেয়ের এই স্বর্ণ কীভাবে দেবো? সব শেষ হয়ে গেছে। ঘরে কিছুই তো নাই।’
অশোক চন্দ্র রায় এলাকায় ঘুরে ঘুরে নারকেল ও খেজুরগাছের ডাল কাটেন এবং বিভিন্ন বাগানে কীটনাশক প্রয়োগের কাজ করেও সংসার চালান। তাঁর এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। মেয়ের তিন-চার বছর আগে বিয়ে হয়েছে। ছেলে জীবিকার তাগিদে ঢাকায় থাকেন। বাবার কাছ থেকে পাওয়া মাত্র দুই শতক জমির ওপরই ছিল তাঁদের বসতবাড়ি। অশোক বলেন, ‘বাপের কাছ থেকে দুই শতক জমি পাইছি। এইটুকু জমির ওপর কষ্ট করে বাড়ি করছি। ছেলে ঢাকায় থাকে। ছেলে বড় হয়েছে, বিয়ে দিতে হবে। এ জন্য মেয়েকে বিয়ে দেওয়ার পর কয়েক বছর ধরে কিস্তি নিয়ে, একটু একটু করে এলাকায় ঘুরে কাজকাম করে কিছু টাকা জমাইছিলাম। ভাবছিলাম, কিছু জমি কিনে বাড়ি করব, ছেলেকে বিয়ে দেব। কিন্তু আগুনে সব শেষ হয়ে গেল।’
অগ্নিকাণ্ডের প্রত্যক্ষদর্শী গোলাপী রানী বলেন, ‘সন্ধ্যায় ঘরের পূজাপাঠ শেষ করে বাইরে বের হইছিলাম। দেখি, ঘরের টিনের চাল দিয়ে দাউ দাউ করে আগুন বের হচ্ছে। তখন চিৎকার দিই। আমার চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে আগুন নেভানোর চেষ্টা করে। কিন্তু আগুন নেভানো যায়নি। ঘরে থাকা গরু-ছাগলগুলো গলা ফাটিয়ে ডাকতেছিল। পাশে দেয়াল থাকায় ভেতরে যাওয়াও সম্ভব হয়নি। ফায়ার সার্ভিস আসার পর আগুন নিভেছে, কিন্তু ততক্ষণে সব শেষ। মানুষটা পথে বসে গেল।’
"আমি রাতেই আগুন লাগার খবর শুনেছি। আজকে যাব, দেখি তাঁদের জন্য কিছু করতে পারি কি না।"
স্থানীয় লোকজন আগুন নেভানোর চেষ্টা করলেও তা নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেননি। খবর পেয়ে গঙ্গাচড়া ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তবে সরু ও চলাচলের অনুপযোগী রাস্তার কারণে তাদের পৌঁছাতে কিছুটা সময় লাগে। ততক্ষণে বসতঘর ও মালামালের বেশির ভাগই পুড়ে যায়। পরিবারের ধারণা, বাড়ির পূজার ঘর থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। তবে আগুন লাগার প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যায়নি। গঙ্গাচড়া ফায়ার সার্ভিসের ফায়ার ফাইটার আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হই। এতে প্রায় ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকার মালামাল উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। আমাদের পৌঁছানোর আগে প্রায় ২ লাখ ৭০ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।’
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: গঙ্গাচড়া উপজেলা, রংপুর
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: অশোক চন্দ্র রায় (৫০), চানু বালা, গোলাপী রানী, নরেশ চন্দ্র রায়, আরিফুল ইসলাম
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৮ লাখ টাকা (ক্ষতি), ৫০ বছর (অশোকের বয়স), ৫০ হাজার টাকা (কিস্তি), ৩০ হাজার টাকা (অবশিষ্ট কিস্তি), ২ লাখ টাকা (স্বর্ণালংকার), ২ লাখ ৭০ হাজার টাকা (ক্ষয়ক্ষতি)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!