📌 দক্ষিণ আফ্রিকার অনলাইন মাধ্যমে মুসলিমবিদ্বেষ বৃদ্ধির দাবি উঠলেও গ্রামীণ জনপদগুলোতে মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতি সহিষ্ণুতার চিত্র দেখা যাচ্ছে। শতবর্ষী ব্যক্তির মুসলিম হিসেবে শেষকৃত্য সম্পন্ন এবং স্থানীয় যুবকের ইসলাম ধর্ম গ্রহণের ঘটনা স্থানীয়দের সহাবস্থানের মানসিকতাকেই তুলে ধরে।
দক্ষিণ আফ্রিকার অনলাইন মাধ্যমগুলোতে মুসলিম সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক বক্তব্য বৃদ্ধির দাবি উঠলেও দেশটির গ্রামীণ জনপদগুলোতে সম্প্রীতি ও সহিষ্ণুতার বিরল দৃষ্টান্ত দেখা যাচ্ছে। দেশটির উত্তর কোয়াজুলু-নাটাল প্রদেশের গ্রামীণ জনপদ নকুথুতে শতবর্ষী ব্যক্তি জ্বেলিবি জ্যাক এনগুবানের শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে মুসলিম রীতিতে। তার ইচ্ছানুযায়ী মুসলিম হিসেবে দাফন করা হলেও স্থানীয় খ্রিস্টান ও ঐতিহ্যবাহী আফ্রিকান বিশ্বাসীদের প্রভাবিত অঞ্চলে এটি কোনো বিতর্কের জন্ম দেয়নি।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 দক্ষিণ আফ্রিকার অনলাইন মাধ্যমে মুসলিম সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক প্রচারণা বৃদ্ধির দাবি উঠলেও গ্রামীণ জনপদগুলোতে সম্প্রীতি বিরাজমান
- 📌 শতবর্ষী ব্যক্তি জ্বেলিবি জ্যাক এনগুবানের শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে মুসলিম রীতিতে, যা স্থানীয়দের কাছে ছিল নতুন অভিজ্ঞতা
- 📌 স্থানীয় যুবক খেথুকুথুলা ড্লামে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করায় তার গ্রামে কোনো বিরোধিতা দেখা দেয়নি
- 📌 দক্ষিণ আফ্রিকার মুসলিম জনসংখ্যা নিয়ে সরকারি ও ধর্মীয় নেতাদের মধ্যে ভিন্ন ভিন্ন পরিসংখ্যান রয়েছে
- 📌 দেশটির মুসলিম সম্প্রদায়ের ইতিহাস শতাব্দী প্রাচীন, যার শুরু ডাচ উপনিবেশ আমল থেকে
📰 বিস্তারিত
দক্ষিণ আফ্রিকার অনলাইন মাধ্যমগুলোতে মুসলিম সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক প্রচারণা বৃদ্ধির অভিযোগ উঠলেও দেশটির গ্রামীণ জনপদগুলোতে সম্প্রীতি ও সহিষ্ণুতার বিরল দৃষ্টান্ত দেখা যাচ্ছে। দেশটির উত্তর কোয়াজুলু-নাটাল প্রদেশের নকুথু অঞ্চলে শতবর্ষী ব্যক্তি জ্বেলিবি জ্যাক এনগুবানের শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে মুসলিম রীতিতে। তার ইচ্ছানুযায়ী মুসলিম হিসেবে দাফন করা হলেও স্থানীয় খ্রিস্টান ও ঐতিহ্যবাহী আফ্রিকান বিশ্বাসীদের প্রভাবিত অঞ্চলে এটি কোনো বিতর্কের জন্ম দেয়নি।
স্থানীয় মহিলা সামুকেলিসিওয়ে এনগুবান জানান, তার প্রথম মুসলিমদের সাথে পরিচয় হয়েছিল কাছাকাছি শহরের ভারতীয় দোকানদারদের মাধ্যমে। তিনি বলেন, “আমাদের কখনো কোনো সমস্যা হয়নি। কিছু মানুষ তাদের কাজকর্ম নিয়ে কৌতূহলী হলেও কোনো বিরোধিতা দেখা যায়নি।” তার ভাই খেথুকুথুলা ড্লামে ২০১২ সালে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করলেও তা স্থানীয়দের কাছে কোনো বিষয় হয়ে ওঠেনি। বর্তমানে ২৬ বছর বয়সী ড্লামে তার গ্রামের অন্যতম পরিচিত মুসলিম ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত। তার ইসলামিক পোশাক স্থানীয়দের কাছে উপহাসের বিষয় হলেও কোনো শত্রুতা নয়। এক প্রতিবেশী তাকে নিয়ে মজা করে বলেন, “সে যেন একটা পোশাক পরে আছে।”
দক্ষিণ আফ্রিকার মুসলিম নেতারা দেশটির মুসলিম জনসংখ্যা নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন পরিসংখ্যান দিচ্ছেন। সরকারি আদমশুমারি অনুযায়ী দেশটিতে মুসলিম জনসংখ্যা ১.৬ শতাংশ হলেও ধর্মীয় নেতারা তা ২ থেকে ৫ মিলিয়নের মধ্যে বলে দাবি করেন। দেশটির মুসলিম সম্প্রদায়ের ইতিহাস শতাব্দী প্রাচীন। ডাচ উপনিবেশ আমলে এশিয়া ও ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চল থেকে মুসলিমরা দক্ষিণ আফ্রিকায় আসতে শুরু করেন। ১৬৯৪ সালে ম্যাকাসার থেকে নির্বাসিত মুসলিম পণ্ডিত শায়খ ইউসুফের আগমনের আগেই কেপটাউনে মুসলিমদের উপস্থিতি ছিল।
"We have never had a problem. Some people are curious about what they [Muslims] do, but there have been no problems,"
"In these communities, there’s harmony and respect. People really respect my religion,"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: দক্ষিণ আফ্রিকার উত্তর কোয়াজুলু-নাটাল প্রদেশের নকুথু অঞ্চল
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: জ্বেলিবি জ্যাক এনগুবান, খেথুকুথুলা ড্লামে, সামুকেলিসিওয়ে এনগুবান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: মুসলিম জনসংখ্যা ১.৬ শতাংশ (সরকারি আদমশুমারি), মুসলিম জনসংখ্যা ২-৫ মিলিয়ন (ধর্মীয় নেতাদের দাবি)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!