📌 যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলায় গুরুতর আহত ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির ছয় মাসেও কোনো প্রকাশ্য উপস্থিতি মেলেনি। তাঁর জীবিত থাকা নিয়ে জনগণের মধ্যে সংশয় দেখা দিয়েছে, যদিও কর্মকর্তারা দাবি করছেন তিনি নিয়মিত রাষ্ট্র পরিচালনা করছেন
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় গুরুতর আহত হওয়ার পর ছয় মাস অতিবাহিত হলেও ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির কোনো প্রকাশ্য উপস্থিতি বা ভিডিও বার্তা এখনো প্রকাশ্যে আসেনি। তাঁর জীবিত থাকা নিয়ে জনগণের মধ্যে ক্রমেই সংশয় ঘনীভূত হচ্ছে। ইরানের কর্মকর্তারা অবশ্য দাবি করছেন, তিনি নিয়মিত রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণে সক্রিয় রয়েছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলায় গুরুতর আহত হন মোজতবা খামেনি, যার ফলে তিনি প্রকাশ্যে আসতে পারছেন না
- 📌 যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই তিনি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, তবে কোনো প্রকাশ্য উপস্থিতি নেই
- 📌 ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান দাবি করেছেন, তিনি মোজতবার সঙ্গে সাত ঘণ্টার বৈঠক করেছেন
- 📌 বিশ্লেষকদের মতে, তাঁর অনুপস্থিতির কারণে ইরানের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে
- 📌 ইরানের অর্থনীতি যুদ্ধের কারণে মারাত্মক চাপের মুখে রয়েছে, যা জনগণের জীবনযাত্রাকে আরও কঠিন করে তুলেছে
📰 বিস্তারিত
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন। সেই হামলায় তাঁর ছেলে মোজতবা খামেনিও গুরুতর আহত হন বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে। যুদ্ধ শুরুর এক সপ্তাহের মধ্যেই তাঁকে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে ঘোষণা করা হয়। তবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে এখন পর্যন্ত তাঁর কোনো প্রকাশ্য উপস্থিতি দেখা যায়নি। এমনকি গত মাসে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজা অনুষ্ঠানেও তিনি অনুপস্থিত ছিলেন।
ইরানের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মোজতবা খামেনি নিয়মিতভাবে দেশের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও সামরিক নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করছেন। তাঁকে সব গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও গোয়েন্দা প্রতিবেদন দেওয়া হচ্ছে এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তাঁর কাছ থেকেই আসছে। ওয়াশিংটনভিত্তিক মধ্যপ্রাচ্য বিশ্লেষক অ্যালেক্স ভাতাঙ্কা বলেন, ‘ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে মোজতবার অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। তাঁর অনুপস্থিতির কারণে দেশটির রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।’
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ১০ আগস্ট দাবি করেছেন, তিনি মোজতবার সঙ্গে সাত ঘণ্টার বৈঠক করেছেন। রয়টার্সের সঙ্গে কথা বলা এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, খুব সীমিত সংখ্যক ব্যক্তিই সরাসরি মোজতবার সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পান। তাঁর অবস্থান বা শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হচ্ছে না, কারণ এতে যুক্তরাষ্ট্র তাঁর অবস্থান শনাক্ত করে হামলা চালাতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।
তবে খামেনির ঘনিষ্ঠ একজন ব্যক্তি দাবি করেছেন, তাঁর শারীরিক অবস্থার উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে এবং তিনি মানসিকভাবে সম্পূর্ণ সচেতন রয়েছেন। অন্যদিকে রক্ষণশীল মহলের মধ্যে অস্বস্তি প্রকাশ পাচ্ছে। ধর্মীয় নগরী কোমের এক বাসিন্দা রয়টার্সকে বলেন, ‘আমাদের নেতার কণ্ঠ শুনতে হবে, অন্তত তাঁর কোনো ছবি দেখতে হবে।’
‘প্রশ্ন এখন আর মোজতবা জীবিত কি না, সেটি নয়। ইরানের কার্যকর কোনো সর্বোচ্চ নেতা আদৌ আছে কি না, সেটিই বড় প্রশ্ন।’ — অ্যালেক্স ভাতাঙ্কা, ওয়াশিংটনভিত্তিক মধ্যপ্রাচ্য বিশ্লেষক
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ইরান
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মোজতবা খামেনি, মাসুদ পেজেশকিয়ান, অ্যালেক্স ভাতাঙ্কা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৮ ফেব্রুয়ারি, ১০ আগস্ট
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!