📌 সোনিয়া গান্ধীর আসন্ন আত্মজীবনী 'বিলংগিং' প্রকাশের আগেই আলোচনার ঝড় তুলেছে। ইতালির এক সাধারণ তরুণী থেকে ভারতের সবচেয়ে প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেত্রী হয়ে ওঠার গল্পে উঠে এসেছে গান্ধী পরিবারের সুখ-দুঃখ, ক্ষমতার খেলা ও রাজনীতির অমীমাংসিত রহস্য
ভারতের রাজনীতির অন্যতম রহস্যময়ী ব্যক্তিত্ব সোনিয়া গান্ধীর জীবনকথা নিয়ে আসন্ন আত্মজীবনী 'বিলংগিং: আ জার্নি অব লাভ' প্রকাশের আগেই ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করা সোনিয়া গান্ধী তার জীবনের সুখ ও গভীর হতাশার কথা তুলে ধরেছেন এই গ্রন্থে। যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যে প্রকাশিতব্য এই বইটি আগামী নভেম্বরে ভারতে প্রকাশিত হবে বলে জানানো হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 সোনিয়া গান্ধীর জীবনীগ্রন্থ 'বিলংগিং: আ জার্নি অব লাভ' আগামী নভেম্বরে প্রকাশিত হবে
- 📌 বইটিতে উঠে এসেছে গান্ধী পরিবারের সুখ ও দুঃখের অধ্যায়, যার মধ্যে রয়েছে ইন্দিরা গান্ধী ও রাজীব গান্ধীর হত্যার ঘটনা
- 📌 প্রকাশনা সংস্থা পেঙ্গুইন র্যান্ডম হাউস ইন্ডিয়ার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক চাপের অভিযোগ তুলেছেন কংগ্রেস নেতারা
- 📌 সোনিয়া গান্ধী তার জীবনের শুরু ইতালির একটি ছোট শহর থেকে শুরু করে ভারতীয় রাজনীতির কেন্দ্রস্থলে পৌঁছানোর গল্প বর্ণনা করেছেন
- 📌 বইটির শুরু হয়েছে ১৯৬৫ সালে কেমব্রিজে রাজীব গান্ধীর সঙ্গে তার পরিচয়ের ঘটনা দিয়ে
📰 বিস্তারিত
১৯৯৮ সালে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের সময় সোনিয়া গান্ধী সম্পর্কে খুব বেশি তথ্য জানা ছিল না। তাকে অনেকেই 'অনিচ্ছুকভাবে রাজনীতিতে প্রবেশ করা একজন' হিসেবে দেখতেন। ইতালিতে জন্মগ্রহণ করা সোনিয়া ছিলেন ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীর স্ত্রী। প্রথম দিকে তিনি রাজনীতির আলোচনার বাইরে থাকার চেষ্টা করলেও পরবর্তীতে তিনি দলের নেতৃত্ব দেন। ইন্ডিয়া টুডে পত্রিকার প্রতিবেদনে তাকে 'দলের নেতাদের কাছেও এক রহস্যময় ব্যক্তিত্ব' হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছিল।
কড়া নিরাপত্তা বলয়ে ঘেরা সোনিয়া গান্ধী জনসমক্ষে খুব কম কথা বলতেন। বিদেশি উচ্চারণে সংক্ষিপ্ত উত্তর দেওয়ার কারণে তিনি অনেকটাই বিচ্ছিন্ন ছিলেন। তবে ইন্ডিয়া টুডে জানায়, এই নীরবতার মধ্যেই তিনি ক্ষমতার ব্যবহার রপ্ত করেছিলেন। তিনি বিভিন্ন পক্ষের মতামত মনোযোগ দিয়ে শুনতেন, তথ্য সংগ্রহ করতেন এবং সব দিক বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিতেন। পত্রিকাটির ভাষায়, "সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া থেকে কাউকে বাইরে রাখা হয় না এবং কারও কণ্ঠও দমিয়ে দেওয়া হয় না। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তার সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হয়।"
সোনিয়া গান্ধীর ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবন ছিল স্বজন হারানোর দুঃখ আর উত্থান-পতনে ভরা। তার শাশুড়ি ইন্দিরা গান্ধীকে যখন তারই নিরাপত্তারক্ষীরা গুলি করেছিলেন, তখন তিনিই তাকে হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিলেন। এর সাত বছর পর এক আত্মঘাতী হামলাকারী তার স্বামী রাজীব গান্ধীকে হত্যা করে। সেই ঘটনার পর তিনি তার মরদেহ বাড়িতে নিয়ে আসেন।
আলফ্রেড এ. নফ এবং উইলিয়াম কলিন্স প্রকাশিতব্য এই বইটির শুরু হয়েছে ১৯৬৫ সালের কেমব্রিজ থেকে, যেখানে ১৯ বছরের ইতালীয় ছাত্রী সোনিয়া মাইনো রাজীব গান্ধীর প্রেমে পড়েন। প্রকাশকদের মতে, বইটির এই অংশে সোনিয়া গান্ধী অত্যন্ত আন্তরিকতা ও খোলামেলা ভঙ্গিতে তার জীবনের দিকে ফিরে তাকিয়েছেন।
"আমার হৃদয়ের সেই যাত্রার সাক্ষ্য হয়ে থাকুক, যার মধ্যে আমার জীবনের সুখ এবং গভীর হতাশা দুটোই রয়েছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সোনিয়া গান্ধী
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৯ বছর (বইয়ের শুরুতে সোনিয়ার বয়স), ৮ মিনিট (পড়ার সময়)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!