📌 রাশিয়া শীতকালে ইউক্রেনের অবকাঠামো ধ্বংস করে দেশটিকে দুর্বল করার পরিকল্পনা করছে বলে মনে করেন ইউক্রেনের রাষ্ট্রপতি ভলোদিমির জেলেনস্কি। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চাপে পুতিন আলোচনা শুরু করতে বাধ্য হতে পারেন। মার্কিন দূতরা মস্কো ও কিয়েভে আলোচনার জন্য প্রস্তুত বলে জানান জেলেনস্কি
রাশিয়া শীতকালে ইউক্রেনের অবকাঠামো ধ্বংস করে দেশটিকে ‘ভেঙে ফেলার’ চেষ্টা করছে বলে মনে করেন ইউক্রেনের রাষ্ট্রপতি ভলোদিমির জেলেনস্কি। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাচনী চাপে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন আলোচনা শুরু করতে বাধ্য হতে পারেন। মার্কিন দূতদের মস্কো ও কিয়েভ সফরের পর জেলেনস্কি জানান, পুতিন শীতকালীন অভিযানের মাধ্যমে ইউক্রেনের ওপর ‘শক্তিশালী ধাক্কা’ দিতে চান, যাতে কিয়েভ আরও বেশি ছাড় দিতে বাধ্য হয়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **শীতকালীন অভিযানের পরিকল্পনা**: রাশিয়া শীতকালে ইউক্রেনের অবকাঠামো ধ্বংস করে দেশটিকে ‘ভেঙে ফেলার’ চেষ্টা করছে বলে মনে করেন জেলেনস্কি। তিনি বলেন, মস্কো আশা করছে বড় ধরনের শীতকালীন অভিযান ইউক্রেনের ওপর একটি ‘শক্তিশালী ধাক্কা’ দেবে।
- 📌 **ট্রাম্পের চাপে পুতিন**: জেলেনস্কি জানান, পুতিন মার্কিন নির্বাচনের আগে ট্রাম্পকে কূটনৈতিক সাফল্য এনে দিতে চাইতে পারেন। মার্কিন দূতরা মস্কো ও কিয়েভে আলোচনার জন্য প্রস্তুত বলে জানান জেলেনস্কি।
- 📌 **আলোচনার সম্ভাবনা**: মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার গত রোববার মস্কোর ক্রেমলিনে পুতিনের সঙ্গে তিন ঘণ্টার বৈঠক করেন। এরপর তারা কিয়েভে যান এবং জেলেনস্কির সঙ্গে আলোচনা করেন।
- 📌 **শীতকালীন সহায়তা প্যাকেজ**: ইউক্রেনের জন্য যুক্তরাষ্ট্র একটি আলাদা ‘উইন্টার প্যাকেজ’ বা শীতকালীন সহায়তা প্যাকেজের কথা বলেছেন জেলেনস্কি। এতে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং জ্বালানি সহায়তা থাকবে।
- 📌 **জ্বালানি ও অবকাঠামো নিয়ে আলোচনা**: জেলেনস্কি জানান, মার্কিন দূতদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে জ্বালানি স্থাপনা, শস্য পরিবহন, বিদ্যুৎ স্থাপনা এবং তেল ও গ্যাস রপ্তানি নিয়ে। তবে তিনি বলেন, রাশিয়া ও ইউক্রেনের স্বার্থ এখনো ভিন্ন।
📰 বিস্তারিত
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাচনী চাপে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেনের সঙ্গে আলোচনা শুরু করতে বাধ্য হতে পারেন। ইউক্রেনের রাষ্ট্রপতি ভলোদিমির জেলেনস্কি গতকাল সোমবার অ্যাক্সিওসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, পুতিন শীতকালীন অভিযানের মাধ্যমে ইউক্রেনের ওপর ‘শক্তিশালী ধাক্কা’ দিতে চান। তিনি বলেন, ‘রাশিয়া সত্যিই মনে করে, এই শীত তাদের আমাদের ভেঙেচুরে ফেলতে সাহায্য করতে পারে।’
জেলেনস্কি জানান, মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার গত রোববার মস্কোর ক্রেমলিনে পুতিনের সঙ্গে তিন ঘণ্টার বৈঠক করেন। এরপর তারা কিয়েভে যান এবং জেলেনস্কির সঙ্গে আলোচনা করেন। জেলেনস্কি বলেন, মার্কিন দূতদের কাছ থেকে তিনি যে বার্তা পেয়েছেন তা হলো, ‘রাশিয়ানরা আলোচনার জন্য প্রস্তুত।’ তবে তিনি এখনো সন্দিহান। কারণ যুদ্ধক্ষেত্রে রাশিয়ার কর্মকাণ্ড এবং সাম্প্রতিক হামলা বৃদ্ধি কোনো ধরনের সমঝোতার ইচ্ছার প্রমাণ দিচ্ছে না।
জেলেনস্কি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের দূতরা মস্কো ও কিয়েভে মূলত কূটনৈতিক প্রক্রিয়াকে সচল করার উদ্দেশ্যেই গিয়েছিলেন। তবে তারা কিছু নতুন ধারণাও নিয়ে এসেছেন। তিনি বলেন, শীতের আগে এবং শীতকাল চলাকালে রাশিয়া ও ইউক্রেনের সম্ভাব্য উত্তেজনা কমানোর কিছু পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। জেলেনস্কি জানান, ‘জ্বালানি স্থাপনা নিয়ে কিছু ধারণা আছে, শস্য পরিবহন নিয়ে আছে, বিদ্যুৎ স্থাপনা এবং তেল ও গ্যাস রপ্তানি নিয়েও আছে। রাশিয়া ও আমাদের স্বার্থ ভিন্ন।’
"আমার অনুভূতি হলো, পুতিনের ট্রাম্পকে প্রয়োজন। তিনি তাকে বিরক্ত করতে চান না।"
জেলেনস্কি বলেন, পুতিন যুদ্ধের উত্তেজনা কমাতে না চাইলেও ট্রাম্প প্রশাসন তাকে সে পথে যেতে চাপ দিতে পারে। তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ, পুতিন মার্কিন নির্বাচনের আগে ট্রাম্পকে কোনো কূটনৈতিক সাফল্য এনে দিতে চাইতে পারেন।’
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: মস্কো (ক্রেমলিন), কিয়েভ (ইউক্রেন), নিউইয়র্ক (যুক্তরাষ্ট্র)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ভলোদিমির জেলেনস্কি, ভ্লাদিমির পুতিন, ডোনাল্ড ট্রাম্প, স্টিভ উইটকফ, জ্যারেড কুশনার
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩ ঘণ্টা (বৈঠক সময়), শীতকালীন সহায়তা প্যাকেজ (বিমান প্রতিরক্ষা ও জ্বালানি সহায়তা)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!