📌 রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে কৃষ্ণসাগরে ডলফিন ও অন্যান্য জলচর প্রাণীদের মৃত্যুতে দিনে দিনে বৃদ্ধি পাচ্ছে। ২০২২ সাল থেকে ১২০ হাজারেরও বেশি ডলফিন মৃত্যুবরণ করেছে, যার মধ্যে অনেকের মৃত্যু নেটে ফাঁসা থেকে মুক্তি পাওয়ার পরও ঘটে। যুদ্ধের কারণে সাগরে বিস্ফোরণ, সোনার ব্যবহার এবং রাসায়নিক দূষণ প্রাণীজগতের ভারসাম্য ভেঙ্গে দিচ্ছে।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে কৃষ্ণসাগরের প্রাণীজগতের ধ্বংসের পরিমাণ অপরিসীম। বিশেষজ্ঞদের মতে, যুদ্ধের কারণে সাগরে ডলফিন ও অন্যান্য জলচর প্রাণীদের মৃত্যুতে দিনে দিনে বৃদ্ধি পাচ্ছে। ২০২২ সালে মাত্র ৫০ হাজার ডলফিনের মৃত্যু হয়েছিল, কিন্তু ২০২৬ সালের মধ্যে এই সংখ্যা ১২০ হাজারের উপরে উঠেছে, যা সাগরের মোট ডলফিন জনসংখ্যার এক চতুর্থাংশ।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **১২০ হাজার ডলফিনের মৃত্যু**: ২০২২ সাল থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে কৃষ্ণসাগরে ১২০ হাজারেরও বেশি ডলফিন মৃত্যুবরণ করেছে, যা সাগরের ডলফিন জনসংখ্যার এক চতুর্থাংশ।
- 📌 **যুদ্ধের প্রভাব**: রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে সাগরে বিস্ফোরণ, ক্রুজ মিসাইল প্রক্ষেপণ এবং নৌকা সোনারের ব্যবহার ডলফিনদের অন্ধকারে ফেলছে। এছাড়াও, যুদ্ধের কারণে ডুবে যাওয়া জাহাজ থেকে তেল, রাসায়নিক ও মেশিন তেলের স্রাব সাগরের জলদূষণ বাড়িয়ে দিচ্ছে।
- 📌 **ডলফিনের মৃত্যু কারণ**: ডলফিনরা নেটে ফাঁসা থেকে মুক্তি পেলেও, যুদ্ধের কারণে তাদের শিকার করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। তারা নিজেদের জৈব-তেল খেয়ে খাদ্য সংগ্রহ করতে শুরু করে, যা তাদের রোগপ্রবণ করে তোলে।
- 📌 **বিশ্বাসঘাতকতা**: রাশিয়া যুদ্ধের কারণে ডলফিনের মৃত্যুকে "জীবাণু ও কীটপতঙ্গের আক্রমণ" বলে দোষারোপ করছে, কিন্তু ইউক্রেনের বিশেষজ্ঞরা এই দাবিকে অস্বীকার করে সোনার ও যুদ্ধের সরাসরি প্রভাবকে দায়ী করছেন।
- 📌 **বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত সাগর**: কৃষ্ণসাগর বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত সাগরগুলির মধ্যে একটি। যুদ্ধের কারণে এখানে অক্সিজেনের ঘাটতি বেড়েছে, যার ফলে ৫০ থেকে ১০০ মিটার গভীরতায় কোনো প্রাণী বা উদ্ভিদ বেঁচে থাকতে পারে না।
📰 বিস্তারিত
ইউক্রেনের তুজলি লাগুন জাতীয় উদ্যানের প্রধান গবেষক ইভান রুসেভের মতে, যুদ্ধের কারণে ডলফিনদের মৃত্যুতে "হাজার গুণ বেশি" বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি বলেছেন, ডলফিনরা তাদের প্রধান শিকার করার উপায়, ইকোলোকেশন (সাউন্ড ভিত্তিক নেভিগেশন) হারিয়ে ফেলেছে। যুদ্ধের কারণে সাগরে বিস্ফোরণ, ক্রুজ মিসাইল প্রক্ষেপণ এবং নৌকা সোনারের ব্যবহার তাদের শুনতে বাধা দেয়। ফলে তারা খাদ্য সংগ্রহ করতে অক্ষম হয়ে পড়ে এবং নিজেদের জৈব-তেল খেয়ে খাদ্য সংগ্রহ করতে শুরু করে। এই তেলে আগে থেকেই জলদূষণ, কৃষি নিষ্কাশন, মাইক্রোপ্লাস্টিক এবং অ্যান্টিবায়োটিকের মিশ্রণ ছিল। ফলে তাদের রোগপ্রবণতা বেড়ে যায় এবং তারা মরবিলিভাইরাসের কারণে শ্বাসকষ্টের রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করে।
২০২৩ সালে ডনিপ্রো নদীর কাখোভকা বাঁধ ধ্বংস হওয়ার পর, নদী থেকে ১৮ ঘন কিলোমিটার জল সাগরে মিশেছে। এই জলে কৃষি রাসায়নিক, ভারী ধাতু এবং মেশিন তেলের মিশ্রণ ছিল। এই দূষিত জল কৃষ্ণসাগরের প্রাণীজগতকে আরও ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। মুলেট ও ব্লুফিশের মতো মাছের সংখ্যা কমে গেছে, যদিও যুদ্ধের কারণে মাছ ধরার উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
বুলগেরিয়ার সবচেয়ে পুরাতন পরিবেশ সংরক্ষণ সংস্থা গ্রিন বালকানসের ডিমিতার পোপভ বলেছেন, যুদ্ধের কারণে ডলফিনের মৃত্যুতে বাড়তি চাপ পড়েছে। তবে অনেক মৃত ডলফিনের শরীরের অবস্থা খারাপ হওয়ায় তাদের মৃত্যুর কারণ নির্ধারণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। তিনি বলেছেন, "যুদ্ধের সময় নৌকা ও উপনিবেশের সোনার সিস্টেম ডলফিনদের ইকোলোকেশন ক্ষমতা নষ্ট করে দেয়।"
রাশিয়া যুদ্ধের কারণে ডলফিনের মৃত্যুকে "জীবাণু ও কীটপতঙ্গের আক্রমণ" বলে দোষারোপ করছে, কিন্তু ইউক্রেনের বিশেষজ্ঞরা এই দাবিকে অস্বীকার করে সোনার ও যুদ্ধের সরাসরি প্রভাবকে দায়ী করছেন।
"হাজার গুণ বেশি ডলফিনের মৃত্যু হয়েছে যুদ্ধের কারণে। ডলফিনরা তাদের প্রধান শিকার করার উপায় হারিয়ে ফেলেছে। তারা খাদ্য সংগ্রহ করতে অক্ষম হয়ে পড়ে এবং নিজেদের জৈব-তেল খেয়ে খাদ্য সংগ্রহ করতে শুরু করে।"
"ডলফিনরা খাদ্য সংগ্রহ করতে না পেরে দ্রুত ওজন হারায়।"
"ডলফিনরা খাদ্য শৃঙ্খলের শীর্ষে থাকায়, তাদের মৃত্যু থেকে শুরু করে জোফ্ল্যাঙ্কটন পর্যন্ত সবকিছুই প্রভাবিত হয়।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: কৃষ্ণসাগর, তুজলি লাগুন (ইউক্রেন), বুলগেরিয়া, রোমানিয়া, তুরস্ক
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ইভান রুসেভ (তুজলি লাগুন জাতীয় উদ্যানের প্রধান গবেষক), ডিমিতার পোপভ (গ্রিন বালকানসের প্রধান)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১২০,০০০ (ডলফিনের মৃত্যু), ৫০,০০০ (২০২২ সালের ডলফিনের মৃত্যু), ১৮ (ঘন কিলোমিটার জল, কাখোভকা বাঁধ ধ্বংসের কারণে)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!