📌 সিলেটের সুবিদবাজারে এক ব্যবসায়ীর বাড়িতে চাঁদা না দিতে গিয়ে বিএনপি নেতা আব্দুল ওয়াদুদ মিলনসহ ২০ জনের বিরুদ্ধে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে ১৫ লাখ টাকার মূল্যের জিনিসপত্র লুট করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে
সিলেটের সুবিদবাজার এলাকায় এক ব্যবসায়ীর বাড়িতে চাঁদা দাবি না মেনে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। অভিযোগে বিএনপির ওয়ার্ড সভাপতি আব্দুল ওয়াদুদ মিলনসহ ২০ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটে গত বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাতে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 সিলেটের সুবিদবাজার বনকলাপাড়ায় এক ব্যবসায়ীর বাড়িতে চাঁদা না দিতে গিয়ে ২৯ অক্টোবর রাতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
- 📌 অভিযোগে ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আব্দুল ওয়াদুদ মিলনসহ ২০ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অজ্ঞাতনামা ৪০-৫০ জনও আসামি হিসেবে চিহ্নিত।
- 📌 হামলাকারীরা রামদা, দা, লোহার রড, পাইপ, বাঁশের লাঠি, চাইনিজ কুড়াল ও চাকুসহ অস্ত্র নিয়ে ঘরের টিন, দরজা, জানালা ও লোহার রডসহ ১৫ লাখ টাকার মূল্যের জিনিসপত্র লুট করে নেয়।
- 📌 ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মো. আব্দুল বাছির খান ইসমাইল (২৮) দাবি করেন, ওয়ার্ড সভাপতি আব্দুল ওয়াদুদ মিলনের নির্দেশে জামাল আহমদ খান ওরফে কালা জামালের নেতৃত্বে হামলা চালানো হয়েছে।
- 📌 জামাল আহমদ খান ওরফে কালা জামাল দাবি করেন, তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন এবং এলাকাবাসীদের সঙ্গে কেয়ারটেকারের বিরোধের কারণে ঘটনা ঘটেছে।
- 📌 এয়ারপোর্ট থানায় অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে। পুলিশ তদন্তের জন্য কর্মকর্তা পাঠিয়েছে।
📰 বিস্তারিত
সিলেটের সুবিদবাজার বনকলাপাড়ায় গত বৃহস্পতিবার রাত ৯টায় এক ব্যবসায়ীর বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। অভিযোগে ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আব্দুল ওয়াদুদ মিলনসহ ২০ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়াও অজ্ঞাতনামা ৪০-৫০ জনকে আসামি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে এক প্রভাবশালী মহল ২৪ শতক জমি জোরপূর্বক দখল করার চেষ্টা করছিল। জমি ছেড়ে দেওয়ার বিনিময়ে বিপুল চাঁদা দাবি করা হত। প্রথমে দুই লাখ টাকা দাবি করা হলেও পরে পাঁচ লাখ টাকা চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মো. আব্দুল বাছির খান ইসমাইল (২৮) চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে হামলা চালানো হয়।
হামলাকারীরা রামদা, দা, লোহার রড, পাইপ, বাঁশের লাঠি, চাইনিজ কুড়াল ও চাকুসহ বিভিন্ন অস্ত্র নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়। তারা সেমিপাকা ও টিনশেড ঘরের দরজা-জানালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট করেন। লুট করা জিনিসপত্রের মধ্যে ছিল টিন, দরজা, জানালা, লোহার রডসহ অন্যান্য মূল্যবান জিনিসপত্র। এসব মালামালের আনুমানিক বাজারমূল্য ১৫ লাখ টাকা বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মো. আব্দুল বাছির খান ইসমাইল বলেন, ‘আমরা কেউ এখানে থাকি না। শুধু একজন কেয়ারটেকার থাকেন। অভিযুক্ত ব্যক্তিরা বিভিন্ন সময়ে তাঁর কাছে গিয়ে চাঁদা দাবি করতেন। ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতির নির্দেশে কালা জামাল ও শফিকের নেতৃত্বে এ হামলা চালানো হয়েছে। বর্তমানে আমরা বাড়িটি নিয়ে শঙ্কায় আছি।’
অভিযোগের বিষয়ে জেলা যুবদলের বহিষ্কৃত নেতা জামাল আহমদ খান ওরফে কালা জামাল বলেন, ‘আমি সামনে কাউন্সিলর নির্বাচনে দাঁড়াব। এ কারণে আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। আমি এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িত নই। এলাকাবাসীর সঙ্গে ওই বাড়ির কেয়ারটেকারের বিরোধ হয়েছে। এ নিয়ে এলাকায় সালিসও হয়েছে। এর আগেও কেয়ারটেকার থানায় অভিযোগ করেছেন। বৃহস্পতিবার আমি সেখানে ছিলাম না। আমি এলাকাবাসীদের সঙ্গে আছি।’
অভিযোগের বিষয়ে ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আব্দুল ওয়াদুদ মিলন বলেন, ‘আমি এ বিষয়ে কিছু জানি না। কারা ভাঙচুর করেছে, সেটাও জানি না। পুলিশ আমাকে এ ঘটনার কথা জানিয়েছিল। পরে আমি সেখানে গিয়েছিলাম। এলাকাবাসীর সঙ্গে কী একটা বিষয় নিয়ে ঝামেলা হয়েছে বলে শুনেছি।’
"আমরা কেউ এখানে থাকি না। শুধু একজন কেয়ারটেকার থাকেন। অভিযুক্ত ব্যক্তিরা বিভিন্ন সময়ে তাঁর কাছে গিয়ে চাঁদা দাবি করতেন। ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতির নির্দেশে কালা জামাল ও শফিকের নেতৃত্বে এ হামলা চালানো হয়েছে। বর্তমানে আমরা বাড়িটি নিয়ে শঙ্কায় আছি।" — মো. আব্দুল বাছির খান ইসমাইল
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: সুবিদবাজার, বনকলাপাড়া, সিলেট
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আব্দুল ওয়াদুদ মিলন (৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি সভাপতি), জামাল আহমদ খান ওরফে কালা জামাল, মো. আব্দুল বাছির খান ইসমাইল
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৪ শতক জমি, ৭ নম্বর ওয়ার্ড, ২০ জন অভিযুক্ত, ৪০-৫০ জন অজ্ঞাতনামা আসামি, ২৮ বছর বয়সী ভুক্তভোগী, ১৫ লাখ টাকা মূল্যের লুট করা জিনিসপত্র
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!