📌 ভারতের সুপ্রিম কোর্ট বলেছে, সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পর পূর্বের সম্মত যৌনতা ধর্ষণ হিসেবে গণ্য হবে না। বিচারপতি নাগারথনা বলেছেন, প্রতারণা ও অনুশোচনা ভিন্ন বিষয় এবং অতীতের সম্মত যৌনতা নতুন করে ধর্ষণ আখ্যা দেওয়া যাবে না
ভারতের সুপ্রিম কোর্ট সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পর পূর্বের সম্মতিভিত্তিক যৌনতা ‘ধর্ষণ’ হিসেবে গণ্য করা যাবে না বলে স্পষ্ট রায় দিয়েছে। বিচারপতি বি. ভি. নাগারথনার নেতৃত্বে বেঞ্চ গত শুক্রবার একটি আপিলের শুনানি শেষে এই মন্তব্য করেছেন। আদালত জানিয়েছেন, সম্পর্কের অবনতি বা বিচ্ছেদের পর অতীতের সম্মত যৌন সম্পর্ককে ধর্ষণ আখ্যা দেওয়া যাবে না।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ভারতের সুপ্রিম কোর্ট ঘোষণা: সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পর সম্মত যৌনতা ধর্ষণ নয়
- 📌 বিচারপতি নাগারথনা: প্রতারণা ও অনুশোচনা ভিন্ন বিষয়, অতীতের সম্মত যৌনতা নতুন করে ধর্ষণ আখ্যা দেওয়া যাবে না
- 📌 কেরালা থেকে আসা মামলায় সাত বছরের সম্পর্কের অবনতির পর এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ ছিল
- 📌 অভিযোগকারী নারীর দাবি: ব্যক্তি তাঁর আগের বিয়ে ও দুই সন্তানের তথ্য গোপন রেখেছিলেন
- 📌 আদালত উদ্বেগ প্রকাশ: সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পর অতীতের সম্মত যৌনতা ধর্ষণ আখ্যা দেওয়ার প্রবণতা বেড়েছে
- 📌 বিচারপতি বলেন: ধর্ষণ একটি অত্যন্ত ঘৃণ্য অপরাধ, শুধুমাত্র প্রকৃত যৌন সহিংসতা বা বলপ্রয়োগের ঘটনাই ধর্ষণ হিসেবে গণ্য হবে
- 📌 আদালত সতর্কতা: আইনি বিধির অপব্যবহার থেকে বিরত থাকতে হবে, প্রকৃত যৌন সহিংসতার ক্ষেত্রে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে
📰 বিস্তারিত
ভারতের সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি বি. ভি. নাগারথনার নেতৃত্বে বেঞ্চ গত শুক্রবার একটি আপিলের শুনানি শেষে একটি গুরুত্বপূর্ণ রায় দিয়েছেন। এই রায়ে বলা হয়েছে, সম্পর্কের অবনতি বা বিচ্ছেদের পর অতীতের সম্মত যৌন সম্পর্ককে ধর্ষণ হিসেবে গণ্য করা যাবে না। বিচারপতি নাগারথনা বলেছেন, প্রতারণার মাধ্যমে সম্মতি নেওয়া এবং সম্পর্ক শেষ হওয়ার পর অনুশোচনা বোধ করার মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য টানা প্রয়োজন।
মামলাটি কেরালা থেকে আসা একটি ঘটনার উপর ভিত্তি করে। সাত বছরের একটি সম্পর্কের অবনতি হওয়ার পর এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগ আনা হয়েছিল। অভিযোগকারী নারীর দাবি ছিল, ওই ব্যক্তি তাঁর আগের বিয়ে ও দুই সন্তানের তথ্য গোপন রেখেছিলেন। বিচারপতি নাগারথনা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সম্পর্ক শেষ হওয়ার পর অতীতে ঘটে যাওয়া সম্মতিভিত্তিক ঘটনাগুলোকে নতুন করে পর্যালোচনা করে পরবর্তীতে যৌন সহিংসতা হিসেবে চিহ্নিত করার এক আশঙ্কাজনক প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।
বিচারপতি নাগারথনা আরও বলেছেন, ‘সম্পর্কের টানাপোড়েনের পর অতীতে ঘটে যাওয়া শারীরিক ঘনিষ্ঠতাকে পেছনের তারিখে গিয়ে ধর্ষণ আখ্যা দেওয়া যায় না। এতে পুরুষ সঙ্গীর স্বাধীন সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার ক্ষুণ্ন হয় এবং অতীতের সম্মতির কারণে ভবিষ্যতে ধর্ষণের মামলার ভয়ে সম্পর্ক বজায় রাখতে বাধ্য থাকার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়।’
বিচারপতি নাগারথনা আরও উল্লেখ করেছেন, ‘ধর্ষণ একটি অত্যন্ত ঘৃণ্য অপরাধ এবং প্রকৃত যৌন সহিংসতা বা বলপ্রয়োগের ঘটনার ক্ষেত্রেই এটি সীমাবদ্ধ থাকা উচিত। প্রতিটি ব্যর্থ সম্পর্ককে যখন ধর্ষণের অভিযোগে রূপ দেওয়া হয়, তখন অপরাধটির গুরুত্ব যেমন হ্রাস পায়, তেমনি অভিযুক্ত ব্যক্তিকে অপূরণীয় সামাজিক নিপীড়ন ও অন্যায়ের মুখোমুখি হতে হয়।’
"সম্পর্কের টানাপোড়েনের পর অতীতে ঘটে যাওয়া শারীরিক ঘনিষ্ঠতাকে পেছনের তারিখে গিয়ে ধর্ষণ আখ্যা দেওয়া যায় না। এতে পুরুষ সঙ্গীর স্বাধীন সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার ক্ষুণ্ন হয় এবং অতীতের সম্মতির কারণে ভবিষ্যতে ধর্ষণের মামলার ভয়ে সম্পর্ক বজায় রাখতে বাধ্য থাকার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ভারত
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: বিচারপতি বি. ভি. নাগারথনা, অভিযোগকারী নারী, অভিযুক্ত ব্যক্তি
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: সাত বছর (সম্পর্কের দৈর্ঘ্য)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!