📌 রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে প্রথম সড়ক সেতু উদ্বোধন করা হয়েছে। এই সেতুটি ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার সামরিক সহায়তার জন্য গোপন রসদ সরবরাহের করিডর হিসেবে ব্যবহৃত হবে বলে অভিযোগ করা হচ্ছে। প্রতিদিন ৩০০টি যানবাহন ও ২ হাজার ৩২৩ জন মানুষ সেতু পারতে পারবেন
রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে প্রথম সড়ক সেতু আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়েছে। এই সেতুটি তুমেন নদীর ওপর নির্মিত এবং সীমান্ত পেরিয়ে পণ্য ও যাত্রী পরিবহনকে সহজতর করবে। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম তাসের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন সর্বোচ্চ ৩০০টি যানবাহন ও ২ হাজার ৩২৩ জন মানুষ সেতু পারতে পারবেন। উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, সেতুটি ‘জনবল বিনিময়, পর্যটন ও বাণিজ্যের’ কাজে ব্যবহৃত হবে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **রাশিয়া-উত্তর কোরিয়া সেতু উদ্বোধন**: রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মিখাইল মিশুস্তিন সেতুটিকে ‘বন্ধুত্বের নতুন প্রতীক’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। উত্তর কোরিয়ার প্রধানমন্ত্রী পাক থায়ে সং এটিকে ‘ঐতিহাসিক ঘটনা’ বলেছেন।
- 📌 **সামরিক সহায়তার করিডর**: ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়াকে সহায়তার জন্য গোপন সামরিক রসদ সরবরাহ করিডর হিসেবে সেতু নির্মাণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হচ্ছে।
- 📌 **বাণিজ্যিক ও সামরিক ব্যবহার**: সেতুটি ব্যবহার করে উত্তর কোরীয় সামরিক সদস্য, নির্মাণশ্রমিক ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সরাসরি রাশিয়ায় পাঠানো হতে পারে।
- 📌 **বিশেষ বৈশিষ্ট্য**: সেতুটি প্রাথমিকভাবে পণ্য পরিবহনে ব্যবহৃত হবে। পরে চলতি বছরের শেষ দিকে এটি যাত্রী পরিবহনের জন্য খুলে দেওয়া হবে।
- 📌 **নির্মাণের ইতিহাস**: ২০২৪ সালে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের উত্তর কোরিয়া সফরে সেতু নির্মাণের বিষয়ে চুক্তি হয়। ২৪ বছর পর সেটিই ছিল পুতিনের উত্তর কোরিয়ায় প্রথম সফর। নির্মাণকাজ ৪৯৫ দিনে সম্পন্ন হয়।
- 📌 **বাণিজ্যিক সম্পর্ক**: দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দা সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, উত্তর কোরিয়া ইতিমধ্যে রাশিয়ায় ৭ থেকে ১৪ বিলিয়ন ডলার মূল্যের সামরিক সরঞ্জাম পাঠিয়েছে।
- 📌 **শ্রমিক ও পর্যটন**: বর্তমানে প্রায় ১০ হাজার উত্তর কোরীয় রাশিয়ার বিভিন্ন নির্মাণস্থলে কাজ করছেন। সীমিতসংখ্যক রুশ পর্যটক উত্তর কোরিয়ায় যেতে শুরু করেছেন।
📰 বিস্তারিত
রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে নির্মিত নতুন সড়ক সেতুটি তুমেন নদীর ওপর অবস্থিত। এই সেতুটি দিয়ে প্রতিদিন সর্বোচ্চ ৩০০টি যানবাহন ও ২ হাজার ৩২৩ জন মানুষ সীমান্ত পার হতে পারবেন। উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, সেতুটি ‘জনবল বিনিময়, পর্যটন ও বাণিজ্যের’ কাজে ব্যবহৃত হবে। তবে ইউক্রেনের উন্মুক্ত উৎসভিত্তিক গোয়েন্দা সংস্থা ট্রুথ হাউন্ডসের তথ্য অনুযায়ী, এই সেতুটি মূলত ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়াকে সহায়তার জন্য গোপন সামরিক রসদ সরবরাহের করিডর হিসেবে নির্মিত হয়েছে।
রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মিখাইল মিশুস্তিন ভিডিও সংযোগের মাধ্যমে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে বলেন, সেতুটি বাণিজ্য, অর্থনীতি, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও সাংস্কৃতিক সহযোগিতার উন্নয়নে ‘শক্তিশালী গতি’ সৃষ্টি করবে। তিনি আরও বলেন, মস্কো ও পিয়ংইয়ংয়ের সম্পর্ক এখন ‘নজিরবিহীন উচ্চতায়’ রয়েছে।
রাশিয়া সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রাথমিকভাবে সেতুটি পণ্য পরিবহনে ব্যবহৃত হবে। পরে চলতি বছরের শেষ দিকে এটি যাত্রী পরিবহনের জন্য খুলে দেওয়া হবে। দুই দেশের মধ্যে আগে থেকেই বিমান যোগাযোগ ও রেলপথ রয়েছে। তবে এত দিন একমাত্র সড়ক যোগাযোগ ছিল অস্থায়ী ব্যবস্থা। বিবিসির প্রকাশিত উপগ্রহচিত্রে দেখা যায়, সেতুটির সঙ্গে কয়েকটি নতুন সংযোগ সড়ক, একটি সীমান্ত তল্লাশিচৌকি, সহায়ক অবকাঠামো ও পার্কিংয়ের ব্যবস্থা রয়েছে।
"সেতুটি বাণিজ্য, অর্থনীতি, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও সাংস্কৃতিক সহযোগিতার উন্নয়নে শক্তিশালী গতি সৃষ্টি করবে। মস্কো ও পিয়ংইয়ংয়ের সম্পর্ক এখন নজিরবিহীন উচ্চতায় রয়েছে।"
— মিখাইল মিশুস্তিন, রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী
২০২৪ সালে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের উত্তর কোরিয়া সফরে সেতু নির্মাণের বিষয়ে চুক্তি হয়। ওই সফরেই দুই দেশের মধ্যে অংশীদারত্ব চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। ২০২৫ সালে সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। কিছু বিলম্বের পর ৪৯৫ দিনে নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকে রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়ার সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে। পুতিন ও উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উন এর আগে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, দুই দেশের যেকোনো একটির বিরুদ্ধে ‘আগ্রাসন’ হলে তারা একে অপরকে সহায়তা করবে।
দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দা সংস্থার গবেষকদের হিসাব অনুযায়ী, উত্তর কোরিয়া ইতিমধ্যে জাহাজে করে ৭ থেকে ১৪ বিলিয়ন ডলার মূল্যের রকেট, ক্ষেপণাস্ত্র ও কামানের গোলা রাশিয়ায় পাঠিয়েছে। আনুমানিক ১১ হাজার উত্তর কোরীয় সেনা বর্তমানে রাশিয়ার হয়ে ইউক্রেনীয়দের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে। ট্রুথ হাউন্ডসের তথ্য অনুযায়ী, সেতুটি ব্যবহার করে উত্তর কোরীয় সামরিক সদস্য, নির্মাণশ্রমিক ও উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তাদের সরাসরি রাশিয়ায় পাঠানো হতে পারে।
বর্তমানে প্রায় ১০ হাজার উত্তর কোরীয় রাশিয়ার বিভিন্ন নির্মাণস্থল ও কাঠ কাটার শিবিরে কাজ করছেন। জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞায় বিভিন্ন দেশে উত্তর কোরীয় শ্রমিক নিয়োগ নিষিদ্ধ হলেও তাঁদের অনেকেই শিক্ষার্থী ভিসার আড়ালে রাশিয়ায় প্রবেশ করেন। সীমিতসংখ্যক রুশ পর্যটক উত্তর কোরিয়ায় যেতে শুরু করেছেন। উত্তর কোরিয়া তাঁদের রাজধানী পিয়ংইয়ং এবং ওনসান-কালমা সমুদ্রসৈকত রিসোর্টে আতিথ্য দিচ্ছে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: তুমেন নদী (রাশিয়া-উত্তর কোরিয়া সীমান্ত)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মিখাইল মিশুস্তিন (রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী), ভ্লাদিমির পুতিন (রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট), পাক থায়ে সং (উত্তর কোরিয়ার প্রধানমন্ত্রী)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩০০টি যানবাহন, ২ হাজার ৩২৩ জন মানুষ, ৭-১৪ বিলিয়ন ডলার, ১১ হাজার উত্তর কোরীয় সেনা, ১০ হাজার উত্তর কোরীয় শ্রমিক, ৪৯৫ দিন নির্মাণকাল
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!