📌 স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, মানবিক সহায়তার পাশাপাশি রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই রাজনৈতিক সমাধান নিশ্চিত করতে হবে। তিনি জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক রাডারে রোহিঙ্গা ইস্যুটি সক্রিয় রাখার আহ্বান জানান এবং মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনের জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতা চেয়েছেন
রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান ও প্রত্যাবাসনের জন্য রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার জরুরি প্রয়োজন — এ কথা বলেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, মানবিক সহায়তার পাশাপাশি রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মায়ানমারে মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে হবে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৬ সেপ্টেম্বর ঢাকার বিআইআইএসএস মিলনায়তনে আয়োজিত গোলটেবিল আলোচনায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জরুরি।
- 📌 মন্ত্রী বলেন, ১.৫ মিলিয়ন (ইউএনএইচসিআর-এর হিসাব অনুযায়ী ১.২ মিলিয়ন) রোহিঙ্গা শরণার্থীকে মায়ানমারে নিরাপদে প্রত্যাবাসনের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অব্যাহত সহযোগিতা প্রয়োজন।
- 📌 তিনি জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক রাডারে রোহিঙ্গা ইস্যুটি সক্রিয় রাখার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এই সংকট অন্য কোনো বৈশ্বিক সংঘাতের আড়ালে চাপা পড়তে দেবেন না।
- 📌 স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেন, ১৯৭৮ ও ১৯৯২ সালে বাংলাদেশ সফলভাবে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সম্পন্ন করেছিল। বর্তমান সরকারও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে শতভাগ সফল প্রত্যাবাসন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কাজ করছে।
- 📌 তিনি বলেন, ইতোমধ্যে ‘ন্যাশনাল স্ট্র্যাটেজি ফর্মুলেশন কমিটি অন রোহিঙ্গা অ্যাফেয়ার্স’ গঠিত হয়েছে এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা ও সীমান্ত ব্যবস্থাপনার জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের জাতীয় কমিটি সক্রিয় রয়েছে।
- 📌 পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, রোহিঙ্গা পূনর্বাসনে সরকার আশাবাদী, তবে মিয়ানমারের বর্তমান পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা প্রয়োজন।
📰 বিস্তারিত
৬ সেপ্টেম্বর (রোববার) ঢাকার বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) মিলনায়তনে ‘দ্য রোহিঙ্গা ক্রাইসিস: ইমার্জিং চ্যালেঞ্জেস অ্যান্ড রিফ্রেমিং রেসপনসিবিলিটিজ’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এই আলোচনায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ড. বুলবুল সিদ্দিকী।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা প্রয়োজন। তিনি বলেন, “আমরা পূর্ণ মর্যাদা ও নিরাপত্তার সাথে রোহিঙ্গাদের মায়ানমারে ফেরত পাঠাতে চেষ্টা করবো। এজন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অব্যাহত সহায়তা ও রাজনৈতিক ভূমিকা অত্যন্ত জরুরি।”
মন্ত্রী উল্লেখ করেন, ১৯৭৮ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে এবং ১৯৯২ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দূরদর্শী কূটনৈতিক উদ্যোগে বাংলাদেশ সফলভাবে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সম্পন্ন করেছিল। তিনি বলেন, বর্তমান সরকারও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে এই সফল অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে শতভাগ সফল প্রত্যাবাসন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কাজ করছে।
অন্যদিকে, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, রোহিঙ্গা পূনর্বাসনে সরকার আশাবাদী। তবে মিয়ানমারের বর্তমান পরিস্থিতির কারণে রোহিঙ্গাদের নিরাপদে সেখানে পৌঁছাতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা প্রয়োজন।
"আমরা মানবিক সহযোগিতা বহাল রাখবো, কিন্তু রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনের জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অবশ্যই প্রয়োজন।"
গোলটেবিল আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে ইউএনএইচসিআর প্রতিনিধি আইভো ফ্রেইসেন, বিআইআইএসএস-এর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল এ এস এম রিদওয়ানুর রহমান, শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের শরণার্থী সেলের প্রধান ও যুগ্মসচিব মোহাম্মদ নাজমুল আবেদীন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তি ও সংঘাত অধ্যয়ন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. সাজ্জাদ সিদ্দিকী, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. নিলয় রঞ্জন বিশ্বাস, আইইউবি’র অধ্যাপক ড. কাজী মাহমুদুল রহমান, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. নুরুল হুদা সাকিব এবং ইউল্যাব-এর সহকারী অধ্যাপক মিসেস অবন্তী হারুন প্রমুখ।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা, বাংলাদেশ (বিআইআইএসএস মিলনায়তন)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৬ সেপ্টেম্বর, ১.৫ মিলিয়ন (১.২ মিলিয়ন ইউএনএইচসিআর হিসাব), ১৯৭৮, ১৯৯২
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!