📌 জাতীয় সংসদে ‘ট্রান্সফার অব প্রপার্টি (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, ২০২৬’ পাস হয়। বিলে পিতা-মাতার জীবিত থাকা অবস্থায় সন্তানের হাতে সম্পত্তি হস্তান্তর করা হলেও তাদের সম্পূর্ণ অধিকার সংরক্ষিত রাখা হয়েছে। বিরোধী দলের তীব্র প্রতিবাদ ও শরিয়া আইনের সঙ্গে সংঘাতের দাবি সত্ত্বেও বিলটি পাস হয়
জাতীয় সংসদে অসহায় পিতামাতার সম্পত্তি সুরক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ‘ট্রান্সফার অব প্রপার্টি (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, ২০২৬’ পাস হয়েছে। বিলটি পাসের পরই বিরোধী দলের তীব্র প্রতিবাদ ও আইনি বিতর্কের মুখে সংসদ অধিবেশনে বিলটি চূড়ান্ত পাসের রাস্তা ধরে। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান বিলটি উপস্থাপন করেন এবং সংখ্যাগরিষ্ঠের সমর্থনে বিলটি পাস হয়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৬ সেপ্টেম্বর সংসদে পাস হয় অসহায় পিতামাতার সম্পত্তি সুরক্ষা বিল
- 📌 বিলে পিতা-মাতার জীবিত থাকা অবস্থায় সন্তানের হাতে সম্পত্তি হস্তান্তর করা হলেও তাদের সম্পূর্ণ অধিকার সংরক্ষিত রাখা হয়েছে
- 📌 মৃত্যুর পরেই সন্তান সম্পত্তির প্রকৃত মালিকানা লাভ করবে
- 📌 বিরোধী দলের তীব্র প্রতিবাদে বিতর্কিত বিল পাসের সময় শরিয়া আইনের সঙ্গে সংঘাতের দাবি উঠে
- 📌 বিরোধী দলের দাবি: বিলটি ইসলামিক শরিয়া আইনের ‘হেবা’ সংক্রান্ত ধারার সঙ্গে সাংঘর্ষিক
- 📌 বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা ২০ অক্টোবর পর্যন্ত জনমত যাচাইয়ের দাবি জানান
- 📌 আইনমন্ত্রী বলেন, মধ্যপ্রাচ্য ও অন্যান্য মুসলিম দেশের সিভিল কোডে এই ধরণের বিধান রয়েছে
- 📌 স্পিকার কণ্ঠভোটে বিরোধীদের জনমত যাচাইয়ের প্রস্তাব নাকচ হয়
📰 বিস্তারিত
বিলে মূল বিধান রাখা হয়েছে যে, পিতা-মাতা জীবিত থাকা অবস্থায় সন্তানকে সম্পত্তি দান বা ‘হেবা’ করলেও জীবনের শেষদিন পর্যন্ত সেই সম্পত্তির পূর্ণ দখল ও ভোগের অধিকার একমাত্র পিতা-মাতার হাতেই থাকবে। মৃত্যুর পরেই কেবল সন্তান সম্পত্তির প্রকৃত মালিকানা লাভ করবে। এই বিধানটি অসহায় পিতা-মাতার সুরক্ষা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে করা হয়েছে।
বিলটি উত্থাপনের পর বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা তীব্র আপত্তি জানান। তারা বলেন, কোরআন-সুন্নাহ ও মুসলিম পারিবারিক আইনের বিধি অনুযায়ী হেবা কার্যকর হওয়ার প্রধান শর্ত হলো গ্রহীতাকে সম্পত্তির দখল হস্তান্তর করা। তারা অভিযোগ করেন, অসহায় পিতামাতাকে রক্ষায় আইন করা জরুরি হলেও শরিয়তের মূল কাঠামোর সঙ্গে সংঘাত তৈরি করে কোনো বিল আনা যুক্তিযুক্ত নয়। বিতর্ক চলাকালে বিরোধী দলের সদস্যরা আইনটি পাস না করে ইসলামিক স্কলার ও ফতোয়া বোর্ডের মতামত নেওয়ার সুবিধার্থে ২০ অক্টোবর পর্যন্ত জনমত যাচাইয়ের দাবি জানান।
বিরোধীদের উদ্বেগের জবাবে আইনমন্ত্রী মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান আন্তর্জাতিক বিভিন্ন আইনি নজির এবং প্রিভি কাউন্সিলের ঐতিহাসিক রায় তুলে ধরেন। তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্য সহ বহু মুসলিম দেশের সিভিল কোডে বাবা-মায়দের রক্ষায় এই ধরণের প্রগতিশীল বিধান চালু রয়েছে। তিনি আরও বলেন, এই আইনের সঙ্গে শরিয়া আইনের কোনো রকম বিরোধ নেই এবং মূলত শেষ বয়সে অসহায় মা-বাবাকে সামাজিক ও আর্থিক সুরক্ষা দিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
"মধ্যপ্রাচ্যসহ বহু মুসলিম দেশের সিভিল কোডে বাবা-মায়দের রক্ষায় এই ধরণের প্রগতিশীল বিধান চালু রয়েছে। এই আইনের সঙ্গে শরিয়া আইনের কোনো রকম বিরোধ নেই।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা, জাতীয় সংসদ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান, স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৬ সেপ্টেম্বর (পাসের তারিখ), ২০ অক্টোবর (জনমত যাচাইয়ের দাবি)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!