📌 রাশিয়ায় নির্মাণশ্রমিক হিসেবে কাজের আশায় যাওয়া রাজন হোসেনকে যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হয়। দেড় মাস যুদ্ধে অংশ নিয়ে গুরুতর আহত হওয়ার পর দুই পায়ের শক্তি হারিয়ে দেশে ফিরেছেন তিনি। তার পরিবার দালালের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ তুলেছে।
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার রাজন হোসেন (২২) নির্মাণশ্রমিক হিসেবে কাজের আশায় দালালের মাধ্যমে রাশিয়ায় গিয়েছিলেন। কিন্তু সেখানে গিয়ে জানতে পারেন তাকে যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হবে। দেড় মাস যুদ্ধে অংশ নিয়ে গুরুতর আহত হওয়ার পর দুই পায়ের শক্তি হারিয়ে গত ২১ আগস্ট দেশে ফিরেছেন তিনি।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 রাজন হোসেন নির্মাণশ্রমিক হিসেবে কাজের কথা বলে রাশিয়ায় গিয়েছিলেন
- 📌 দালালের মাধ্যমে ৮ লাখ ৩০ হাজার টাকা খরচ করে রাশিয়ার উদ্দেশে যাত্রা করেন তিনি
- 📌 রাশিয়ায় গিয়ে জানতে পারেন তাকে যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হবে
- 📌 দেড় মাস যুদ্ধে অংশ নিয়ে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় গুরুতর আহত হন রাজন
- 📌 দুই পায়ের শক্তি হারিয়ে গত ২১ আগস্ট দেশে ফিরেছেন তিনি
📰 বিস্তারিত
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার মালিয়াট ইউনিয়নের গয়েশপুর গ্রামের আব্দুল কাদের কালুর ছেলে রাজন হোসেন নির্মাণশ্রমিক হিসেবে কাজের আশায় দালালের মাধ্যমে রাশিয়ায় যান। চলতি বছরের ৭ মে বাংলাদেশ থেকে রাশিয়ার উদ্দেশে রওনা হন তিনি। একই দিন মস্কো বিমানবন্দরে পৌঁছান রাজন। সেখান থেকে তাকে ও আরও ৩০ বাংলাদেশিকে একটি বাসে করে মস্কো থেকে ওয়ারেনবার্গে নিয়ে যাওয়া হয়।
ওয়ারেনবার্গে একটি হোটেলে তিন-চার দিন রাখার পর ব্যাংক কার্ড ও সিম কার্ড দেওয়ার কথা বলে বিভিন্ন কাগজপত্রে স্বাক্ষর করিয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ রাজনের। পরে তাকে একটি অজ্ঞাত রুশ সেনাক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া হয়। রাজন বলেন, ‘সেনাক্যাম্পে নিয়ে যাওয়ার পর আমরা বুঝতে পারি, আমাদের যুদ্ধে পাঠানো হবে। আমরা যুদ্ধে অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানাই। কিন্তু রাশিয়ান চক্রের লোকজনের পা জড়িয়ে ধরেও রেহাই পাইনি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের রাশিয়ার সেনাবাহিনীর গাড়িতে তুলে একটি বাংকারে নিয়ে রাখা হয়। প্রায় এক ঘণ্টা পর আমাদের ৩০ জন বাংলাদেশিকে বিভিন্ন দলে ভাগ করে দেওয়া হয়। আমি ছয়জনের একটি দলে ছিলাম। পরে আমাদের রাশিয়ার সেনাবাহিনীর পোশাক, অস্ত্র চালানোসহ যুদ্ধের বিভিন্ন বিষয়ে ২১ দিন প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। প্রশিক্ষণ শেষে ফ্রন্টলাইনে পাঠানো হয়।’
রাজনের ভাষ্য, ‘প্রথম দিনই ড্রোন হামলায় ১৭ জন বাংলাদেশি মারা যান। ওই দিন একটি ড্রোন আমার কোমরে আঘাত করে। আমি মাটিতে লুটিয়ে পড়ি। এরপর কোমরের নিচ থেকে আর কোনো শক্তি পাচ্ছিলাম না।’ তিনি আরও বলেন, আহত অবস্থায় চার দিনে প্রায় চার কিলোমিটার পথ বুকের ওপর ভর দিয়ে অতিক্রম করে রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণাধীন ইউক্রেনের একটি হাসপাতালে পৌঁছান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাকে রাশিয়ার একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ১৫ দিন চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। পরে একজন চিকিৎসক তাকে বাংলাদেশ দূতাবাসে নিয়ে যান।’
‘গত ২১ আগস্ট ট্রাভেল পাস নিয়ে দেশে ফিরেছি। দেশে ফেরার জন্য আমার পরিবার রাশিয়ায় ৬২ হাজার রুবল পাঠিয়েছে।’
রাজনের বাবা আব্দুল কাদের বলেন, ‘ছেলেকে বিদেশে পাঠানোর জন্য ধারদেনা করে ৮ লাখ ৩০ হাজার টাকা দিয়েছিলাম। প্রায় তিন বছর ধরে ঘুরিয়ে অবশেষে গত মে মাসে শ্রমিকের কাজের কথা বলে আমার ছেলেকে রাশিয়ায় পাঠানো হয়। কিন্তু সেখানে নিয়ে গিয়ে তাকে যুদ্ধে পাঠানো হয়েছে। যুদ্ধে আহত হয়ে আমার ছেলে এখন হাঁটতে পারে না।’
কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজওয়ানা নাহিদ বলেন, ‘বিদেশে যাওয়ার ক্ষেত্রে কেউ যেন দালালের খপ্পরে না পড়ে, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন হতে হবে। রাশিয়া থেকে ফিরে আসা রাজনের জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহায়তা করা হয়েছে।’
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ, রাশিয়া, ইউক্রেন
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: রাজন হোসেন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২২ বছর, ৮ লাখ ৩০ হাজার টাকা, ৩০ জন বাংলাদেশি, ২১ আগস্ট, ৭ মে, ২১ দিন প্রশিক্ষণ, ১৭ জন নিহত, ১৫ দিন চিকিৎসা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!