📌 প্রাচীন হিন্দু শাস্ত্র মনুস্মৃতিতে নারীদের অধীনস্থ থাকার বিধান নিয়ে রাহুল গান্ধীর সমালোচনায় ক্ষুব্ধ হয়েছে বিজেপি। পুনেতে এক অনুষ্ঠানে তিনি মনুস্মৃতির উদ্ধৃতি তুলে ধরে বলেন, নারীদের কেবল তিন পরিচয়ে সীমাবদ্ধ রাখা উচিত নয়
মহারাষ্ট্রের পুনেতে অনুষ্ঠিত 'ছাত্রোঁ কি গুঞ্জ' কর্মসূচিতে প্রাচীন হিন্দু শাস্ত্র মনুস্মৃতির সমালোচনা করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছেন ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের নেতা রাহুল গান্ধী। তিনি মনুস্মৃতির একটি উদ্ধৃতিকে 'লজ্জাজনক' হিসেবে অভিহিত করে বলেন, নারীদের কেবল পিতার, স্বামীর বা পুত্রদের অধীনস্থ থাকার বিধানই তাদের স্বাধীনতাকে অস্বীকার করে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 মহারাষ্ট্রের পুনেতে 'ছাত্রোঁ কি গুঞ্জ' কর্মসূচিতে রাহুল গান্ধী মনুস্মৃতির সমালোচনা করেন
- 📌 মনুস্মৃতির পঞ্চম অধ্যায়ের ১৪৮তম শ্লোকে নারীদের অধীনস্থ থাকার বিধান উল্লেখ করা হয়েছে
- 📌 রাহুল গান্ধী বলেন, "নারীরা কারও অধীনে থাকতে পারে না।"
- 📌 বিজেপির নেতারা রাহুল গান্ধীর বক্তব্যকে ভারতীয় সংস্কৃতির অবমাননা হিসেবে অভিহিত করেন
- 📌 মনুস্মৃতিতে নারীদের কন্যা, স্ত্রী বা মা হিসেবে পরিচিতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখার বিধান রয়েছে
📰 বিস্তারিত
ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের নেতা ও লোকসভায় বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী মহারাষ্ট্রের পুনেতে আয়োজিত 'ছাত্রোঁ কি গুঞ্জ' কর্মসূচিতে প্রাচীন হিন্দু শাস্ত্র মনুস্মৃতির সমালোচনা করেন। তিনি মনুস্মৃতির পঞ্চম অধ্যায়ের ১৪৮তম শ্লোকের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, "একজন নারীকে শৈশবে পিতার অধীনে, যৌবনে স্বামীর অধীনে এবং স্বামীর মৃত্যুর পর পুত্রদের অধীনে থাকতে হয়। একজন নারী কখনও স্বাধীন হতে পারেন না।"
রাহুল গান্ধী আরও বলেন, "নারীদের কেবল তিনটি পরিচয়ে দেখা হয়: কন্যা, স্ত্রী বা মা। এটি কোনও সমস্যা নয়, কিন্তু এটি তাদের একমাত্র পরিচয় হয়ে উঠতে পারে না। নারীরা পেশাজীবী, ক্রীড়াবিদ, নেতা, উদ্যোক্তা সহ আরও অনেক কিছু হতে পারেন।" তিনি দাবি করেন, মনুস্মৃতিতে উল্লিখিত এই বিধানগুলো সরাসরি নারীদের স্বাধীনতাকে অস্বীকার করে।
রাহুল গান্ধীর এই বক্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি। দলটির নেতারা অভিযোগ করেন যে রাহুল গান্ধী ভারতীয় সংস্কৃতির অবমাননা করেছেন। অন্যদিকে, ইতিহাসবিদ রাজীব লোচন জানান, মনুস্মৃতিতে নারীদের অধীনস্থ থাকার বিধান স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি বলেন, "এই শাস্ত্রে বলা হয়েছে যে নারীর কল্যাণ নির্ভর করে পুরুষের কল্যাণের ওপর। একজন নারীর কোনও ধর্মীয় অধিকার নেই। তিনি স্বামীর সেবা করে স্বর্গ লাভ করতে পারেন।"
"নারীরা কারও অধীনে থাকতে পারে না। একটি সমস্যা আছে এবং তা বেশ বড় সমস্যা। আমি যখনই পুরুষদের সঙ্গে কথা বলি, তখন দেখি নারীদের তিনটি বাক্সে রাখা হয়। নারীদের কন্যা, স্ত্রী অথবা মা হিসেবে দেখা হয়। মা, স্ত্রী এবং কন্যা হিসেবে দেখায় কোনও সমস্যা নেই। কিন্তু শুধু এটুকুই আপনার একমাত্র পরিচয় হতে পারে না।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: মহারাষ্ট্রের পুনে
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: রাহুল গান্ধী
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: মনুস্মৃতির পঞ্চম অধ্যায়ের ১৪৮তম শ্লোক
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!