📌 রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ঘোষণা করেছেন, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি যদি ফোন করেন তাহলে তিনি কথা বলবেন। তবে শান্তি আলোচনার প্রথম ধাপে রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেনের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় আলোচনা হওয়া উচিত বলে দাবি করেছেন পুতিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ঘোষণা করেছেন যে, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি যদি সরাসরি ফোন করেন, তাহলে তিনি অবশ্যই কথা বলবেন। তবে এই আলোচনার শর্ত হিসেবে তিনি বলেছেন, শান্তি আলোচনার প্রথম ধাপে রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেনের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় আলোচনা হওয়া উচিত। ক্রেমলিনের সহযোগী ইউরি উশাকভের মতে, পুতিন কখনোই আলোচনা থেকে পিছিয়ে যাননি এবং সরাসরি যোগাযোগের প্রস্তাব গ্রহণের সম্ভাবনা রয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ঘোষণা করেছেন, জেলেনস্কি ফোন করলে তিনি কথা বলবেন — তবে শর্তে শান্তি আলোচনা
- 📌 সর্বশেষ ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে ফ্রান্স ও জার্মানির মধ্যস্থতায় নরম্যান্ডি ফরম্যাটে পুতিন ও জেলেনস্কির দেখা হয়েছিল
- 📌 পুতিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেছেন, শান্তি আলোচনার প্রথম ধাপে রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেনের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় আলোচনা হওয়া উচিত
- 📌 ইউরোপকে আলোচনায় যুক্ত করার পেছনে রাশিয়ার উদ্দেশ্য ন্যাটোর সম্প্রসারণ নিয়ে ছাড় আদায় করা
- 📌 পেন্টাগন ন্যাটোভুক্ত দেশগুলিকে রাশিয়ার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কঠোর বক্তব্য দেওয়া থেকে বিরত থাকতে পরামর্শ দিয়েছে
📰 বিস্তারিত
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জানিয়েছেন, পুতিন ‘সবার সঙ্গে সংলাপে বসতে আগ্রহী’। তবে জেলেনস্কির সঙ্গে ফোনে কথা বলবেন কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছেন, ‘এখনো কেউ ফোন করেনি’। পুতিনের এই ঘোষণা আসে ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযানের শুরু থেকে দুই নেতার মধ্যে সরাসরি কোনো বৈঠক বা ফোনালাপ না হওয়ার পর। সর্বশেষ ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে ফ্রান্স ও জার্মানির মধ্যস্থতায় নরম্যান্ডি ফরম্যাটের আলোচনায় তাদের দেখা হয়েছিল।
গত জুলাইয়ে জেলেনস্কি পুতিনকে উদ্দেশ করে খোলা চিঠি লিখে যুদ্ধ বন্ধে সরাসরি আলোচনার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তবে ক্রেমলিন সরাসরি বৈঠক এড়াতে ফোনালাপের প্রস্তাব দিয়ে বিষয়টি সামলানোর চেষ্টা করছে। ইউক্রেনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এ ধরনের আলোচনার চেষ্টা তাঁরা ইতিমধ্যে ফোনে করেছেন। তবে পুতিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেছেন, ‘এখনো কেউ ফোন করেনি’।
পুতিনের মুখপাত্র আরও বলেছেন, শান্তি আলোচনার প্রথম ধাপে রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেনের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় আলোচনা হওয়া উচিত। ইউরোপকে যুক্ত করার প্রয়োজন আছে কি না এমন প্রশ্নে তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে বলে অন্তত প্রথম কয়েকটি ধাপ তিন পক্ষের মধ্যে হওয়াই যৌক্তিক। তবে কূটনৈতিক সূত্রগুলোর মতে, ইউরোপকে যুক্ত করার পেছনে রাশিয়ার অন্য উদ্দেশ্য রয়েছে — পরবর্তী আলোচনায় ন্যাটোর সম্প্রসারণ নিয়ে ছাড় আদায় করা। পুতিন ন্যাটোর সম্প্রসারণকেই ইউক্রেন যুদ্ধের ‘মূল কারণ’ বলে দাবি করে আসছেন।
এদিকে, পেন্টাগন ন্যাটোভুক্ত কিছু দেশকে রাশিয়ার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কঠোর বক্তব্য দেওয়া থেকে বিরত থাকতে পরামর্শ দিয়েছে। লিথুয়ানিয়া, লাটভিয়া ও এস্তোনিয়াসহ কয়েকটি দেশকে মস্কোকে উসকে দেওয়া এড়াতে সংযত থাকতে বলা হয়েছে। পেন্টাগনের নীতিবিষয়ক প্রধান এলব্রিজ কোলবিসহ যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে এ বার্তা দিয়েছেন। ইউরোপের এক কর্মকর্তা বলেছেন, ‘আমরা আপনাদের সহায়তা করছি। মার্কিনিরা আপনাদের পাশে রয়েছে। শুধু বেশি সরব হবেন না। অযথা হৈচৈ করবেন না’।
"পুতিন ‘সবার সঙ্গে সংলাপে বসতে আগ্রহী’। জেলেনস্কির সঙ্গে ফোনে কথা বলবেন কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এখনো কেউ ফোন করেনি’।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: মস্কো (ক্রেমলিন), কিয়েভ (ইউক্রেন), ফ্রান্স, জার্মানি, যুক্তরাষ্ট্র
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ভ্লাদিমির পুতিন, ভলোদিমির জেলেনস্কি, দিমিত্রি পেসকভ, ইউরি উশাকভ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২০১৯ (সর্বশেষ বৈঠক), ২০২২ (রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!