📌 ওমানের মুসান্দাম উপকূলে একটি বাংলাদেশি জাহাজে মিসাইল হামলায় আগুন ধরে। জাহাজে ২০ ভারতীয় নাবিকের মধ্যে ১৯ জন উদ্ধার হলেও একজন নিহত হন। বাংলাদেশের চট্টগ্রামের সাকিব আমানের বাবা আমান উল্লাহ প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে জাহাজে ছিলেন এবং হামলার সময় কেবিনে না থাকায় বেঁচে যান
ওমানের মুসান্দাম উপকূলে একটি বাল্ক ক্যারিয়ার জাহাজে মিসাইল হামলায় আগুন ধরে। হামলায় জাহাজের ইঞ্জিন কক্ষে আগুন ধরে যায় এবং ২৭ নাবিককে উদ্ধার করা হলেও একজন নাবিক নিহত হন। বাংলাদেশের চট্টগ্রামের একজন পরিবারের সদস্যরা এই হামলার খবর পান একটি ভয়াবহ অডিও বার্তার মাধ্যমে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 চট্টগ্রামের সাকিব আমানের বাবা মো. আমান উল্লাহ ‘এমভি কেপ দাও’ জাহাজে প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি হামলার সময় নিয়ন্ত্রণকক্ষে ছিলেন, ফলে বেঁচে যান।
- 📌 হামলার সময় জাহাজে মোট ২০ ভারতীয় নাবিক ছিলেন। এর মধ্যে ১৯ জন উদ্ধার হলেও একজন নিহত হন।
- 📌 ওমানের সরকারি সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, জাহাজটি ওমানের মুসান্দাম উপকূলে প্রায় ২৫ নটিক্যাল মাইল দূরে হামলার শিকার হয়।
- 📌 সাকিব আমানের মা হামলার খবর শুনে হাউমাউ করে কাঁদতে শুরু করেন। পরিবার প্রথমে অডিও বার্তায় বাবার উদ্বেগময় কণ্ঠ শুনে ভীত হয়ে পড়েন।
- 📌 হামলার পর আমান উল্লাহ ও জীবিত নাবিকদের ওমানে নেওয়া হয়। পরে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ হয় এবং জানা যায় তিনি নিরাপদে আছেন।
📰 বিস্তারিত
চট্টগ্রামের এনায়েতবাজারের বাসা থেকে হাসপাতালে অসুস্থ ভাইকে নিয়ে যাচ্ছিলেন মো. সাকিব আমান। গাড়িতে ছিলেন তাঁর মা ও দুই ভাই। পথে হোয়াটসঅ্যাপে বাবা মো. আমান উল্লাহর নম্বর থেকে একটি অডিও বার্তা আসে। অডিও চালু করতেই বাবার উদ্বিগ্ন কণ্ঠ শোনা যায়, ‘আব্বু, আমাদের জাহাজে মিসাইল অ্যাটাক হচ্ছে। দোয়া করো আব্বু, দোয়া করো। হয়তো আর যোগাযোগ করতে পারব না। সাবধানে থাকো। আর দোয়া করো। আম্মুকে এই কথা বলার দরকার নাই। তিনি খুব চিন্তা করবেন।’
বাবার এই বার্তা শুনে গাড়িতে থাকা তিন ভাই থমকে যান। কিন্তু মায়ের কাছে কথাটি গোপন রাখা সম্ভব হয়নি। অডিওটি লাউড স্পিকারে চলায় তিনি সব শুনে ফেলেন। সাকিবের ভাষায়, খবরটি শুনেই তাঁর মা হাউমাউ করে কাঁদতে শুরু করেন। ঘটনাটি ঘটে বুধবার।
মো. আমান উল্লাহ ‘এমভি কেপ দাও’ নামের একটি বাল্ক ক্যারিয়ারে প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। জাহাজটি সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ভারতের দিকে যাওয়ার পথে ওমান উপকূলে হামলার শিকার হয়। সাকিব আমান জানান, বাবা বেলা ১টা ৬ মিনিটে ওই অডিও বার্তা পাঠান। এরপর বেশ কিছু সময় পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল।
সাকিব আমান বলেন, ইঞ্জিনের কাছে হামলা হয়েছিল। বাবার কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে তিনি জানান, জাহাজটির পেছনের দিকে ইঞ্জিন ও আবাসন এলাকার কাছে পরপর দুটি আঘাত লাগে। এতে তাঁর বাবার কেবিনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে হামলার সময় তিনি কেবিনে ছিলেন না। দায়িত্ব পালন করছিলেন নিয়ন্ত্রণকক্ষে। এ কারণে তিনি বেঁচে যান।
ওমানের সরকারি সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডার পতাকাবাহী এমভি কেপ দাও ওমানের মুসান্দাম উপকূল থেকে প্রায় ২৫ নটিক্যাল মাইল দূরে হামলার শিকার হয়। এতে জাহাজের ইঞ্জিন কক্ষে আগুন ধরে যায়। রয়্যাল নেভি অব ওমান ২৭ নাবিককে উদ্ধার করে। একজন নাবিক নিহত হন। ভারতের টাইম অব ইন্ডিয়া দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, নিহত নাবিক ভারতীয়। জাহাজে মোট ২০ ভারতীয় নাবিক ছিলেন; তাঁদের মধ্যে ১৯ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে।
"আব্বু এখন নিরাপদে আছেন। তাঁকে ওমানে রাখা হয়েছে। প্রথমে ওই অডিও শোনার পর আমরা কিছুই বুঝতে পারছিলাম না। পরে যখন জানতে পারলাম তাঁকে উদ্ধার করা হয়েছে, তখন কিছুটা স্বস্তি পেয়েছি।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ওমানের মুসান্দাম উপকূল, চট্টগ্রামের এনায়েতবাজার
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মো. আমান উল্লাহ, মো. সাকিব আমান, মো. আমান উল্লাহর মা ও দুই ভাই
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৫ নটিক্যাল মাইল, ২৭ নাবিক উদ্ধার, ১ নাবিক নিহত, ২০ ভারতীয় নাবিক, ১৯ জন উদ্ধার
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!