📌 জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই ব্রিটেনের বিরুদ্ধে ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের মালিকানা বিরোধে কঠোর ভাষণ দেন। তিনি দ্বীপপুঞ্জের তেল উত্তোলনকে অবৈধ ঘোষণা করে জাতিসংঘকে 'অকার্যকর' সংগঠন হিসেবে সমালোচনা করেন
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই ব্রিটেনের বিরুদ্ধে ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের মালিকানা বিরোধে কঠোর ভাষণ দেন। দক্ষিণ আটলান্টিকের এই দ্বীপপুঞ্জকে আর্জেন্টিনা নিজেদের ভূখণ্ড হিসেবে দাবি করে এবং দ্বীপপুঞ্জের তেল উত্তোলনকে অবৈধ ঘোষণা করে জাতিসংঘের কার্যকারিতা নিয়ে সমালোচনা করেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 জাতিসংঘে কঠোর ভাষণ: আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের মালিকানা বিরোধে ব্রিটেনের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা দেন। তিনি দ্বীপপুঞ্জকে 'মালভিনাস' নামে আর্জেন্টিনার অংশ বলে দাবি করেন।
- 📌 তেল উত্তোলন অবৈধ: মিলেই ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের আশপাশে তেল ও জীবাশ্ম জ্বালানি উত্তোলনকে 'অবৈধ ও অবৈধভাবে পরিচালিত' কার্যক্রম হিসেবে আখ্যা দেন।
- 📌 নিষেধাজ্ঞা আরোপ: ৪৫ জন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দেন আর্জেন্টিনা। এছাড়া ১৭ সেপ্টেম্বর কংগ্রেসে কঠোর আইন প্রস্তাব করা হয়।
- 📌 জাতিসংঘ সমালোচনা: মিলেই জাতিসংঘকে 'অকার্যকর' সংগঠন হিসেবে সমালোচনা করে এবং এর আমলাতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে সমালোচনা করেন।
- 📌 ফকল্যান্ড যুদ্ধের স্মৃতি: ১৯৮২ সালের ৭৪ দিনের যুদ্ধের উল্লেখ করে ব্রিটেনের জয়কে স্মরণ করান মিলেই।
📰 বিস্তারিত
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের মালিকানা বিরোধে ব্রিটেনের বিরুদ্ধে কঠোর ভাষণ দেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের কাছে মালভিনাস একটি জাতীয় ইস্যু’। মিলেই ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের তেল উত্তোলনকে অবৈধ ঘোষণা করে বলেন, ‘এই কার্যক্রম অবৈধ ও অবৈধভাবে পরিচালিত’।
১৮৩৩ সাল থেকে যুক্তরাজ্য ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ নিয়ন্ত্রণ করছে। ১৯৮২ সালে আর্জেন্টিনার সামরিক জান্তা দ্বীপগুলো দখলের চেষ্টা করলে দুই দেশের মধ্যে ৭৪ দিনের যুদ্ধ শুরু হয়। ব্রিটেন যুদ্ধে জয়ী হয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তেল অনুসন্ধানকে কেন্দ্র করে বিরোধ আবার উত্তেজিত হয়েছে।
চলতি মাসের শুরুতে মিলেই ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জে তেল অনুসন্ধান ও উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দেন। ৪ সেপ্টেম্বর আর্জেন্টিনা সরকার জানায়, দ্বীপপুঞ্জে হাইড্রোকার্বন অনুসন্ধান ও উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত ৪৫ জন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞামূলক প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। এরপর ১৭ সেপ্টেম্বর আর্জেন্টিনা সরকার দেশটির কংগ্রেসে আরও কঠোর আইন প্রস্তাব করে। এতে ফকল্যান্ডসহ আর্জেন্টিনার দাবি করা সামুদ্রিক এলাকায় অনুমতি ছাড়া প্রাকৃতিক সম্পদ আহরণে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে শাস্তি বাড়ানোর প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
জাতিসংঘে দেওয়া ভাষণে মিলেই দ্বীপগুলোর প্রায় ৩ হাজার ৬০০ বাসিন্দার প্রসঙ্গও তোলেন। তিনি বলেন, ১৮৩৩ সালে ব্রিটেন দ্বীপপুঞ্জের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর সেখানে ব্রিটিশ জনগোষ্ঠীকে বসতি স্থাপন করানো হয়। তাই তিনি তাদেরকে ব্রিটিশ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পর সেখানে বসতি গড়া জনগোষ্ঠী হিসেবে দেখছেন। ২০১৩ সালের গণভোটে দ্বীপবাসী বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতায় ব্রিটেনের অধীনেই থাকার পক্ষে ভোট দিয়েছিল।
"আমাদের কাছে মালভিনাস একটি জাতীয় ইস্যু। এই দ্বীপপুঞ্জের তেল উত্তোলন অবৈধ ও অবৈধভাবে পরিচালিত কার্যক্রম।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ, ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ (মালভিনাস), দক্ষিণ আটলান্টিক
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই (আর্জেন্টিনা), ব্রিটিশ জনগোষ্ঠী
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৭৪ দিন (১৯৮২ সালের যুদ্ধ), ৪৫ জন (নিষেধাজ্ঞায় আক্রান্ত ব্যক্তি), ৩ হাজার ৬০০ (দ্বীপবাসী), ১৮৩৩ (ব্রিটেনের নিয়ন্ত্রণ শুরু)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!