📌 উত্তর প্রদেশের খরা-আক্রান্ত বুন্দেলখন্ড অঞ্চলে তীব্র পানির সংকটের মধ্যে দলিত সম্প্রদায়ের মানুষেরা বর্ণবৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। সরকারি কল শুকিয়ে যাওয়ায় স্থানীয়দের জীবন বিপর্যস্ত, যেখানে উচ্চবর্ণের প্রভাবশালীরা পানি ব্যবহারের ক্ষেত্রে বৈষম্য চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে
উত্তর ভারতের উত্তর প্রদেশের জালাউন জেলার বুন্দেলখন্ড অঞ্চলের একটি গ্রামের দলিত সম্প্রদায়ের সদস্যরা তীব্র খরার সময় পানির জন্য হিমশিম খাচ্ছেন। সরকারি পানীয় জল প্রকল্পের অধীনে স্থাপিত কলগুলো দুই বছর ধরে শুকিয়ে যাওয়ায় প্রায় এক হাজার বাসিন্দার গ্রামের অধিকাংশ মানুষকে কয়েকটি চাপকল ও কূপের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 উত্তর প্রদেশের জালাউন জেলার বুন্দেলখন্ড অঞ্চলে তীব্র খরায় পানির সংকট তীব্রতর হয়েছে, যেখানে সরকারি কলগুলো দুই বছর ধরে শুকিয়ে রয়েছে।
- 📌 দলিত সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত ৪০ বছর বয়সী মমতা জানান, উচ্চবর্ণের প্রভাবশালীরা চাপকল ব্যবহার শেষ না করা পর্যন্ত তাঁকে পানি নেওয়ার অনুমতি দেয় না।
- 📌 দলিতদের ব্যবহারের পর চাপকলকে 'পবিত্র' করার নামে উচ্চবর্ণের বাসিন্দারা অতিরিক্ত পানি ঢেলে দেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
- 📌 অঞ্চলটির তাপমাত্রা প্রায়শই ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি থাকে, যেখানে কয়েকটি গ্রীষ্মে তা ৪৮ ডিগ্রি পর্যন্ত পৌঁছেছে।
- 📌 স্থানীয় প্রশাসন পানির সংকট ও বর্ণবৈষম্যের অভিযোগ অস্বীকার করলেও দলিত বাসিন্দারা তাঁদের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন।
📰 বিস্তারিত
উত্তর প্রদেশের জালাউন জেলার বুন্দেলখন্ড অঞ্চলের একটি গ্রামের বাসিন্দা মমতা জানান, তাঁর পরিবারের ১১ সদস্য ও গবাদিপশুর জন্য প্রয়োজনীয় পানি সংগ্রহ করতে তাঁকে দিনে আট থেকে দশবার কয়েক শ মিটার দূরের চাপকলগুলোয় যেতে হয়। সরকারি প্রকল্পের অধীনে স্থাপিত কলগুলো দুই বছর ধরে শুকিয়ে যাওয়ায় স্থানীয়দের ভোগান্তি চরমে উঠেছে। তীব্র গরমের কারণে পানির চাহিদা বাড়লেও উৎসগুলো ক্রমেই সংকুচিত হয়ে আসছে।
মমতা ভারতের দলিত জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত বাল্মীকি সম্প্রদায়ের সদস্য। তিনি জানান, উচ্চবর্ণের প্রভাবশালীরা চাপকল ব্যবহার শেষ না করা পর্যন্ত তাঁকে অপেক্ষা করতে হয়। তিনি বলেন, ‘তাঁরা সেখানে থাকলে আমরা পানি নিতে পারি না। তাঁরা চলে যাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়।’ দলিতদের ব্যবহারের পর চাপকলটিকে ‘পবিত্র’ করার নামে উচ্চবর্ণের বাসিন্দারা অতিরিক্ত পানি ঢেলে দেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
বুন্দেলখন্ড অঞ্চলটি দীর্ঘদিন ধরেই খরা প্রবণ হিসেবে পরিচিত। ২০০২ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে অঞ্চলটিতে কয়েক দফা বড় ধরনের খরা দেখা দেয়। সাম্প্রতিক কয়েকটি গ্রীষ্মে তাপমাত্রা ৪৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি পৌঁছেছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও গবেষকেরা জানান, তীব্র তাপপ্রবাহ ও পানির সংকট পুরনো সামাজিক বৈষম্যকে আরও উসকে দিচ্ছে।
স্থানীয় প্রশাসন পানির সংকট ও বর্ণবৈষম্যের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। বিবিসির মুখোমুখি হওয়া উচ্চবর্ণের বাসিন্দা রাম গোপাল সিং জানান, জাত নিয়ে কোনো বিরোধ না থাকলেও চাপকলগুলোতে পানি সংগ্রহের সময় প্রায়ই তর্কবিতর্ক হয়। তিনি বলেন, ‘এই চাপকলগুলোতে জাত নিয়ে কোনো বিরোধ নেই।’ তবে বিবিসির সঙ্গে কথা বলা দলিত বাসিন্দাদের অভিযোগ ভিন্ন। তাঁদের ভাষ্য, তাঁরা সাধারণত খুব ভোরে বা বিকেলের শেষ দিকে পানি আনতে যান, যেকোনো সময় অপমানিত হওয়ার ভয়ে।
‘যেকোনো সময় অপমানিত বা আক্রান্ত হওয়ার ভয় সব সময় মনের মধ্যে থাকে।’ — মমতা, দলিত সম্প্রদায়ের সদস্য
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: উত্তর প্রদেশের জালাউন জেলা, বুন্দেলখন্ড অঞ্চল, ভারত
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মমতা (৪০ বছর), রাম গোপাল সিং (৫০ বছর)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪০ বছর, ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস, ৪৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস, ১১ সদস্য, ২ বছর, ৫০ কিলোমিটার
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!