📌 নাইজারের সামরিক সরকার ফরাসি সরকারকে ব্যর্থ অভ্যুত্থানের পিছনে দায়ী করে। অভ্যুত্থানকারীরা নাইমির আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটিতে আক্রমণ চালায়। ফরাসি সরকার অভিযোগকে 'বাস্তবতা থেকে বিচ্যুত' বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।
নাইজারের সামরিক সরকার ফরাসি সরকারকে ব্যর্থ অভ্যুত্থানের পিছনে দায়ী করে। নাইমির আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি, বেস ১০১, আক্রমণ করা হয়। অভ্যুত্থানকারীরা কিছু সহকর্মীকে বন্দী করে এবং রাজধানীর বিভিন্ন সংবেদনশীল স্থানে গুলি চালায়। এই ঘটনায় রাষ্ট্রপতি মহলেও লড়াই শুরু হয় এবং রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারক বন্ধ হয়ে যায়। রাশিয়ান প্যারামিলিটারি ফোর্স 'আফ্রিকা কর্পস' এবং নাইজারের সামরিক বাহিনীর সহায়তায় অভ্যুত্থান দমন করা হয়। এই ঘটনায় শতাধিক সৈনিক নিহত বা গ্রেফতার হয়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ২৯ আগস্ট রাত ১২টার পরে নাইমির আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বেস ১০১ে অভ্যুত্থানকারীরা আক্রমণ চালায় এবং কিছু সহকর্মীকে বন্দী করে।
- 📌 অভ্যুত্থানকারীরা রাজধানীর "কতিপয় সংবেদনশীল স্থানে" গুলি চালায় এবং রাষ্ট্রপতি মহলে লড়াই শুরু হয়।
- 📌 নাইজারের সামরিক সরকার ফরাসি সরকারকে অভ্যুত্থানের পিছনে দায়ী করে এবং অভিযোগ করে যে, এটি ফরাসি সরকারের নেতৃত্বে একটি আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের অংশ।
- 📌 নাইজারের সরকারের মুখপাত্র সুমানা বুবাকার বলেন, "এই অভিযানটি একটি বিশাল ষড়যন্ত্রের অংশ, যার নেতৃত্ব দিয়েছে ফরাসি সরকারের ম্যাক্রন এবং তার সহযোগীদের।"
- 📌 ফরাসি সরকার অভিযোগকে "বাস্তবতা থেকে বিচ্যুত" বলে প্রত্যাখ্যান করে এবং দাবি করে যে, তারা কোনো ভূমিকা রাখেনি।
- 📌 নাইজার সরকার রাশিয়া, আলজেরিয়া, বুর্কিনা ফাসো এবং মালির সহায়তায় অভ্যুত্থান দমন করে।
📰 বিস্তারিত
২০২৩ সালে আব্দুরাহমানে তশিয়ানী অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসার পর থেকে নাইজারের রাজনৈতিক ও সামরিক অবস্থা অস্থির। তশিয়ানী ক্ষমতায় আসার সময় দাবি করেছিলেন যে, নির্বাচিত সরকার জঙ্গি গোষ্ঠীগুলিকে দমন করতে ব্যর্থ হয়েছে। তবে, এই অভ্যুত্থানের তিন বছর পরেও নাইজারে জঙ্গি হামলা এবং অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা অব্যাহত রয়েছে।
নাইজারের সামরিক সরকারের মুখপাত্র সুমানা বুবাকার একটি বিবৃতিতে বলেন, "এই অভিযানটি একটি আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের অংশ, যার নেতৃত্ব দিয়েছে ফরাসি সরকার। ফরাসি সরকারের ম্যাক্রন এবং তার সহযোগীদের অসম্পূর্ণ স্বপ্নের জন্য দেশে কিছু দ্রোহী এবং প্রতিবাদীকে ব্যবহার করা হয়েছে।" তিনি আরও বলেন, "এই ধরনের ষড়যন্ত্র সবসময় ব্যর্থ হবে।"
নাইজারের কাউন্সিল অফ মিনিস্টার্স বলেছে যে, এই অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে একটি "বিশাল প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে" এবং তারা আন্তর্জাতিক আদালতে এই বিষয়টি নিয়ে মামলা করতে পারে। তবে, কোনো বিস্তারিত তথ্য প্রদান করা হয়নি। নাইজার সরকার এছাড়াও পশ্চিম আফ্রিকান অঞ্চলের কিছু দেশ, বিশেষ করে ইকোওয়াসকে অভিযুক্ত করেছে। বেনিন সরকার এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।
ফরাসি সরকারের বৈদেশিক মন্ত্রী জঁ-নোয়েল বারো বলেন, "এই সব অভিযোগ সম্পূর্ণ বাস্তবতা থেকে বিচ্যুত। ফরাসি সরকার কোনো ভূমিকা রাখেনি এবং কোনো প্রচেষ্টাও করা হয়নি।" তিনি আরও বলেন, "এই সব অভিযোগের পিছনে ফরাসি সরকারকে দায়ী করা একটি রীতিনীতি।"
পশ্চিম আফ্রিকা বিশেষজ্ঞ হেনরি নসাইবা বলেন, এই অভ্যুত্থান নাইজারের জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সামরিক বাহিনীর মনোযোগ বিচ্ছিন্ন করতে পারে। তিনি বলেন, "রাজ্য সম্ভবত জিহাদি গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ব্যয়িত সম্পদগুলোকে অভ্যন্তরীণ হুমকির বিরুদ্ধে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ব্যবহার করবে।"
"এই অভিযানটি একটি বিশাল ষড়যন্ত্রের অংশ, যার নেতৃত্ব দিয়েছে ফরাসি সরকারের ম্যাক্রন এবং তার সহযোগীদের।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: নাইমি, নাইজার
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সুমানা বুবাকার (নাইজারের সরকারের মুখপাত্র), জঁ-নোয়েল বারো (ফরাসি বৈদেশিক মন্ত্রী), হেনরি নসাইবা (পশ্চিম আফ্রিকা বিশেষজ্ঞ)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩টি (রাশিয়ান প্যারামিলিটারি ফোর্স 'আফ্রিকা কর্পস' সহ নাইজারের সামরিক বাহিনী অভ্যুত্থান দমন করে)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!