📌 নেপাল ও চীনের তিব্বত অঞ্চলে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে মৃত্যু হয়েছে ১৬২ জনের। এছাড়া দুই দেশ মিলিয়ে নিখোঁজ রয়েছেন প্রায় দেড় হাজার মানুষ। রয়টার্স সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার নেপাল কর্তৃপক্ষ এ তথ্য নিশ্চিত করেছে
নেপালের মধ্যাঞ্চলীয় বাগমাতি প্রদেশের রসুয়া জেলা ও পার্শ্ববর্তী কয়েকটি জেলায় আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে মৃত্যু হয়েছে অন্তত ১৬২ জনের। এছাড়া দুই দেশ মিলিয়ে নিখোঁজ রয়েছেন প্রায় দেড় হাজার মানুষ। রয়টার্স সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) নেপাল কর্তৃপক্ষ এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 নেপালে মৃত্যু হয়েছে ১৬২ জনের, যার মধ্যে বিদেশি রয়েছেন ৮০০ জন
- 📌 নেপালে নিখোঁজ রয়েছেন ৮২৬ জন, যার মধ্যে ৬০০ জন বিদেশি পর্যটক
- 📌 চীনের তিব্বতের জিরং কাউন্টিতে নিখোঁজ রয়েছেন ৫৫৮ জন, যার মধ্যে ২৬০ জন বিদেশি
- 📌 মৃতের সংখ্যা ১৬৫ ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন পুলিশ কর্মকর্তারা
📰 বিস্তারিত
নেপালের মধ্যাঞ্চলীয় বাগমাতি প্রদেশের রসুয়া জেলায় আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে মৃত্যু হয়েছে অন্তত ১৬২ জনের। রয়টার্স সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) নেপাল কর্তৃপক্ষ এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। পুলিশ ও পর্যটন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নেপালে নিখোঁজ রয়েছেন ৮২৬ জন, যার মধ্যে প্রায় ৬০০ জন বিদেশি পর্যটক। দুই ডজনেরও বেশি দেশের পর্যটকদের মধ্যে সর্বাধিক সংখ্যক ভারতীয় (১৭৭ জন), মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের (৬৩ জন), অস্ট্রেলিয়ার (৩৪ জন), ব্রিটেনের (৩৩ জন) এবং কানাডার (২৫ জন) নাগরিক রয়েছেন।
এদিকে চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম সিসিটিভি জানিয়েছে, তিব্বতের জিরং কাউন্টিতে নিখোঁজ রয়েছেন ৫৫৮ জন, যার মধ্যে ২৬০ জন বিদেশি নাগরিক। পুলিশ জানিয়েছে, মৃতের সংখ্যা ১৬৫ ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা। নেপালের উদ্ধারকারী দল হেলিকপ্টার ব্যবহার করে জীবিতদের সন্ধান করছে এবং বুধবার (২৬ আগস্ট) দুর্যোগে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া হাজার হাজার মানুষের কাছে জরুরি ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দিচ্ছে।
এই দুর্যোগটি তিব্বতের লাসা থেকে নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুকে সংযোগকারী একটি দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলে আঘাত হেনেছে, যেখানে ট্রেকার ও তীর্থযাত্রীদের আনাগোনা ছিল উল্লেখযোগ্য। পুলিশের মুখপাত্র আবি নারায়ণ কাফলে রয়টার্সকে বলেন, ‘নিখোঁজের সংখ্যা আরও বাড়বে, কারণ আমরা পুনরায় তল্লাশি শুরু করেছি এবং আরও মৃতদেহ উদ্ধার হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।’
‘কাদার এক বিশাল স্রোত সোজা আমাদের দিকে ধেয়ে আসছিল। এটি যত কাছে আসছিল, ততই উঁচু থেকে উঁচু হচ্ছিল। যখন আমি দেখলাম এটি আমাদের বাড়িতে ঢুকছে, আমি আমার স্ত্রীর হাত ধরে তাকে ছাদে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করি। কিন্তু সে কাদায় ভেসে যায়।’
চার ঘণ্টা পর একটি হেলিকপ্টার তাকে নিরাপদে নিয়ে যায়। তিনি আরও বলেন, ‘আমার স্ত্রী এখনও কাদার নিচে কোথাও আছে। সে চলে গেছে।’ আরেকজন বেঁচে যাওয়া ব্যক্তি জানান, তিনি একটি আমগাছ আঁকড়ে ধরে নিজেকে বাঁচিয়েছিলেন।
বিশেষজ্ঞদের ধারণা, বুধবার (২৬ আগস্ট) ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার পেছনে একটি হিমবাহের ধস বড় কারণ হতে পারে। তাদের মতে, হিমবাহের নিচের একটি অংশ ভেঙে শত শত মিটার নিচে উপত্যকায় আছড়ে পড়ায় এ বিপর্যয় ঘটেছে। মার্কিন কৃত্রিম উপগ্রহ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ‘প্ল্যানেট ল্যাবস’-এর ছবি বিশ্লেষণ করে বিশেষজ্ঞরা এ তথ্য জানিয়েছেন।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: নেপালের বাগমাতি প্রদেশ ও চীনের তিব্বত
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আবি নারায়ণ কাফলে (পুলিশ মুখপাত্র), কেশব প্রসাদ বারাল (বেঁচে যাওয়া ব্যক্তি)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: মৃত্যু ১৬২ জন, নিখোঁজ ১৫০০ জন
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!