📌 নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে পুলিশের অভিযানে অন্তত তিনজন সাংবাদিক আটক ও আরও কয়েকজনকে সাইবার অপরাধ ব্যুরোতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। গণমাধ্যমের অভিযোগ: সরকারের সাংবাদিকতায় হস্তক্ষেপের চেষ্টা। প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহের কার্যালয় দাবি করেছেন, তিনি আগে থেকে বিষয়টি জানতেন না
নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে পুলিশের অভিযানে অন্তত তিনজন সাংবাদিক আটক এবং আরও কয়েকজনকে সাইবার অপরাধ ব্যুরোতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনাকে ঘিরে দেশটির গণমাধ্যম এবং রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশের অভিযানের অংশ হিসেবে দৈনিক ‘নয়া পত্রিকা’র সম্পাদক খগেন্দ্র পন্ত এবং জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক নবরাজ ময়নালীকে হেফাজতে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। অনলাইন পোর্টাল ‘নেপাল প্রেস’র তিনজন সাংবাদিককে সরাসরি আটক করা হয়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 নেপালের কাঠমান্ডুতে পুলিশের অভিযানে ‘নয়া পত্রিকা’র সম্পাদক খগেন্দ্র পন্ত এবং জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক নবরাজ ময়নালীকে আটকের চেষ্টা করা হয়; পরে সাইবার ব্যুরোতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়
- 📌 ‘নেপাল প্রেস’র তিনজন সাংবাদিক (বিশ্বমণি সুবেদি, মাত্রিকা পৌডেল ও বিন্দু রাজ লামসাল) সরাসরি আটক করা হয়
- 📌 ‘দিওপোস্ট’র সাংবাদিকদেরও আটকের চেষ্টা করা হয়, কিন্তু কয়েক ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর মুক্তি দেওয়া হয়
- 📌 সরকারি পক্ষ দাবি করে, প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ আগে থেকে বিষয়টি জানতেন না; সাংবাদিকদের দ্রুত মুক্তি দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়
- 📌 নেপালের প্রেস কাউন্সিল ও আরএসপি এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করে; সংবিধানপ্রদত্ত প্রেস স্বাধীনতার লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করে
📰 বিস্তারিত
শুক্রবার নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে পুলিশের অভিযানে ‘নয়া পত্রিকা’র কার্যালয়ে প্রবেশ করে প্রায় দুই ঘণ্টা অবস্থান করে। তারা সম্পাদক খগেন্দ্র পন্ত এবং জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক নবরাজ ময়নালীকে আটকের চেষ্টা করে। পরবর্তীতে তাঁদের সাইবার ক্রাইম ব্যুরোতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়ে কার্যালয় ত্যাগ করে। একই দিনে অনলাইন পোর্টাল ‘নেপাল প্রেস’র জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক বিশ্বমণি সুবেদি, প্রধান সম্পাদক মাত্রিকা পৌডেল এবং চেয়ারম্যান বিন্দু রাজ লামসালকে সরাসরি আটক করে সাইবার ব্যুরোতে নিয়ে যাওয়া হয়। এছাড়া ‘দিওপোস্ট’র সাংবাদিকদেরও আটকের চেষ্টা করা হয়, তবে কয়েক ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর সকল আটক সাংবাদিকদের মুক্তি দেওয়া হয়।
গণমাধ্যমের অভিযোগ: এই ঘটনাটি সাম্প্রতিক দুটি চাঞ্চল্যকর সংবাদ প্রকাশের জের। প্রথমত, নেপাল সরকার পুলিশ প্রধান দান বাহাদুর কার্কিকে বরখাস্ত করার পরিকল্পনা করছে—যা নেপাল পুলিশ ‘ভিত্তিহীন’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে। দ্বিতীয়ত, ‘নয়া পত্রিকা’র সম্পাদক খগেন্দ্র পন্ত ও নবরাজ ময়নালী একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করেন, যেখানে দাবি করা হয়, প্রভাবশালী ব্যক্তি ইনাম সাপকোটা সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি হরি প্রসাদ ফুয়ালের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহের স্বার্থসংশ্লিষ্ট একটি মামলা খারিজ করার অনুরোধ জানিয়েছিলেন। ওই প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিচার বিভাগে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়।
প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহের কার্যালয়ের বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, তিনি আগে থেকে এই ঘটনাটি জানতেন না। বিষয়টি জানার পরই সাংবাদিকদের দ্রুত মুক্তি দেওয়ার এবং নিউজরুমে পুলিশি প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে ক্ষমতাসীন রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি (আরএসপি) এই পদক্ষেপের সমালোচনা করে। দলের মুখপাত্র জগদীশ খরেল বলেন, সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিকদের হেনস্তা বা গ্রেপ্তার করা সংবিধান প্রদত্ত প্রেস স্বাধীনতা এবং মতপ্রকাশের অধিকারের পরিপন্থী।
"সংবাদ সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ থাকলে তা সমাধানের নির্দিষ্ট আইনি এখতিয়ার প্রেস কাউন্সিলের রয়েছে। সরাসরি পুলিশ পাঠিয়ে সাংবাদিকদের ভয় দেখানোর বদলে নির্ধারিত আইনি পথ অনুসরণের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: কাঠমান্ডু, নেপাল
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: খগেন্দ্র পন্ত (সম্পাদক), নবরাজ ময়নালী (জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক), বিশ্বমণি সুবেদি, মাত্রিকা পৌডেল, বিন্দু রাজ লামসাল, প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩ জন আটক (সরাসরি), ২ জন আটকের চেষ্টা (মুক্তি পান), ২ ঘণ্টা নিউজরুমে পুলিশ অবস্থান
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!