📌 নেপালের নুয়াকোট জেলার একটি স্কুলে পাহাড়ি ঢলের পূর্বাভাস পেয়ে অধ্যক্ষ রাজেন্দ্র দাওয়াদির দ্রুত পদক্ষেপে প্রায় ৯০০ শিক্ষার্থীর প্রাণ রক্ষা পায়। সকাল ৯টা ১০ মিনিটে সতর্কবার্তা পেয়ে তিনি সবাইকে উঁচু স্থানে সরিয়ে নেন। মাত্র ১৩ মিনিট পরেই ভয়াবহ ঢল এলাকাটিকে ভাসিয়ে নিয়ে যায়
নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর উত্তরে অবস্থিত নুয়াকোট জেলার ‘ত্রিভুবন ত্রিশূলী স্কুলে’ গত ২৬ আগস্ট বুধবার সকাল ৯টা ১০ মিনিটে হঠাৎ বিপর্যয়ের মুখোমুখি হন অধ্যক্ষ রাজেন্দ্র দাওয়াদি। এক কর্মীর মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন, কাছের পাহাড়ি নদী উপত্যকায় ভয়াবহ বন্যা ধেয়ে আসছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব অনুধাবন করে তিনি উপস্থিত প্রায় ৯০০ শিক্ষার্থীকে দ্রুত উঁচু স্থানে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 অধ্যক্ষ রাজেন্দ্র দাওয়াদির তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তে প্রায় ৯০০ শিক্ষার্থীর প্রাণ রক্ষা পায়।
- 📌 স্কুলে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে ১১ থেকে ১৮ বছর বয়সী প্রায় ৯০০ জন ছিলেন।
- 📌 সতর্কবার্তা পাওয়ার মাত্র ১৩ মিনিট পরেই ভয়াবহ পাহাড়ি ঢল এলাকাটিকে ভাসিয়ে নিয়ে যায়।
- 📌 স্কুলের মোট শিক্ষার্থী সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৬৪৩ জন।
- 📌 নেপালের পাহাড়ি এলাকায় বন্যায় সরকারি হিসাবে প্রায় ১ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে।
📰 বিস্তারিত
গত ২৬ আগস্ট সকাল ৯টা ১০ মিনিটে অধ্যক্ষ রাজেন্দ্র দাওয়াদি ক্লাস নিচ্ছিলেন। এমন সময় এক কর্মী দৌড়ে এসে জানান, কাছের পাহাড়ি নদী উপত্যকায় ভয়াবহ বন্যা ধেয়ে আসছে। পরিস্থিতির ভয়াবহতা বুঝতে পেরে তিনি দ্রুত সিদ্ধান্ত নেন। উপস্থিত প্রায় ৯০০ শিক্ষার্থীকে উঁচু স্থানে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেন। শিক্ষার্থীদের বয়স ছিল ১১ থেকে ১৮ বছরের মধ্যে।
অধ্যক্ষ রাজেন্দ্র দাওয়াদি জানান, শিক্ষার্থীরা বয়সে একটু বড় হওয়ায় তারা তাৎক্ষণিকভাবে নিজেদের রক্ষা করতে সক্ষম হয়েছিল। কিন্ডারগার্টেন ও প্রাথমিকের ছোট ছোট শিশুরা থাকলে তাদের সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হতো না। যেসব শিক্ষার্থী বাসে করে স্কুলে এসেছিল, তাদের দ্রুত বাসে উঠে এলাকা ছেড়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
আতঙ্কের কারণে দু–একজন শিক্ষার্থী জ্ঞান হারিয়ে ফেললে শিক্ষকেরা তাদের নিজেদের মোটরবাইকে করে নিরাপদ স্থানে পৌঁছে দেন। অধ্যক্ষ রাজেন্দ্র দাওয়াদি জানান, সতর্কবার্তাটি ভুল প্রমাণিত হলে বড়জোর এক দিনের পড়াশোনার ক্ষতি হতো। কিন্তু এই সিদ্ধান্ত না নিলে শত শত শিক্ষার্থীর প্রাণহানি ঘটতে পারত।
"এই খবরটিকে অবহেলা করলে শত শত শিক্ষার্থীর প্রাণহানি ঘটতে পারত। দুর্যোগের শুরুতে অনেক শিক্ষার্থীই পরিস্থিতির ভয়াবহতা বুঝতে পারেনি।" — অধ্যক্ষ রাজেন্দ্র দাওয়াদি
১৬ বছর বয়সী শিক্ষার্থী ইউনিশা আমাত্য তার বন্ধুদের নিয়ে মাত্র ১০ সেকেন্ডের ব্যবধানে প্রাণে বেঁচে যায়। তারা শ্রেণিকক্ষে পড়াশোনা করছিল। শিক্ষকেরা ক্লাসে এসে বন্যার খবর দিলে তারা স্কুলের পেছনের সরু মই বেয়ে উঁচু রাস্তার দিকে উঠতে শুরু করে। চোখের পলকে পুরো স্থানীয় বাজারটি বন্যার পানিতে ভেসে যায়। ইউনিশার জুতার তলার গ্রিপ ভালো থাকায় সে পড়ে যাওয়া থেকে রক্ষা পায়।
স্কুলশিক্ষকের তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তের ফলে সবার জীবন রক্ষা পায়। সতর্কবার্তা পাওয়ার ঠিক ১৩ মিনিট পর, সকাল ৯টা ২৩ মিনিটের দিকে ভয়াবহ পাহাড়ি ঢল এলাকাটিকে ভাসিয়ে নিয়ে যায়। চোখের পলকে সম্পূর্ণ স্কুলটি ধ্বংস হয়ে যায়।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: নুয়াকোট জেলা, নেপাল
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: অধ্যক্ষ রাজেন্দ্র দাওয়াদি
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: প্রায় ৯০০ শিক্ষার্থী, ১ হাজার ৬৪৩ জন শিক্ষার্থী
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!