📌 ভারতের সঙ্গে সীমান্ত বিরোধের আইনি ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত ১৮১৬ সালের সুগৌলি চুক্তির মূল দলিলের অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত নয় নেপাল সরকার। পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল জানিয়েছেন, জাতীয় আর্কাইভসহ সরকারি বিভিন্ন বিভাগে অনুসন্ধান করেও দলিলটির খোঁজ পাওয়া যায়নি
ভারতের সঙ্গে সীমান্ত বিরোধের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে বিবেচিত ১৮১৬ সালের ‘সুগৌলি চুক্তি’র মূল স্বাক্ষরিত দলিলের অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত নয় নেপাল সরকার। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষে দেওয়া বক্তব্যে জানান, সরকারি হেফাজতে দলিলটি রয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 নেপাল সরকারের কাছে সুগৌলি চুক্তির মূল দলিলের অবস্থান সম্পর্কে কোনো স্পষ্ট তথ্য নেই বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল
- 📌 জাতীয় আর্কাইভসহ সরকারি বিভিন্ন বিভাগে অনুসন্ধান করেও দলিলটির খোঁজ পাওয়া যায়নি
- 📌 ২০১৯ সালে তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রদীপ গাওয়ালী দাবি করেছিলেন, চুক্তির অনুলিপি নেপালের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে
- 📌 সুগৌলি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল অ্যাংলো-নেপাল যুদ্ধের পর, যা নেপালের আধুনিক ভৌগোলিক সীমানার আইনি ভিত্তি হিসেবে কাজ করে
📰 বিস্তারিত
ভারতের সঙ্গে সীমান্ত বিরোধের আইনি ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত ১৮১৬ সালের সুগৌলি চুক্তির মূল দলিলের অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত নয় নেপাল সরকার। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষে দেওয়া বক্তব্যে জানান, সরকারি হেফাজতে দলিলটি রয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়। জাতীয় আর্কাইভে নির্দিষ্ট কিছু দলিল থাকলেও সেগুলোই যে মূল দলিল, তা নিয়ে সরকারের কাছে সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই বলে উল্লেখ করেন তিনি।
১৮১৪ থেকে ১৮১৬ সাল পর্যন্ত চলা অ্যাংলো-নেপাল যুদ্ধের পর ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সঙ্গে স্বাক্ষরিত সুগৌলি চুক্তিই নেপালের আধুনিক ভৌগোলিক সীমানার মূল আইনি ভিত্তি হিসেবে কাজ করে। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির পক্ষে লেফটেন্যান্ট কর্নেল প্যারিস ব্র্যাডশ ও নেপালের রাজা গিরবাণ যুদ্ধ বিক্রম শাহের পক্ষে রাজগুরু গজরাজ মিশ্র এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।
তবে সুগৌলি চুক্তি ছিল ভারতের স্বাধীনতার আগের সময়ের দলিল। ১৯৪৭ সালে ভারত স্বাধীন হওয়ার পর দুই দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক অন্যান্য দলিলের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়ে আসছে। বর্তমানে ভারত-নেপাল সীমান্ত ব্যবস্থা পরিচালিত হয় ১৯৫০ সালের ‘ভারত-নেপাল শান্তি ও মৈত্রী চুক্তি’ এবং যৌথ দ্বিপক্ষীয় ওয়ার্কিং গ্রুপের কারিগরি দলিলের মাধ্যমে।
বর্তমানে দুই দেশের সীমানাকেন্দ্রিক মূল বিরোধ গ্রেটার হিমালয়ের কালাপানি অঞ্চল নিয়ে, যা ভারতের ভৌগোলিক সীমানার ভেতরে অবস্থিত। ২০১৯ সালে ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নতুন মানচিত্র প্রকাশ করলে নেপাল আনুষ্ঠানিক আপত্তি জানায়। কাঠমান্ডুর দাবি অনুযায়ী, ওই অঞ্চল তাদের সুদূরপশ্চিম প্রদেশের দারচুলা জেলার অংশ হিসেবে চিহ্নিত।
‘নেপাল অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে আমাদের প্রতিবেশী দুই দেশের সমৃদ্ধিকে স্বাগত জানায়। সার্বভৌম সমতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, পারস্পরিক সম্মান, পারস্পরিক সুবিধা এবং একে অপরের বৈধ স্বার্থ ও উদ্বেগের প্রতি সংবেদনশীলতার ভিত্তিতে নেপাল দুই দেশের সঙ্গেই দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার করতে চায়।’
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: নেপাল
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: শিশির খানাল (পররাষ্ট্রমন্ত্রী), প্রদীপ গাওয়ালী (সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৮১৬ (সাল), ১৫ (বছর), ২ (ঘণ্টা), ১৩ (টি দেশ), ৩ (ঘণ্টা)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!