📌 চীন-নেপাল সীমান্তে হিমবাহ ধসে সৃষ্ট বন্যায় নেপাল ও চীনের তিব্বত অঞ্চলে মৃত্যু হয়েছে ৯৩৯ জনের। নিখোঁজ রয়েছেন চার হাজার মানুষ। উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে মৃতদেহ উদ্ধারে ব্যস্ত রয়েছেন।
ঢাকা, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬: চীন-নেপাল সীমান্ত অঞ্চলে হিমবাহ ধসে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যায় মৃত্যু হয়েছে অন্তত ৯৩৯ জনের। এছাড়া ভারতের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আরও ১৭টি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বার্তা সংস্থা এএফপির বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 মৃত্যু হয়েছে ৯৩৯ জনের, যার মধ্যে নেপাল ও চীনের তিব্বত অঞ্চলের মৃত্যু ৯৩৯ জন
- 📌 নিখোঁজ রয়েছেন প্রায় চার হাজার মানুষ
- 📌 বিপর্যয়ের ষষ্ঠ দিনেও উদ্ধারকাজ চলমান
- 📌 হিমবাহ থেকে নেমে আসা বরফশীতল পানি ও ধ্বংসাবশেষের ঢলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দুই দেশ
- 📌 যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার তথ্যমতে, হিমবাহ ধসের কারণেই এই দুর্যোগের সূত্রপাত
📰 বিস্তারিত
চীন-নেপাল সীমান্ত থেকে সুনামির মতো ধেয়ে আসা হিমবাহের বন্যায় সৃষ্ট ‘অকল্পনীয়’ দুর্যোগের ষষ্ঠ দিনেও সোমবার কাদা ও ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকারীরা। সর্বশেষ হিসাবে জানা গেছে, মৃতের সংখ্যা ৯০০ ছাড়িয়েছে। ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের পর শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি এমন কিছু লাশ গণকবরে দাফন করা হয়েছে।
বুধবার হিমবাহ থেকে নেমে আসা বরফশীতল পানি, পাথর ও ধ্বংসাবশেষের বিশাল ঢলে নেপাল ও চীনের তিব্বত অঞ্চলে অন্তত ৯৩৯ জন নিহত হন। এছাড়া ভারতের ভাটির দিকে প্রবাহিত নদীগুলো থেকে আরও অন্তত ১৭টি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।
রাসুয়া জেলার এক জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কর্মী শিবু গিরি নিজেকে বেঁচে যাওয়ার জন্য ভাগ্যবান মনে করছেন। ৪৪ বছর বয়সী গিরি এএফপিকে বলেন, একটি হেলিকপ্টারের উদ্ধারকারী দল তাকে ‘তিনবার উদ্ধারের চেষ্টা করেছিল, কিন্তু কোমর পর্যন্ত কাদায় আটকে থাকায়’ তারা তাকে বের করতে পারেনি। তিনি আরও বলেন, ‘আমি তাদের পানি ও খাবার ফেলে দিতে বলেছিলাম।’ পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়।
‘আমি তাদের পানি ও খাবার ফেলে দিতে বলেছিলাম।’ — শিবু গিরি, উদ্ধার হওয়া জলবিদ্যুৎ প্রকল্প কর্মী
নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ রোববার এই দুর্যোগকে ‘অকল্পনীয় ও হৃদয়বিদারক’ বলে বর্ণনা করেন। চিতওয়ান জেলায় সেনাসদস্যরা রাবারের নৌকা থেকে নেমে নদীর পাড় বেয়ে নীল ব্যাগে রাখা লাশগুলো তুলে আনেন। পরে মাটির রাস্তার পাশে লাশগুলোকে সারিবদ্ধভাবে রাখা হয়।
বিপজ্জনক পরিস্থিতির মধ্যে সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছেন উদ্ধারকারীরা। একাধিক সুড়ঙ্গে আটকে পড়া প্রায় ১০০ জন জলবিদ্যুৎ কর্মীকে উদ্ধারে কাদা ও ধ্বংসাবশেষ সরাতে খনন, ড্রিলিং ও বিস্ফোরণ ব্যবহার করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত দুটি সুড়ঙ্গ থেকে তিনটি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে উদ্ধারকারীরা জানিয়েছেন, সুড়ঙ্গের ভেতরের পথ কাদায় বন্ধ হয়ে গেছে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: নেপাল, চীনের তিব্বত অঞ্চল, ভারত
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: শিবু গিরি, বালেন্দ্র শাহ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: মৃত্যু ৯৩৯ জন, নিখোঁজ প্রায় চার হাজার
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!