📌 নেপালের তিব্বত সীমান্তবর্তী অঞ্চলে হঠাৎ ভূমিধস ও বন্যায় অন্তত ১৬২ জন নিহত এবং এক হাজার ৫০০-এর বেশি মানুষ নিখোঁজ। ভূমিকম্প ও ভূপ্রকৃতির পরিবর্তনের কারণে এমন দুর্যোগের ঝুঁকি বেড়েছে বলে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন
নেপালের তিব্বত সীমান্তবর্তী অঞ্চলে বুধবার হঠাৎ ভয়াবহ ভূমিধস ও বন্যায় অন্তত ১৬২ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। রয়টার্সের তথ্যমতে, এ ঘটনায় বিদেশিসহ প্রায় এক হাজার ৫০০ মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। চীনা অংশের নিরাপত্তা ক্যামেরায় ধারণ করা ফুটেজে দেখা যায়, কয়েক তলা উঁচু ভবনের ওপর প্রবল কাদা-পানির ঢল আছড়ে পড়ায় মুহূর্তেই তা তলিয়ে যায়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ভূমিধস ও বন্যায় নেপালে নিহত অন্তত ১৬২ জন, নিখোঁজ এক হাজার ৫০০-এর বেশি
- 📌 ভূমিধসে নদীর গতিপথ আটকে প্রবল বন্যার সৃষ্টি, পরে তা ভেঙে পড়ায় আরও ক্ষয়ক্ষতি
- 📌 মার্কিন ভূতাত্ত্বিক সংস্থা ইউএসজিএস জানায়, সেখানে ৪ দশমিক ৪ মাত্রার ভূমিকম্প হয়েছিল
- 📌 বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হিমালয়ের ভূপ্রকৃতির পরিবর্তনের কারণে এমন দুর্যোগের ঝুঁকি বেড়েছে
- 📌 ভূমিকম্পের কারণে ভূমিধস ঘটে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়েছিল
📰 বিস্তারিত
নেপালের তিব্বত সীমান্তবর্তী অঞ্চলে বুধবার আকস্মিক ভূমিধস ও বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ভূমিধসে সৃষ্ট প্রবল কাদা-পানির স্রোতকে বিশেষজ্ঞরা 'তরল কংক্রিটের' সঙ্গে তুলনা করেছেন। চীনা অংশের নিরাপত্তা ক্যামেরায় ধারণ করা ফুটেজে দেখা যায়, কয়েক তলা উঁচু ভবনের ওপর প্রবল ঢল আছড়ে পড়ায় মুহূর্তেই তা তলিয়ে যায়। বাস ও গাড়িগুলো খেলনার মতো ভেসে যায়।
এ ঘটনার কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল জানান, ভূমিকম্পের কারণে ভূমিধস ঘটে থাকতে পারে। ভূমিধসে নদীর গতিপথ আটকে গিয়ে প্রাকৃতিক বাঁধের মতো অবস্থা তৈরি হয়। পরে সেই বাঁধ ভেঙে প্রবল পানির ঢল নেমে আসে। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস প্রাথমিকভাবে জানিয়েছিল, সেখানে ৪ দশমিক ৪ মাত্রার ভূমিকম্প হয়েছিল। তবে পরে বিশ্লেষণে দেখা যায়, ভূমিধসের কারণে ভূকম্পন ঘটেছিল।
আন্তর্জাতিক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ইন্টিগ্রেটেড মাউন্টেইন ডেভেলপমেন্টের (আইসিআইএমওডি) প্রাথমিক মূল্যায়নে বলা হয়েছে, ঘটনাস্থলের চীনা অংশে কোনো অস্বাভাবিকতা ধরা পড়েনি। আইসিআইএমওডির বিশ্লেষক সার্থক শ্রেষ্ঠ জানান, নেপাল অংশে একটি পাথুরে বরফধসের ঘটনা ঘটেছে, যার ফলে লেন্দে নদীর গতিপথ আটকে তীব্র বন্যার সৃষ্টি হয়েছে।
"এটা বিশ্বের প্রায় সব ধরনের কার্যকর বন্যা সতর্কতা ব্যবস্থাকে অকার্যকর করে দেওয়ার মতো ঘটনা। মুহূর্তের মধ্যেই অনেক দেরি হয়ে যায়। দৌড়ে পালিয়ে কোনো লাভ হয় না। অন্তত ২০ ফুট উঁচুতে উঠে যেতে হবে।"
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস ইউনিভার্সিটি সান আন্তোনিওর জলবিজ্ঞানী হাতিম শরিফ জানান, এ দুর্যোগের আগে ঘটনাস্থল ও আশপাশে খুব একটা বৃষ্টি হয়নি, যা বেশ অবাক করার মতো। তিনি বলেন, এমন মুহূর্তে গাড়িতে পালানোর চেষ্টাও কাজে আসে না, কারণ দ্রুতগতিতে ধেয়ে আসা কাদা-পানির ঢল প্রাণঘাতী হয়ে ওঠে।
যুক্তরাজ্যের রিডিং বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ডরোথি হাইনরিচ জানান, নেপালের পাহাড়ি এলাকার অনেক জায়গায় নদীগুলো বেশ সংকীর্ণ। তুষারধস বা ভূমিধসের কারণে নদীর গতিপথ আটকে গেলে প্রচুর পানি জমে যেতে পারে, পরে সেখান থেকে প্রবল ঢলের সৃষ্টি হতে পারে। আইসিআইএমওডির জলবায়ু ও পরিবেশগত ঝুঁকি বিভাগের প্রধান চিয়াংগং ঝাং জানান, উজানে নদীর গতিপথ এখনো আটকে রয়েছে, যার কারণে আবারও প্রবল ঢল দেখা দিতে পারে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: নেপালের তিব্বত সীমান্তবর্তী অঞ্চল
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: শিশির খানাল (নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৬২ জন নিহত, এক হাজার ৫০০-এর বেশি নিখোঁজ, ৪ দশমিক ৪ মাত্রার ভূমিকম্প
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!