📌 জার্মানির বিজ্ঞান পত্রিকা থেকে ২০১১ সালে অপসারিত ম্যাক্স প্ল্যাঙ্কের দুটি প্রবন্ধের রহস্য উদ্ঘাটন করেছেন কানাডার দুই ইতিহাসবিদ। প্রবন্ধ দুটি ছিল সাধারণ বিজ্ঞান ও দর্শন বিষয়ক, যার পুনর্মুদ্রণ ছিল তৎকালীন প্রচলিত প্রথা। স্প্রিঙ্গার নেচারের দাবি প্রত্যাহার সিদ্ধান্ত ছিল মানবিক ভুলের ফলাফল
১৫ বছরের নীরবতা ভেঙে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে জার্মানির বিখ্যাত বিজ্ঞানী ম্যাক্স প্ল্যাঙ্কের হারিয়ে যাওয়া দুটি প্রবন্ধের অপসারণ রহস্য। ২০১১ সালের ডিসেম্বরে জার্মানির একটি বিজ্ঞান পত্রিকার ওয়েবসাইট থেকে হঠাৎ করেই অপসারণ করা হয় প্রবন্ধ দুটি। সেখানে শুধুমাত্র একটি নোটিশ প্রদর্শিত হয়—‘কপিরাইট লঙ্ঘনের কারণে প্রত্যাহার’। অথচ প্রবন্ধ দুটি প্রকাশিত হয়েছিল ১৯৪০ ও ১৯৪২ সালে ‘নাচুরভিসেনশাফটেন’ নামক পত্রিকায়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ২০১১ সালের ডিসেম্বরে জার্মানির বিজ্ঞান পত্রিকা থেকে ম্যাক্স প্ল্যাঙ্কের দুটি প্রবন্ধ অপসারণ করা হয়
- 📌 প্রবন্ধ দুটি ছিল সাধারণ বিজ্ঞান ও দর্শন বিষয়ক, প্রকাশিত হয়েছিল ১৯৪০ ও ১৯৪২ সালে
- 📌 কানাডার দুই ইতিহাসবিদ ইভ জাঁগ্রা ও মাহদি খেলফাউই প্রবন্ধ দুটির পুনরুদ্ধার করেন
- 📌 স্প্রিঙ্গার নেচার কর্তৃপক্ষ দাবি করে অপসারণ সিদ্ধান্তটি ছিল মানবিক ভুলের ফলাফল
- 📌 প্রবন্ধ দুটি ছিল ম্যাক্স প্ল্যাঙ্কের দার্শনিক রচনা ‘সিন উন্ড গ্রেনৎসেন ডেয়ার এক্সাক্টেন ভিসেনশাফট’
📰 বিস্তারিত
ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক ছিলেন কোয়ান্টাম তত্ত্বের জনক এবং ১৯১৮ সালে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী। তিনি ১৯৩৩ সালে হিটলারের সামনে দাঁড়িয়ে ইহুদিবিরোধী আইনের বিরুদ্ধে সরাসরি প্রতিবাদ করেছিলেন। তাঁর মৃত্যুর পরেও তাঁর কাজ নিয়ে আলোচনা থেমে থাকেনি। তবে ২০১১ সালে হঠাৎ করেই তাঁর দুটি প্রবন্ধ অপসারণ করা হয় একটি জার্মান বিজ্ঞান পত্রিকা থেকে। প্রবন্ধ দুটি ছিল সাধারণ বিজ্ঞান ও দর্শন বিষয়ক। প্রথম প্রবন্ধটি ছিল আরেকজন বিজ্ঞানীর লেখার জবাব হিসেবে প্রকাশিত। দ্বিতীয় প্রবন্ধটি ছিল তাঁর নিজস্ব দার্শনিক রচনা ‘সিন উন্ড গ্রেনৎসেন ডেয়ার এক্সাক্টেন ভিসেনশাফট’, যার বাংলা অর্থ ‘সঠিক বিজ্ঞানের অর্থ ও তার সীমা’।
কানাডার ইতিহাসবিদ ইভ জাঁগ্রা প্রবন্ধ দুটির অপসারণের ঘটনা সম্পর্কে জানতে পারেন ২০২৪ সালে প্রকাশিত একটি তালিকা থেকে। সেই তালিকায় নোবেলজয়ীদের প্রবন্ধ অপসারণের ঘটনার উল্লেখ ছিল। জাঁগ্রা তাঁর সহকর্মী মাহদি খেলফাউইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং দুজনে মিলে গবেষণা শুরু করেন। তাঁদের অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রবন্ধ দুটি তৎকালীন প্রচলিত প্রথা অনুসারে একাধিক জায়গায় পুনর্মুদ্রিত হয়েছিল। এমনকি দুটি বইতেও সেগুলো অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। তখন ইন্টারনেট ছিল না বলে বিজ্ঞানজগৎ ছিল বিভক্ত। একেকটি পত্রিকা কেবল একেক দলের পাঠকের কাছে পৌঁছাত।
খেলফাউই জানান, বিজ্ঞানীরা চাইতেন তাঁদের কাজ যেন আরও বেশি পাঠকের কাছে পৌঁছায়। সেই সময়ে স্বকপিরাইট লঙ্ঘন ছিল স্বাভাবিক ঘটনা। এমনকি আলবার্ট আইনস্টাইনের ক্ষেত্রেও এমন ঘটনা ঘটেছিল বলে জানা যায়। তবে তাঁর নামে কোনো প্রবন্ধ অপসারণের অভিযোগ নেই। জাঁগ্রা ও খেলফাউই তাঁদের গবেষণাপত্রে স্প্রিঙ্গার নেচারের সিদ্ধান্তকে সেকেলে বলে উল্লেখ করেন। তাঁরা জানান, এই সিদ্ধান্ত ঐতিহাসিক রেকর্ডকে বিকৃত করছে।
"স্প্রিঙ্গার নেচারের এই সিদ্ধান্তটি ছিল মানবিক ভুলের ফলাফল। কোনো স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যার বা বট এর সঙ্গে জড়িত নয়।"
স্প্রিঙ্গার নেচারের মুখপাত্র জানান, প্রবন্ধ অপসারণের সিদ্ধান্তটি ছিল মানবিক ভুলের কারণে। তবে জাঁগ্রা পুরোপুরি সন্তুষ্ট হতে পারেননি। কারণ, একজন মৃত বিজ্ঞানীর প্রবন্ধ অপসারণের কারণ হিসেবে মানবিক ভুলকে বিশ্বাস করা কঠিন। প্রবন্ধ দুটি ছিল সাধারণ দার্শনিক রচনা, যার পুনর্মুদ্রণ ছিল তৎকালীন প্রচলিত প্রথা। আজও স্পষ্ট নয়, কে বা কী কারণে এই অপসারণ ঘটানো হয়েছিল।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: জার্মানি
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক, ইভ জাঁগ্রা, মাহদি খেলফাউই
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৫ বছর, ৬৪ বছর
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!