📌 ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জাকারবার্গের ২০০ বিলিয়ন ডলারের সম্পদের ৯৯% তিনি জীবদ্দশায় জনকল্যাণে খরচ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তার তিন মেয়ে এই সম্পদের উত্তরাধিকারী হবে না। ২০১৫ সাল থেকে এই পরিকল্পনা চালু রয়েছে
মেটা ইনকর্পোরেটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মার্ক জাকারবার্গের সম্পদের পরিমাণ ২০০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি ছাড়িয়ে গেছে। কিন্তু এই বিপুল সম্পদের অধিকাংশ তার তিন মেয়ে ম্যাক্সিমা, অগাস্ট ও অরেলিয়া উত্তরাধিকার হিসেবে পাবে না। জীবদ্দশায় তিনি ৯৯ শতাংশ সম্পদ জনকল্যাণমূলক কাজে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 মার্ক জাকারবার্গের সম্পদ ২০০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি, কিন্তু তার তিন মেয়ে উত্তরাধিকার হিসেবে পাবে না — ৯৯% জনকল্যাণে খরচের অঙ্গীকার
- 📌 ২০১৫ সালে প্রথম মেয়ে ম্যাক্সিমার জন্মের পর জাকারবার্গ ও স্ত্রী প্রিসিলা চ্যান চিঠিতে ঘোষণা দেন: "আমরা চাই, তুমি ভালো পৃথিবীতে বড় হও" — এরপর থেকে সম্পদের বড় অংশ জনকল্যাণে বিনিয়োগের পরিকল্পনা
- 📌 ২০১৫ সালে জাকারবার্গের সম্পদ ছিল ৪৫ বিলিয়ন ডলার, কিন্তু বর্তমানে তা ২০০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি
- 📌 চ্যান জাকারবার্গ ইনিশিয়েটিভ (সিজেডআই) প্রতিষ্ঠা করে শিক্ষা, চিকিৎসা, বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও এআই প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ করছে
- 📌 মেটায় জাকারবার্গের ১৩ শতাংশ শেয়ার রয়েছে — যা তাকে কোম্পানিতে নিয়ন্ত্রণ রাখতে সাহায্য করছে
- 📌 জাকারবার্গের এই সিদ্ধান্ত বিশ্বের শীর্ষ ধনী দাতাদের কাতারে তাকে নিয়ে আসছে — বিল গেটস, ওয়ারেন বাফেট ও মাইকেল ব্লুমবার্গের মতো ধনীরাও সম্পদের বড় অংশ জনকল্যাণে খরচ করেন
📰 বিস্তারিত
মার্ক জাকারবার্গ ও তার স্ত্রী প্রিসিলা চ্যানের তিন মেয়ে হলেন ম্যাক্সিমা, অগাস্ট ও অরেলিয়া। ২০১৫ সালের ১ ডিসেম্বর ম্যাক্সিমার জন্মের পর জাকারবার্গ ও প্রিসিলা চ্যান একটি খোলা চিঠি প্রকাশ করেন। চিঠিতে তারা লিখেছিলেন, “সব মা-বাবার মতো আমরাও চাই, তুমি আজকের চেয়ে ভালো পৃথিবীতে বড় হও। মানুষের সম্ভাবনার বিকাশ ও সমতা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আমরা নিজেদের সম্পদের বড় অংশ বিনিয়োগ করতে চাই।”
জাকারবার্গ ও চ্যানের বিশ্বাস, শিক্ষা, চিকিৎসা, বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও প্রযুক্তির উন্নয়নে বিনিয়োগ করা হলে ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য আরও বেশি সুযোগ তৈরি করা সম্ভব। এই লক্ষ্যে তারা প্রতিষ্ঠা করেছেন চ্যান জাকারবার্গ ইনিশিয়েটিভ (সিজেডআই)। এই প্রতিষ্ঠানটি দাতব্য কাজের পাশাপাশি ব্যবসায়িক বিনিয়োগ ও নীতিনির্ধারণেও অর্থায়ন করে। প্রতিষ্ঠার শুরুতে সিজেডআই আবাসন খরচ কমানো, ফৌজদারি বিচারব্যবস্থার সংস্কার, শিক্ষা ও চিকিৎসায় মনোনিবেশ করত। বর্তমানে এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে চিকিৎসাবিজ্ঞানের গবেষণা ও রোগ নিরাময়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
জাকারবার্গের এই সিদ্ধান্ত বিশ্বের শীর্ষ ধনী দাতাদের কাতারে তাকে নিয়ে আসছে। বিল গেটস, ওয়ারেন বাফেট ও মাইকেল ব্লুমবার্গের মতো ধনীরাও তাদের সম্পদের বড় অংশ জনকল্যাণমূলক কাজে খরচ করেন। জাকারবার্গের মতে, সম্পদ শুধু পরবর্তী প্রজন্মের হাতে কেন্দ্রীভূত না হয়ে বৃহত্তর সমাজের কাজে লাগাতে হবে। তিনি বলেন, “সমাজের বিনিয়োগ শুধু বর্তমান প্রজন্মের প্রয়োজন মেটানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। ভবিষ্যতে যারা আসবে, তাদের জীবনমান উন্নয়নেও বিনিয়োগ করতে হবে।”
"সব মা-বাবার মতো আমরাও চাই, তুমি আজকের চেয়ে ভালো পৃথিবীতে বড় হও। মানুষের সম্ভাবনার বিকাশ ও সমতা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আমরা নিজেদের সম্পদের বড় অংশ বিনিয়োগ করতে চাই।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: মার্ক জাকারবার্গের ব্যক্তিগত সম্পদ ও চ্যান জাকারবার্গ ইনিশিয়েটিভ (সিজেডআই)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মার্ক জাকারবার্গ, প্রিসিলা চ্যান, ম্যাক্সিমা, অগাস্ট, অরেলিয়া
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২০০ বিলিয়ন ডলার (সম্পদ), ৯৯% (জনকল্যাণে বিনিয়োগ), ৪৫ বিলিয়ন ডলার (২০১৫ সালে), ১৩% (মেটায় শেয়ার), ১৯ বছর (ফেসবুক চালু করার সময়)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!