📌 জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রনেতা জোবায়েদ হোসেনের হত্যা মামলায় ঢাকার ১৫তম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা আদালত বিচার শুরু করেছে। তিন আসামি কারাগারে থাকা অবস্থায় সাক্ষ্য গ্রহণের তারিখও নির্ধারণ করা হয়েছে ৯ ডিসেম্বর
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ছাত্রনেতা মো. জোবায়েদ হোসেনের হত্যা মামলায় ঢাকার ১৫তম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা আদালত রোববার (৮ নভেম্বর) দুপুরে বিচার শুরু করেছে। বিচারক মুহাম্মদ মাজহারুল ইসলাম আসামিদের অব্যাহতির আবেদন প্রত্যাখ্যান করে অভিযোগ গঠনের আদেশ দেন এবং আগামী ৯ ডিসেম্বর সাক্ষ্য গ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করেন। মামলায় জড়িত তিন আসামি বর্তমানে কারাগারে থাকা অবস্থায় আদালতে হাজির করা হয়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রনেতা জোবায়েদ হোসেনের হত্যা মামলায় বিচার শুরু হয় ঢাকার ১৫তম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা আদালতে
- 📌 আসামিরা হলেন: জোবায়েদের ছাত্রী বার্জিস শাবনাম বর্ষা, তার প্রেমিক মো. মাহির রহমান এবং মাহিরের বন্ধু ফারদীন আহম্মেদ আয়লান
- 📌 তিন আসামি সবাই আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন
- 📌 মামলায় সাক্ষ্য গ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ৯ ডিসেম্বর
- 📌 জোবায়েদ হত্যার পরিকল্পনা ও কার্যক্রমে বর্ষা ও মাহিরের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের প্রমাণ পাওয়া গেছে
📰 বিস্তারিত
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বংশাল থানার উপ-পরিদর্শক আশরাফ হোসেন গত ৩০ জুন চার্জশিট দাখিল করেন। চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়েছে, জোবায়েদ হোসেন (২৫) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের ছাত্র ছিলেন এবং জীবিকা নির্বাহের জন্য টিউশনি করতেন। তিনি দীর্ঘদিন বর্ষার বাসায় গৃহশিক্ষক হিসেবে পড়াতেন। সেই সম্পর্কে জন্মে বর্ষা ও জোবায়েদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা গড়ে ওঠে। তদন্তে জানা যায়, বর্ষার সঙ্গে আসামি মাহিরের দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। মাহির জোবায়েদের সঙ্গে বর্ষার সম্পর্কের বিষয়ে জানতে পেরে প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে ওঠেন।
স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি অনুযায়ী, জোবায়েদের কাছে মাহিরের আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও থাকার অভিযোগ তুলে তাকে হত্যা করতে মাহিরকে প্ররোচিত করে বর্ষা। মাহির তার বন্ধু আয়লানকে নিয়ে জোবায়েদকে হত্যার পরিকল্পনা করে। তারা একটি সুইচগিয়ার চাকু সংগ্রহ করে এবং ঘটনাস্থল ঘুরে রেকি করে। ঘটনার দিন বিকেল ৪টা ২৭ মিনিটে বর্ষা ও জোবায়েদের মধ্যে হোয়াটসঅ্যাপে লাইভ লোকেশন শেয়ার হয়। একই সময়ে বর্ষা ও মাহিরের মধ্যেও একাধিকবার যোগাযোগ হয়।
২০২৫ সালের ১৯ অক্টোবর বিকেল সাড়ে ৪টায় জোবায়েদ বংশাল থানার নূর বক্স লেনের ১৫ নম্বর হোল্ডিং ‘রৌশান ভিলা’য় পড়াতে যান। ওই দিনই সন্ধ্যা ৫টা ৪৮ মিনিটে বর্ষা মেসেঞ্জারে জোবায়েদের ছোট ভাই সৈকতকে জানান যে, ‘কে বা কারা জোবায়েদ স্যারকে খুন করে ফেলেছে’। রাত ৭টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র মো. কামরুল হাসান বিষয়টি জোবায়েদের ভাই এনায়েত হোসেনকে জানান। এনায়েত তার শ্যালক শরীফ মোহাম্মদকে সঙ্গে নিয়ে রাত সাড়ে আটটার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তারা ভবনটির সিঁড়ি ও দেয়ালে রক্তের দাগ দেখতে পেয়ে ওপরে উঠে ৩য় তলার সিঁড়িতে জোবায়েদের রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। ময়নাতদন্ত শেষে ২০ অক্টোবর জোবায়েদকে কুমিল্লার কৃষ্ণপুর গ্রামে দাফন করা হয়।
"জোবায়েদের কাছে নিজের আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও থাকার অভিযোগ তুলে তাকে হত্যা করতে মাহিরকে প্ররোচিত করে বর্ষা। মাহির তার বন্ধু আয়লানকে নিয়ে জোবায়েদকে হত্যার পরিকল্পনা করে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকার ১৫তম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা আদালত, বংশাল থানা, নূর বক্স লেন, রৌশান ভিলা (কুমিল্লা)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: জোবায়েদ হোসেন, বার্জিস শাবনাম বর্ষা, মো. মাহির রহমান, ফারদীন আহম্মেদ আয়লান, মুহাম্মদ মাজহারুল ইসলাম, আশরাফ হোসেন, ইশতিয়াক হোসেন জিপু
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৮ নভেম্বর, ৯ ডিসেম্বর, ৩০ জুন, ২৫ বছর, ৪টা ২৭ মিনিট, ৩ জন আসামি
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!