📌 ১৯৭৬ সালে মাও সে-তুংের মৃত্যু চীনের ইতিহাসের একটি মোড় ঘুরিয়ে দেয়। মার্কিন গবেষক অ্যান্ড্রু জি ওয়াল্ডারের বই ‘চায়না আন্ডার মাও’ বিশ্লেষণ করে দেখিয়েছেন কীভাবে মাওয়ের বিপ্লবী ব্যবস্থা চীনকে শক্তিশালী করেছিল, পরে কীভাবে তা দেশটিকে বিপর্যস্ত করে
১৯৭৬ সালের ৯ সেপ্টেম্বর মাও সে-তুংের মৃত্যু চীনের ইতিহাসের একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘোষণা করে। এই বিপ্লবী নেতা যে রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবর্তন আনে, তা বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ রাষ্ট্রকে একদিকে শক্তিশালী করে তোলে, অন্যদিকে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ, রাজনৈতিক নিপীড়ন ও সাংস্কৃতিক বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দেয়। মার্কিন রাজনৈতিক সমাজবিজ্ঞানী অ্যান্ড্রু জি ওয়াল্ডারের ২০১৫ সালের বই ‘চায়না আন্ডার মাও: আ রেভোল্যুশন ডিরেইলড’ এই দ্বৈত প্রভাবের গভীর বিশ্লেষণ করে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ১৯৭৬ সালের ৯ সেপ্টেম্বর মাও সে-তুংের মৃত্যু চীনের ইতিহাসের একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি চিহ্নিত করে, যেখানে বিপ্লবের সাফল্য ও ব্যর্থতার গল্প মিশে যায়
- 📌 মার্কিন গবেষক অ্যান্ড্রু জি ওয়াল্ডারের ৪০০ পৃষ্ঠার বই ‘চায়না আন্ডার মাও’ বিশ্লেষণ করে দেখিয়েছেন কীভাবে মাওয়ের প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কাঠামোই পরে তার ব্যর্থতার কারণ হয়ে দাঁড়ায়
- 📌 ১৯৪৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর মাও সে-তুং ভূমি সংস্কার, শিল্পের জাতীয়করণ ও পরিকল্পিত অর্থনীতি প্রতিষ্ঠা করে চীনকে দ্রুত পরিবর্তিত করেন, কিন্তু ‘গ্রেট লিপ ফরোয়ার্ড’ কর্মসূচির ফলে ১৯৫৮-৫৯ সালে ১৬ লাখেরও বেশি মানুষ মারা যায়
- 📌 মাওয়ের ‘শত ফুল ফুটুক’ নীতি থেকে শুরু করে ‘গ্রেট লিপ ফরোয়ার্ড’ পর্যন্ত কর্মসূচি সোভিয়েত মডেল থেকে বিচ্যুত হয়ে চীনের জন্য নতুন সমাজতান্ত্রিক পথের অনুসন্ধানে পরিণত হয়
- 📌 ওয়াল্ডার দেখিয়েছেন কীভাবে মাওয়ের কেন্দ্রীভূত নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম হলেও ভুল সিদ্ধান্ত সংশোধনের পথ ক্রমশ সংকুচিত হয়ে যায়
📰 বিস্তারিত
১৯৪৯ সালে চীনা কমিউনিস্ট পার্টি ক্ষমতায় আসার পর মাও সে-তুং একটি নতুন রাজনৈতিক কাঠামো গড়ে তোলেন। যুদ্ধবিধ্বস্ত অর্থনীতি, দারিদ্র্যসীমার নিচে থাকা জনগণ ও দুর্বল রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে সামনে রেখে তিনি ভূমি সংস্কার, শিল্পের জাতীয়করণ ও পরিকল্পিত অর্থনীতি প্রতিষ্ঠা করেন। মার্কিন গবেষক অ্যান্ড্রু জি ওয়াল্ডারের মতে, এই ব্যবস্থাগুলি চীনের দ্রুত পরিবর্তনের পথ তৈরি করে। কিন্তু একই সময়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত হওয়ায় ভুল সিদ্ধান্তের সংশোধন করা ক্রমশ কঠিন হয়ে পড়ে।
১৯৫৬ সালে মাও ‘শত ফুল ফুটুক’ নীতির মাধ্যমে বুদ্ধিজীবীদের উদারতা প্রদর্শন করেন। কিন্তু যখন সমালোচনা প্রত্যাশার চেয়ে বেশি তীব্র হয়ে ওঠে, তখন তিনি ডানপন্থাবিরোধী অভিযান শুরু করেন। এই পর্বে মাও রাজনৈতিক চিন্তার দিকে ফিরে যান, যেখানে শ্রেণিসংগ্রামকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এরপর আসে ‘গ্রেট লিপ ফরোয়ার্ড’ কর্মসূচি, যা ১৯৫৮ সালে শুরু হয়। লক্ষ্য ছিল খুব অল্প সময়ে কৃষিনির্ভর চীনকে শিল্পোন্নত দেশে পরিণত করা। কিন্তু এই কর্মসূচির ফলে ১৯৫৮-৫৯ সালে চীনে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়, যেখানে ১৬ লাখেরও বেশি মানুষ মারা যায়।
ওয়াল্ডারের বিশ্লেষণে দেখা যায়, মাও সে-তুং সোভিয়েত ইউনিয়নের আমলাতান্ত্রিক সমাজতন্ত্রের পথ থেকে বিচ্যুত হয়ে চীনের জন্য একটি নিজস্ব পথ খোঁজার চেষ্টা করেন। কিন্তু এই পথের অনুসরণে তিনি চীনকে বিপর্যস্ত করে ফেলেন। মাওয়ের মৃত্যুর পর চীন যে পথে যাবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠে—তিনি কি আধুনিক চীনের নির্মাতা ছিলেন, নাকি বিপ্লবের নায়ক যিনি নিজের গড়ে তোলা ব্যবস্থাই ধ্বংস করে ফেলেন?
"মাওয়ের প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলো তাঁর বড় সাফল্যের ভিত্তি তৈরি করেছিল, কিন্তু পরে সেগুলোই তাঁর বড় ব্যর্থতার পথ তৈরি করে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: চীন (স্পষ্টতই চীনের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মাও সে-তুং, অ্যান্ড্রু জি ওয়াল্ডার
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৯ সেপ্টেম্বর (মাওয়ের মৃত্যুর তারিখ), ৪০০ পৃষ্ঠা (বইয়ের দৈর্ঘ্য), ১৬ লাখ (দুর্ভিক্ষে মারা যাওয়া মানুষ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!