📌 পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলায় তেঁতুলিয়া নদীর তীব্র স্রোতে হাজিরহাট এলাকায় বেড়িবাঁধ ও সড়ক ধ্বংস হয়ে গেছে। অর্ধশতাধিক বাড়ি, কবরস্থান ও বাজারের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ঝুঁকিতে পড়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছেন
পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলায় তেঁতুলিয়া নদীর তীব্র স্রোতে হাজিরহাট এলাকায় ভয়াবহ নদীভাঙন ঘটেছে। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টার দিকে নদীর তীব্র স্রোতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের দেওয়া জিওব্যাগ ও পাকা সড়কের অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এতে অর্ধশতাধিক বসতঘর, কবরস্থান ও বাজারের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলায় তেঁতুলিয়া নদীর তীব্র স্রোতে হাজিরহাট এলাকায় বেড়িবাঁধ ও সড়ক ধ্বংস হয়ে গেছে
- 📌 নদীর তীর রক্ষায় পাউবোর শতাধিক জিওব্যাগ ও পাকা সড়কের পিচ নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে
- 📌 ভাঙনের মুখে ২০টি কবর ও ৫০টি বাড়ি ঝুঁকিতে পড়েছে, স্থানীয়রা আশ্রয় নিচ্ছেন
- 📌 স্থানীয় বাসিন্দা নিজামুদ্দিন বলেন, ‘আমাদের ঘরবাড়ি ও কবরস্থান নদীতে বিলীন হতে পারে’
- 📌 দশমিনা ইউএনও মো. মাহমুদ হাসান মৃধা বলেছেন, ‘দ্রুত সরঞ্জাম নিয়ে কাজ শুরু করতে হবে’
- 📌 গাইবান্ধা-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ মো. মনোয়ার হোসেন চৌধুরী (৮০) মারা যান
📰 বিস্তারিত
মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে তেঁতুলিয়া নদীর তীব্র স্রোতে হাজিরহাট এলাকায় ভয়াবহ নদীভাঙন ঘটে। হাজিরহাট জামে মসজিদের পশ্চিম-উত্তর পাশে সড়কের একটি অংশ এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের দেওয়া শতাধিক জিওব্যাগ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এতে অর্ধশতাধিক বসতঘর ও কবরস্থান ঝুঁকির মুখে পড়েছে। দশমিনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাহমুদ হাসান মৃধা ও দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
সরেজমিন দেখা যায়, হাজিরহাট লঞ্চঘাটের পশ্চিম-উত্তর পাশে নদীর তীর রক্ষায় পাউবোর ফেলা শতাধিক জিওব্যাগ তীব্র স্রোতের টানে ধসে নদীতে তলিয়ে গেছে। একই সঙ্গে সংলগ্ন পাকা সড়কের পিচ ও মাটি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এতে সড়কের সঙ্গে নদীর সংযোগস্থলে বড় ধরনের ভাঙন সৃষ্টি হয়েছে। ভাঙনের মুখে থাকা কয়েকটি বসতঘরের বাসিন্দাদের উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
ভাঙনকবলিত এলাকায় থানা-পুলিশ, নৌ পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের রাখা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা নিজামুদ্দিন বলেন, ‘আজ রাতের মধ্যে আমাদের ঘরবাড়ি নদীতে বিলীন হয়ে যেতে পারে। আমার বাবা খলিল মিয়া গত বছর মারা গেছেন। আমাদের পারিবারিক কবরস্থানও ঝুঁকিতে রয়েছে। সন্ধ্যার তীব্র ভাঙনে প্রায় ২০টি কবর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।’ তিনি দাবি জানান, দ্রুত নদীভাঙন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে হাজিরহাট জামে মসজিদ, বাজারের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ও আশপাশের বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে।
"আজ রাতের মধ্যে আমাদের ঘরবাড়ি নদীতে বিলীন হয়ে যেতে পারে। আমার বাবা খলিল মিয়া গত বছর মারা গেছেন। আমাদের পারিবারিক কবরস্থানও ঝুঁকিতে রয়েছে। সন্ধ্যার তীব্র ভাঙনে প্রায় ২০টি কবর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।"
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, গত ২০-২৫ বছর ধরে তেঁতুলিয়া নদীর ভাঙনে হাজিরহাট এলাকার হাজার একর ফসলি জমি ও বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর নদীর তীব্র স্রোতে পাউবোর নির্মাণাধীন বেড়িবাঁধের একটি অংশ ভেঙে যায়। দ্রুত ভাঙন ঠেকানো না হলে বাঁধের বাকি অংশও ভেঙে অর্ধশতাধিক বসতঘর ও কবরস্থান নদীগর্ভে বিলীন হতে পারে।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে দশমিনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাহমুদ হাসান মৃধা বলেন, ‘স্থানীয়দের মাধ্যমে সংবাদ পেয়ে আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসি। নদীর তীব্র স্রোতে রাতের মধ্যেই সড়কের বাকি সংযোগটুকুও ভেঙে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে। বিষয়টি পটুয়াখালী পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম নিয়ে কাজ শুরু করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছি।’
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: হাজিরহাট, দশমিনা উপজেলা, পটুয়াখালী
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ইউএনও মো. মাহমুদ হাসান মৃধা, ওসি আতিকুল ইসলাম, নিজামুদ্দিন, খলিল মিয়া
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২০টি কবর, ৫০টি বাড়ি, ৮০ বছর বয়সী আলহাজ মো. মনোয়ার হোসেন চৌধুরী
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!