📌 মণিপুরে গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে পাঁচজন কুকি সদস্যের মৃত্যু ঘটে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ননে জেলায় গোলাগুলিতে তিনজন নিহত হয়েছেন এবং অন্য দুইজন নিখোঁজ ব্যক্তির মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। কুকি উপজাতি সংগঠন নাগা গোষ্ঠীকে দায়ী করেছে।
মণিপুরে গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের নতুন রক্তক্ষয়ী ঘটনায় পাঁচজন কুকি উপজাতির সদস্যের মৃত্যু ঘটেছে। ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় এই রাজ্যে গত শনিবার ননে জেলায় অজ্ঞাতপরিচয় সশস্ত্র ব্যক্তিদের গুলিতে তিনজন কুকি পুরুষ নিহত হন। পুলিশের বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, এই ঘটনার পরপরই চলতি সপ্তাহের শুরুতে নিখোঁজ হয়ে যাওয়া অন্য দুইজন কুকি সদস্যের মৃতদেহ গত রোববার সকালে কাংপোকপি জেলা থেকে উদ্ধার করা হয়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 মণিপুরে গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে ৫ কুকি সদস্যের মৃত্যু: তিনজন গুলিতে নিহত, দুইজন মৃতদেহ উদ্ধার
- 📌 কুকি উপজাতি সংগঠন নাগা বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীকে দায়ী করেছে, বলেছে "মাতৃভূমিতে সরাসরি আক্রমণ"
- 📌 রাজ্য পুলিশের তদন্ত চলছে, রাজধানী ইম্ফল ও অন্যান্য এলাকায় প্রতিবাদ চলছিল সেই সময়
- 📌 মণিপুরে গত ২০২৩ সাল থেকে ৩০০ জনেরও বেশি মানুষ মারা গেছেন গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে
- 📌 ৬০ হাজারাধিক বাস্তুচ্যুত মানুষ এখনো অস্থায়ী ত্রাণ শিবিরে বসবাস করছেন
📰 বিস্তারিত
মণিপুরের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যে গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের নতুন রক্তক্ষয়ী ঘটনায় পাঁচজন কুকি সদস্যের মৃত্যু ঘটেছে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত শনিবার ননে জেলায় অজ্ঞাতপরিচয় সশস্ত্র ব্যক্তিদের গুলিতে তিনজন কুকি পুরুষ নিহত হন। পুলিশের আরেকটি বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, চলতি সপ্তাহের শুরুতে নিখোঁজ হয়ে যাওয়া অন্য দুইজন কুকি সদস্যের মৃতদেহ গত রোববার সকালে কাংপোকপি জেলা থেকে উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় কুকি উপজাতি সংগঠন নাগা বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীকে দায়ী করেছে এবং বলেছে, "এটি আমাদের মাতৃভূমিতে সরাসরি প্ররোচনাহীন আক্রমণ"।
এই ঘটনার সময়ই রাজধানী ইম্ফল এবং রাজ্যের অন্যান্য এলাকায় কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে কুকি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাতিলের দাবিতে শত শত মানুষের উপস্থিতিতে বিশাল প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হচ্ছিল। এই সংঘর্ষের ইতিহাসে মণিপুরে খ্রিষ্টান সংখ্যাগরিষ্ঠ কুকি এবং নাগা উপজাতিদের মধ্যে দীর্ঘকালের বিরোধ রয়েছে। গত ফেব্রুয়ারিতে কুকি সম্প্রদায়ের কিছু পুরুষ এক নাগা পুরুষকে মারধর করে বলে অভিযোগ ওঠে, যার পর থেকে নতুন করে রক্তক্ষয়ী সংঘাত শুরু হয়। গত মে মাসে নাগা সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর হাতে তিন কুকি যাজক নিহত হলে দুই পক্ষের মধ্যে প্রতিশোধমূলক অপহরণ ও হত্যাকাণ্ড শুরু হয়।
মণিপুরে গত ২০২৩ সালের মে মাস থেকে অর্থনৈতিক সুবিধা ও চাকরির কোটা নিয়ে কুকি সম্প্রদায় হিন্দু মেইতেই সম্প্রদায়ের সঙ্গেও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েছে। এই দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতে এ পর্যন্ত ৩০০ জনেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। গৃহহীন ৬০ হাজারাধিক বাস্তুচ্যুত মানুষ এখনো অস্থায়ী ত্রাণ শিবিরে বসবাস করছেন। রাজ্যে রক্তপাত বন্ধে ব্যর্থতার কারণে মুখ্যমন্ত্রী বীরেন সিং পদত্যাগ করেছিলেন। মুখ্যমন্ত্রী না থাকায় ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে এক বছরের জন্য রাজ্য সরাসরি কেন্দ্রীয় শাসনের অধীনে ছিল। তবে চলতি বছরের শুরুতে রাষ্ট্রপতি শাসন তুলে নেওয়া হয় এবং ইউনম খেমচান্দ সিং নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
"এটি আমাদের মাতৃভূমিতে সরাসরি প্ররোচনাহীন আক্রমণ। নাগা বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলোকে দায়ী করছি"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: মণিপুর, ভারত
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: কুকি উপজাতি সদস্য, মুখ্যমন্ত্রী বীরেন সিং, ইউনম খেমচান্দ সিং
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫ জন মৃত্যু, ৩০০ জনেরও বেশি মৃত্যু (গত ২০২৩ সাল থেকে), ৬০ হাজারাধিক বাস্তুচ্যুত
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!