📌 ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ৮০ বছর বয়সী বামপন্থী নেতা লুলা দা সিলভা তার প্রতিদ্বন্দ্বী ফ্লাভিও বলসোনারোকে পরাজিত করে চতুর্থবারের মতো ক্ষমতায় আসার পথ খুলেছেন। ৫১.৭৫ শতাংশ ভোট পেয়ে তিনি ইতিহাস রচন করেছেন
ব্রাজিলের নির্বাচনে বামপন্থী নেতা লুলা দা সিলভা নাটকীয়ভাবে জয়ের পথ খুলেছেন। রোববার (২৫ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত রান-অফ নির্বাচনে তিনি তার প্রতিদ্বন্দ্বী ফ্লাভিও বলসোনারোকে পরাজিত করে ঐতিহাসিকভাবে চতুর্থবারের মতো ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। প্রেসিডেন্ট পদে আসার জন্য লুলার পক্ষে ৫১.৭৫ শতাংশ ভোট পড়ার পর সাও পাওলোর রাস্তায় আনন্দের বন্যা বয়ে যায়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৮০ বছর বয়সী লুলা দা সিলভা ৫১.৭৫ শতাংশ ভোট পেয়ে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন, প্রতিদ্বন্দ্বী ফ্লাভিও বলসোনারো পান ৪৮.২৫ শতাংশ ভোট
- 📌 প্রথম দফায় পরাজিত হওয়া সত্ত্বেও মাত্র তিন সপ্তাহের মধ্যে লুলা তার সমর্থকদের ভোটকেন্দ্রে নিয়ে আসার মাধ্যমে জয়ের পথ খুলেন
- 📌 নির্বাচনের পর লুলার প্রধান মিত্র রেজিনাল্ডো লোপেস দ্য গার্ডিয়ানকে বলেন, ‘ব্রাজিল বিশ্বকে জানিয়ে দিল যে কট্টর ডানপন্থীরা হলো ফ্যাসিবাদী’
- 📌 রিও ডি জেনিরোর কোপাকাবানা সৈকতে ১০ লাখেরও বেশি লুলার সমর্থক জড়ো হয়, সাও পাওলোর পাওলিস্তা অ্যাভিনিউতে আরো বেশি মানুষ মিছিল করেন
- 📌 লুলা ২০০৩-২০১০ এবং ২০২৩ থেকে বর্তমান পর্যন্ত দুই মেয়াদে প্রেসিডেন্ট ছিলেন, এবার তার নতুন মেয়াদ শুরু হবে ৫ জানুয়ারি ২০২৭
📰 বিস্তারিত
ব্রাজিলের নির্বাচনে লুলা দা সিলভা ২০০৩ সাল থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত দুই মেয়াদে এবং ২০২৩ সাল থেকে বর্তমান পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট ছিলেন। তবে প্রথম দফায় ৪ অক্টোবর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তিনি তার প্রতিদ্বন্দ্বী ফ্লাভিও বলসোনারোকে পরাজিত হন। প্রথম দফায় ভোট না দেওয়ার হার ছিল রেকর্ড ২১.০৮ শতাংশ, যা লুলার সমর্থকদের ক্ষতিগ্রস্ত করে। তবে দ্বিতীয় দফায় এই হার কমে ১৯.২১ শতাংশে নেমে আসে। লুলা তার সমর্থকদের ভোটকেন্দ্রে নিয়ে আসার মাধ্যমে এই জয় অর্জন করেন।
লুলা তার নির্বাচনী প্রচারে নতুন প্রাণ সঞ্চার করেন। রাজপথে বিক্ষোভ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারের মাধ্যমে তিনি সমর্থকদের জাগিয়ে তোলেন। শনিবার (২৫ অক্টোবর) তার সমর্থকরা দুটি বিশাল শোডাউন করেন। রিও ডি জেনিরোর কোপাকাবানা সৈকতে ১০ লাখেরও বেশি মানুষ জড়ো হয়েছিলেন। এর চেয়েও বেশি মানুষ সাও পাওলোর প্রাণকেন্দ্র পাওলিস্তা অ্যাভিনিউতে মিছিল করেন।
লুলা ১৯৮৯ সাল থেকে ব্রাজিলের বামপন্থী রাজনীতির প্রধান মুখ হয়ে আছেন। তিনি গ্রামের এক দরিদ্র পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন এবং পেশাগত জীবনে ধাতু শ্রমিক হিসেবে কাজ করেছেন। ২০০২ সালে তিনি ব্রাজিলের প্রথম শ্রমিক শ্রেণি থেকে উঠে আসা প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। লুলার এই জয় বলসোনারোর জন্য একটি দুঃসংবাদ। তিনি এখন ২৭ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন এবং আশা করেছিলেন যে ছেলে জিতলে তিনি মুক্তি পাবেন এবং সরকারে কোনো পদ পাবেন।
"আমার কাছে অবিশ্বাস্য লাগছে। এর মাধ্যমে ব্রাজিল বিশ্বকে জানিয়ে দিল যে কট্টর ডানপন্থীরা হলো ফ্যাসিবাদী। তারা কৃষ্ণাঙ্গদের বিরুদ্ধে, গরিবদের বিরুদ্ধে, রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে এবং সমকামীদের বিরুদ্ধে। আমরা এই দেশের গণতান্ত্রিক শক্তিগুলোকে নতুন করে স্বীকৃতি দিতে যাচ্ছি।"
লুলার জয় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্যও একটি বড় ধাক্কা। কারণ ট্রাম্প বলসোনারো পরিবারের মিত্র। তিনি আশা করেছিলেন, লাতিন আমেরিকায় তার সমর্থক নেতাদের তালিকায় বলসোনারোও যুক্ত হবেন। তবে লুলার জয়ের ফলে এই আশা ভেঙ্গে পড়ে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ব্রাজিল (সাও পাওলো, রিও ডি জেনিরো)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: লুলা দা সিলভা, ফ্লাভিও বলসোনারো, রেজিনাল্ডো লোপেস
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫১.৭৫%, ৪৮.২৫%, ৮০ বছর, ২৭ বছর কারাদণ্ড, ১০ লাখ
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!